সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম জানলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার মাটি কোন ফসলের জন্য উপযোগী। সঠিকভাবে মাটির নমুনা পরীক্ষা করে পিএইচ রিপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
এই পোস্টে আপনি মাটির নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে ল্যাবে পিএইচ পরীক্ষা, রিপোর্ট বোঝার উপায় এবং মাটির পিএইচ কম-বেশি হলে কী করবেন সবকিছু সহজ ভাষায় জানতে পারবেন।পোস্ট সূচিপত্রঃ সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
- সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
- সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপা কেন জরুরি?
- মাটির পিএইচ লেভেল কী এবং এটি কী বোঝায়?
- মাটির পিএইচ কত হলে ভালো?
- সয়েল টেস্টের জন্য মাটির নমুনা সংগ্রহের সঠিক নিয়ম
- ল্যাবে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার আগে যা জানতে হবে
- পিএইচ মিটার দিয়ে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার পদ্ধতি
- মাটির পিএইচ টেস্টের রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন?
- মাটির পিএইচ বেশি হলে কী করবেন?
- মাটির পিএইচ কম হলে কী করবেন?
- মাটির পিএইচ অনুযায়ী সার ব্যবহারের নিয়ম
- বিভিন্ন ফসলের জন্য উপযুক্ত মাটির পিএইচ
- মাটির পিএইচ পরীক্ষা করতে কত খরচ হতে পারে?
- কতদিন পর পর মাটির পিএইচ পরীক্ষা করা উচিত?
- মাটির পিএইচ পরীক্ষায় যেসব ভুল এড়ানো জরুরি
- সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করার সুবিধা
- শেষ কথাঃসয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার জন্য প্রথমে সংগ্রহ করা মাটির
নমুনা শুকিয়ে পরিষ্কার করে প্রয়োজন অনুযায়ী ছেঁকে নেওয়া হয়। এরপর
নির্দিষ্ট পরিমাণ মাটির সঙ্গে ডিস্টিলড বা ডিআয়োনাইজড পানি নির্দিষ্ট অনুপাতে
মিশিয়ে মাটির সাসপেনশন তৈরি করা হয়। তবে ল্যাবভেদে মাটি ও দ্রবণের অনুপাত এবং
পরীক্ষার পদ্ধতিতে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
এরপর pH মিটার সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট করে মাটির তৈরি সাসপেনশনে ইলেকট্রোড
ডুবিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর মিটারে যে রিডিং স্থিরভাবে দেখা
যায়, সেটিই মাটির পিএইচ মান হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। নির্ভুল ফলাফল পাওয়ার
জন্য পরীক্ষার আগে pH মিটার ঠিকভাবে ক্যালিব্রেট করা এবং ইলেকট্রোড পরিষ্কার
রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নির্দিষ্ট মানের বাফার দ্রবণ ব্যবহার করে pH মিটার
ক্যালিব্রেট করা হয়।
সাধারণভাবে pH ৭ হলে মাটি নিরপেক্ষ, ৭-এর কম হলে অম্লীয় এবং ৭-এর বেশি হলে
ক্ষারীয় হিসেবে ধরা হয়। তবে কোন ফসলের জন্য মাটি উপযোগী হবে, তা শুধু পিএইচের
ওপর নির্ভর করে না; মাটির অন্যান্য গুণাগুণ এবং সংশ্লিষ্ট ফসলের চাহিদাও
বিবেচনা করতে হয়। তাই কৃষিকাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শুধু পিএইচ নয়, ল্যাবের
পূর্ণ মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় সার বা মাটি সংশোধনের ব্যবস্থা
নেওয়া ভালো।
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপা কেন জরুরি?
মাটির পিএইচ লেভেল জানলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মাটি কতটা অম্লীয় বা
ক্ষারীয় এবং সেখানে কোন ধরনের ফসল ভালোভাবে চাষ করা যেতে পারে। মাটির পিএইচ
উপযুক্ত না হলে গাছ মাটিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ঠিকমতো গ্রহণ করতে
পারে না। এর ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং ফলনও কমে যেতে
পারে।
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করলে অনুমানের বদলে মাটির অম্লতা বা
ক্ষারত্ব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। এই পরীক্ষার ফলাফল দেখে মাটির
বর্তমান অবস্থা বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চুন, জৈব পদার্থ বা অন্যান্য মাটি
সংশোধনকারী উপাদান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। তবে কোন উপাদান কতটা
ব্যবহার করতে হবে, তা শুধু পিএইচের ওপর নির্ভর করে ঠিক করা উচিত নয়; মাটির
পূর্ণ পরীক্ষার রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট ফসলের চাহিদাও বিবেচনা করা দরকার।
বিশেষ করে নতুন জমিতে চাষ শুরু করার আগে জমিতে ফলন কমে গেলে বা মাটির গুণগত
অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিলে পিএইচ পরীক্ষা করা বেশ কাজে দেয়। মাটির পিএইচ
উপযুক্ত পর্যায়ে থাকলে গাছের পুষ্টি গ্রহণের পরিবেশ ভালো থাকে এবং জমির
উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সঠিকভাবে সার ও মাটি ব্যবস্থাপনার
সিদ্ধান্ত নিতে মাটির পিএইচ পরীক্ষা কৃষিকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মাটির পিএইচ লেভেল কী এবং এটি কী বোঝায়?
মাটির pH লেভেল হলো মাটি কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয়, তার একটি পরিমাপ। সহজভাবে
বললে, pH মানের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার জমির মাটি গাছের জন্য কেমন
পরিবেশ তৈরি করছে। pH স্কেলে সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত মান থাকে। pH ৭
নিরপেক্ষ, ৭-এর কম হলে মাটি অম্লীয় এবং ৭-এর বেশি হলে মাটি ক্ষারীয় হিসেবে
ধরা হয়।
মাটির pH শুধু মাটির অম্লতা বা ক্ষারত্বই বোঝায় না, এটি গাছের পুষ্টি গ্রহণের
ওপরও প্রভাব ফেলে। মাটির pH খুব কম বা খুব বেশি হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি
গাছ সহজে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে
এবং ফলনও কমে যেতে পারে। তাই ফসলের জন্য উপযুক্ত pH বজায় রাখা ভালো ফলনের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সব ফসলের জন্য একই pH উপযুক্ত নয়। কোনো ফসল তুলনামূলক অম্লীয় মাটিতে ভালো
জন্মায়, আবার কোনো ফসল নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় মাটি বেশি পছন্দ করে। তাই
জমিতে কোন ফসল চাষ করা হবে, তার পাশাপাশি মাটির pH পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করলে
সঠিক সার ও মাটি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
মাটির পিএইচ কত হলে ভালো?
মাটির পিএইচ কত হলে ভালো হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কোন ফসল চাষ করছেন
তার ওপর। তবে সাধারণভাবে pH ৬.০ থেকে ৭.০-এর মধ্যে থাকলে অনেক ধরনের ফসলের জন্য
মাটি উপযোগী হতে পারে। এই পরিসরে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদান
তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য থাকে, ফলে গাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে সুবিধা পায়।
মাটির পিএইচ ৬-এর নিচে নেমে গেলে মাটি বেশি অম্লীয় হতে পারে, আবার ৭-এর ওপরে
গেলে ক্ষারীয়তার মাত্রা বাড়তে থাকে। পিএইচ খুব কম বা খুব বেশি হলে কিছু
পুষ্টি গাছ সহজে গ্রহণ করতে পারে না। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং
ফলন কমে যেতে পারে। তাই সব ফসলের জন্য একই পিএইচকে আদর্শ না ধরে সংশ্লিষ্ট
ফসলের উপযুক্ত পিএইচ পরিসর বিবেচনা করা উচিত।
উদাহরণ হিসেবে, গম ও ভুট্টার মতো অনেক ফসল সামান্য অম্লীয় থেকে নিরপেক্ষ
মাটিতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। আবার আলু তুলনামূলক অম্লীয় মাটিতেও ভালো ফলন
দিতে পারে। তাই আপনার জমির পিএইচ রিপোর্ট পাওয়ার পর কোন ফসল চাষ করা উপযোগী
এবং মাটির কোনো সংশোধন প্রয়োজন কি না, তা ফসলের চাহিদা ও পূর্ণ মাটি পরীক্ষার
রিপোর্ট অনুযায়ী নির্ধারণ করাই ভালো।
সয়েল টেস্টের জন্য মাটির নমুনা সংগ্রহের সঠিক নিয়ম
সয়েল টেস্টের ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে মাটির নমুনা
সঠিকভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে কি না তার ওপর। তাই প্রথমে জমিকে মাটির ধরন, চাষের
অবস্থা ও ব্যবহারের পার্থক্য অনুযায়ী আলাদা অংশে ভাগ করা ভালো। এরপর পরিষ্কার
কোদাল, খুরপি বা সয়েল প্রোব ব্যবহার করে প্রতিটি অংশের বিভিন্ন স্থান থেকে
মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। একই ধরনের জমির একাধিক স্থান থেকে নেওয়া মাটি
একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ভালো নমুনা তৈরি করা যায়।
নমুনা নেওয়ার সময় জমির অস্বাভাবিক জায়গা, যেমন সার বা গোবরের স্তূপের
কাছাকাছি স্থান, জমে থাকা পানি, রাস্তার ধারের অংশ বা খুব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
এড়িয়ে চলুন। মাটির নমুনা কত গভীর থেকে নিতে হবে, তা ফসল ও পরীক্ষার
উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট গভীরতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট
সয়েল টেস্টিং ল্যাব বা কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করাই ভালো। বিভিন্ন
স্থান থেকে সংগ্রহ করা মাটি পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে পরীক্ষার জন্য
নমুনা তৈরি করা যায়।
সব মাটি ভালোভাবে মেশানোর পর ল্যাবের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিমাণ
মাটি পরিষ্কার নমুনার ব্যাগ বা পাত্রে রাখতে হবে। ব্যাগে জমির নাম, নমুনার
স্থান এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য লিখে দিলে পরে রিপোর্ট শনাক্ত করতে সুবিধা
হয়। মাটি খুব ভেজা থাকলে কীভাবে নমুনা প্রস্তুত করতে হবে, সে বিষয়েও ল্যাবের
নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। সঠিকভাবে নেওয়া মাটির নমুনা ব্যবহার করলে মাটির
pH, পুষ্টি উপাদান ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া
যায়।
ল্যাবে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার আগে যা জানতে হবে
ল্যাবে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিকভাবে
মাটির নমুনা প্রস্তুত করা। সাধারণত মাটির নমুনা বাতাসে শুকিয়ে পরিষ্কার করে
প্রয়োজন অনুযায়ী ছেঁকে নেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ মাটির সঙ্গে ডিস্টিলড
বা ডিআয়োনাইজড পানি মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করা হয়। তবে সব ল্যাবে মাটি ও
পানির অনুপাত একই নয় কোথাও ১ঃ১, আবার কোথাও ১ঃ২ অনুপাত ব্যবহার করা হতে পারে।
তাই যে ল্যাবে পরীক্ষা করবেন, তাদের নির্ধারিত পদ্ধতিই অনুসরণ করা সবচেয়ে ভালো।
এরপর মাটির পিএইচ মাপার জন্য pH মিটার সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট করতে হয়। সাধারণত
নির্দিষ্ট pH মানের বাফার দ্রবণ ব্যবহার করে মিটারটি ক্যালিব্রেট করা হয়।
পরীক্ষার সময় pH মিটারের ইলেকট্রোড পরিষ্কার রাখা জরুরি। এক নমুনা পরীক্ষা করার
পর পরবর্তী নমুনায় ব্যবহারের আগে ইলেকট্রোড ডিস্টিলড বা ডিআয়োনাইজড পানি দিয়ে
ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে এক নমুনার মাটি অন্য নমুনায় মিশে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং
ফলাফল আরও নির্ভরযোগ্য হয়।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার মাটি ও পানির অনুপাত, নমুনা কতক্ষণ মিশ্র অবস্থায়
থাকবে এবং পরীক্ষার পদ্ধতি এসবের কারণে পিএইচ রিডিংয়ে কিছুটা পার্থক্য হতে
পারে। তাই নিজের মতো করে অনুপাত বা পরীক্ষার সময় পরিবর্তন না করে ল্যাবের নিয়ম
মেনে পরীক্ষা করা উচিত। সঠিক নমুনা প্রস্তুতি, পরিষ্কার ইলেকট্রোড এবং ঠিকভাবে
ক্যালিব্রেট করা pH মিটার ব্যবহার করলে আপনি মাটির পিএইচ সম্পর্কে আরও
নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাবেন।
পিএইচ মিটার দিয়ে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করার পদ্ধতি
পিএইচ মিটার দিয়ে মাটির পিএইচ পরীক্ষা করা খুব কঠিন নয়, তবে সঠিক পদ্ধতি মেনে
পরীক্ষা করা জরুরি। প্রথমে প্রস্তুত করা মাটির নির্দিষ্ট পরিমাণ নমুনার সঙ্গে
ল্যাবের নির্ধারিত অনুপাতে ডিস্টিলড বা ডিআয়োনাইজড পানি মিশিয়ে মাটির
সাসপেনশন তৈরি করা হয়। মাটি ও পানির অনুপাত ল্যাবভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই
পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ল্যাবের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
এরপর pH মিটারকে বাফার দ্রবণ দিয়ে ক্যালিব্রেট করা হয়, যাতে মিটার সঠিক রিডিং
দিতে পারে। ক্যালিব্রেশনের পর ইলেকট্রোড পরিষ্কার করে মাটির সাসপেনশনে ডুবিয়ে
দিতে হয়। ইলেকট্রোডটি পাত্রের তলা বা পাশে না লাগিয়ে নমুনার মধ্যে রাখা উচিত।
প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনাটি হালকাভাবে নাড়িয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
রিডিং স্থির হলে মিটারে প্রদর্শিত মানটি মাটির পিএইচ হিসেবে নেওয়া হয়।
একটি নমুনা পরীক্ষা করার পর পরবর্তী নমুনায় ব্যবহারের আগে ইলেকট্রোড
ডিআয়োনাইজড বা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে আগের নমুনার মাটি
পরের নমুনায় মিশে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং পরীক্ষার ফলাফল আরও নির্ভরযোগ্য হয়।
এভাবে প্রতিটি নমুনা একই নিয়মে পরীক্ষা করলে মাটির পিএইচ সম্পর্কে সঠিক ধারণা
পাওয়া যায় এবং সেই অনুযায়ী মাটি ও ফসলের ব্যবস্থাপনা করা সহজ হয়।
মাটির পিএইচ টেস্টের রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন?
মাটির পিএইচ টেস্টের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রথমে pH মানটি দেখতে হবে।
সাধারণভাবে pH ৭ হলে মাটি নিরপেক্ষ, ৭-এর কম হলে অম্লীয় এবং ৭-এর বেশি হলে
ক্ষারীয় ধরা হয়। তবে শুধু pH ৭-এর কাছাকাছি হলেই যে সব ফসলের জন্য মাটি
উপযুক্ত হবে, এমন নয়। কোন ফসল চাষ করবেন, তার ওপর উপযুক্ত pH-এর পরিসর ভিন্ন
হতে পারে।
রিপোর্টে pH খুব কম বা খুব বেশি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ
মাটির pH গাছের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলে। pH উপযুক্ত
সীমার বাইরে চলে গেলে কিছু পুষ্টি গাছের জন্য কম সহজলভ্য হতে পারে, আবার কিছু
উপাদান অতিরিক্ত সহজলভ্য হয়ে সমস্যাও তৈরি করতে পারে। তাই রিপোর্টে শুধু pH
নয়, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জৈব পদার্থের মতো
অন্যান্য ফলাফলও দেখা ভালো।
রিপোর্টে চুন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বা মাটির অম্লতা সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া
থাকলে সেটিও খেয়াল করুন। শুধু pH মান দেখে কতটুকু চুন দিতে হবে তা ঠিক করা
উচিত নয়। মাটির ধরন, অম্লতার মাত্রা এবং ল্যাবের সুপারিশ বিবেচনা করে চুন বা
অন্য কোনো মাটি সংশোধনকারী উপাদান ব্যবহার করা ভালো। তাই রিপোর্টে দেওয়া
ফসলভিত্তিক সুপারিশ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
মাটির পিএইচ বেশি হলে কী করবেন?
মাটির pH বেশি হলে সাধারণত মাটি বেশি ক্ষারীয় হয়ে যায়। এমন অবস্থায় গাছের
জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান সহজে গ্রহণযোগ্য থাকে না, ফলে গাছের
বৃদ্ধি ও ফলন কমে যেতে পারে। তাই প্রথমে সয়েল টেস্ট করিয়ে মাটির pH এবং
অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অবস্থা জানা ভালো। রিপোর্ট অনুযায়ী মাটির ধরন, ফসলের
চাহিদা এবং pH কতটা বেশি এসব বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাটির pH কমানোর জন্য মাটির অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত মাটি সংশোধনকারী উপাদান
ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জৈব পদার্থ ব্যবহার করে মাটির গুণমান ও গঠন
উন্নত করা যায়। তবে নিজের ইচ্ছায় কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা ঠিক
নয়, কারণ এতে মাটির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই সয়েল টেস্টের রিপোর্ট ও কৃষি
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই মাটির pH ধীরে ধীরে
উপযুক্ত পর্যায়ে আনার ভালো উপায়।
মাটির পিএইচ কম হলে কী করবেন?
মাটির pH কম হলে সাধারণত মাটি বেশি অম্লীয় হয়ে যায়। এতে গাছের শিকড়ের
বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গাছ সহজে গ্রহণ
করতে পারে না। তাই প্রথমে সয়েল টেস্ট করিয়ে মাটির pH ও অন্যান্য পুষ্টি
উপাদানের অবস্থা জানা ভালো। শুধু pH-এর মান দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোন ফসল
চাষ করবেন এবং সেই ফসলের জন্য কতটা pH উপযুক্ত, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।
মাটির pH কম হলে অনেক ক্ষেত্রে কৃষি চুন বা উপযুক্ত চুনজাতীয় উপাদান ব্যবহার
করে অম্লতা কমানো যায়। তবে কতটুকু চুন প্রয়োগ করতে হবে, তা শুধু pH দেখে
নির্ধারণ করা ঠিক নয়। মাটির ধরন, অম্লতার মাত্রা, পুষ্টির অবস্থা এবং সয়েল
টেস্টের রিপোর্টে দেওয়া চুনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা উচিত। তাই
নিজের ইচ্ছায় বেশি চুন না দিয়ে ল্যাবের রিপোর্ট ও কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো।
মাটির পিএইচ অনুযায়ী সার ব্যবহারের নিয়ম
মাটির পিএইচ ঠিক থাকলে গাছ মাটিতে থাকা পুষ্টি উপাদান তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে
গ্রহণ করতে পারে। তাই শুধু জমির পিএইচ দেখে সার দেওয়া ঠিক নয়। আগে সয়েল
টেস্টের রিপোর্ট দেখে মাটিতে কোন পুষ্টি উপাদান কম বা বেশি আছে এবং কোন ফসল চাষ
করা হবে, তা বিবেচনা করে সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। এতে প্রয়োজন
অনুযায়ী সার ব্যবহার করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় সার খরচও কমানো সম্ভব।
মাটির পিএইচ খুব কম বা বেশি হলে আগে প্রয়োজন অনুযায়ী মাটির অম্লতা বা
ক্ষারত্বের সমস্যা ঠিক করার দিকে নজর দিতে হয়। অম্লীয় মাটিতে সয়েল টেস্টের
সুপারিশ অনুযায়ী চুন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু পিএইচ দেখে ইউরিয়া,
টিএসপি, এমওপি বা চুনের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করা উচিত নয়। মাটির পুষ্টির
অবস্থা, ফসলের চাহিদা এবং ল্যাবের সুপারিশ অনুযায়ী সার ব্যবহার করাই সবচেয়ে
ভালো।
বিভিন্ন ফসলের জন্য উপযুক্ত মাটির পিএইচ
| ফসল | সাধারণত উপযুক্ত পিএইচ |
|---|---|
| ধান | ৫.০-৬.৫ |
| গম | ৬.০-৭.০ |
| ভুট্টা | ৫.৮-৬.৮ |
| আলু | ৫.০-৬.৫ |
| টমেটো | ৬.০-৬.৮ |
| সরিষা | ৫.৫-৭.০ |
| ডালজাতীয় ফসল | ৬.০-৭.০ |
| শসা | ৬.০-৭.০ |
| মরিচ | ৫.৫-৭.০ |
| পেঁয়াজ | ৬.০-৬.৮ |
সহজভাবে বললে বেশিরভাগ ফসল সামান্য অম্লীয় থেকে নিরপেক্ষ মাটিতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। তবে আলুর মতো কিছু ফসল তুলনামূলক অম্লীয় মাটিতেও ভালো ফলন দিতে পারে। তাই আপনার জমির পিএইচ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সরাসরি সার বা চুন ব্যবহার না করে, চাষ করতে চাওয়া ফসলের উপযুক্ত পিএইচের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
মাটির পিএইচ পরীক্ষা করতে কত খরচ হতে পারে?
মাটির পিএইচ পরীক্ষা করতে কত খরচ হবে, তা কোন ল্যাবে পরীক্ষা করছেন এবং শুধু
পিএইচ পরীক্ষা করবেন নাকি সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও পরীক্ষা করবেন তার ওপর
নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে, বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল
মেজারমেন্টস এর প্রকাশিত ফি তালিকায় বর্তমানে মাটির pH পরীক্ষার মোট ফি ৯২০
টাকা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে টেস্ট ফি, ভ্যাট ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে কৃষির জন্য সাধারণ সয়েল টেস্টে শুধু pH নয়, নাইট্রোজেন, ফসফরাস,
পটাশিয়াম, জৈব পদার্থসহ আরও কিছু বিষয় পরীক্ষা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মোট
খরচ বেশি হবে এবং ল্যাবভেদে ফিও আলাদা হতে পারে। তাই পরীক্ষা করানোর আগে
সংশ্লিষ্ট ল্যাবের বর্তমান ফি এবং কোন কোন পরীক্ষা করা হবে তা জেনে নেওয়াই
ভালো। এতে আপনার জমির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয়
খরচও এড়ানো যাবে।
কতদিন পর পর মাটির পিএইচ পরীক্ষা করা উচিত?
সাধারণভাবে প্রতি ২-৩ বছর পরপর মাটির পিএইচ পরীক্ষা করা ভালো। তবে জমির মাটির
ধরন, চাষাবাদের পদ্ধতি এবং সার বা মাটি সংশোধনকারী উপাদান ব্যবহারের ওপর এই
সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। নিয়মিত মাটির পিএইচ পরীক্ষা করলে জমির অবস্থার
পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি ব্যবস্থাপনার
সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
তবে জমিতে পিএইচ খুব কম বা বেশি থাকলে, চুন বা অন্য কোনো মাটি সংশোধনকারী
উপাদান ব্যবহার করলে, অথবা গাছের বৃদ্ধি ও ফলনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে
নির্ধারিত সময়ের আগেই মাটি পরীক্ষা করা ভালো। বিশেষ করে পিএইচ ঠিক করার জন্য
কোনো উপাদান ব্যবহার করার পর পুনরায় পরীক্ষা করলে মাটির অবস্থার পরিবর্তন বোঝা
যায়। তাই আপনার জমির পরিস্থিতি অনুযায়ী সয়েল টেস্টিং ল্যাব বা কৃষি
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার সময় ঠিক করাই ভালো।
মাটির পিএইচ পরীক্ষায় যেসব ভুল এড়ানো জরুরি
মাটির পিএইচ পরীক্ষার ফলাফল সঠিক পেতে হলে মাটির নমুনা সংগ্রহ ও প্রস্তুতিতে
ভুল এড়ানো জরুরি। নমুনায় সার, গোবর, আবর্জনা বা অন্য কোনো মাটি মিশে গেলে
পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। আবার মাটি ও পানির অনুপাত ল্যাবের
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী না রাখলেও pH-এর মান কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই
নমুনা প্রস্তুত করার সময় ল্যাবের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো pH মিটার ঠিকভাবে ক্যালিব্রেট না করে পরীক্ষা করা।
পরীক্ষার আগে নির্ধারিত বাফার দ্রবণ দিয়ে মিটার ক্যালিব্রেট করতে হয় এবং
ইলেকট্রোড পরিষ্কার রাখতে হয়। এক নমুনা পরীক্ষা করার পর ইলেকট্রোড পরিষ্কার
পানি দিয়ে ধুয়ে পরের নমুনায় ব্যবহার করা উচিত। ইলেকট্রোডকে পাত্রের তলা বা
শক্ত মাটির সঙ্গে ঘষাঘষি করাও ঠিক নয়।
এছাড়া নমুনা তৈরি করার পর ল্যাবের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় রেখে
দেওয়া, দূষিত পানি ব্যবহার করা বা রিডিং স্থির হওয়ার আগেই ফলাফল লিখে নেওয়া
থেকেও ভুল হতে পারে। তাই প্রতিটি নমুনা একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে রিডিং স্থির
হওয়ার পর তা নথিভুক্ত করা ভালো। এসব বিষয় খেয়াল রাখলে মাটির পিএইচ পরীক্ষার
ফলাফল আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করার সুবিধা
সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করলে আপনার জমির পিএইচ, পুষ্টি উপাদান এবং
মাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। ফলে আন্দাজ করে সার
দেওয়ার বদলে মাটিতে কোন পুষ্টি উপাদান কম বা বেশি আছে, তা বুঝে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নিতে পারেন। এতে ফসলের জন্য উপযুক্ত সার ও মাটি ব্যবস্থাপনা ঠিক করা
সহজ হয়।
মাটি পরীক্ষা করার আরেকটি বড় সুবিধা হলো অপ্রয়োজনীয় সার খরচ কমানো। মাটিতে
কোনো পুষ্টি উপাদান যথেষ্ট থাকলে অতিরিক্ত সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। আবার
কোনো পুষ্টি উপাদান কম থাকলে পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী সেটি পূরণ করার
ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বাংলাদেশেও মাটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ফসলভেদে সুষম
সার ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
মাটির পিএইচ খুব কম বা বেশি হলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় মাটি সংশোধনের
ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নিয়মিত সয়েল টেস্ট করলে সময়ের সঙ্গে জমির পুষ্টি ও
মাটির অবস্থার পরিবর্তনও বোঝা সহজ হয়। তাই সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, অপ্রয়োজনীয়
খরচ কমানো এবং ভালো ফলন পেতে সহায়তার জন্য সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটি পরীক্ষা
করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শেষ কথাঃসয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার নিয়ম
তো এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, সয়েল টেস্টিং ল্যাবে মাটির পিএইচ লেভেল মাপার
নিয়ম জানা কেন জরুরি। শুধু চোখে দেখে বা হাতে ছুঁয়ে মাটির অবস্থা
পুরোপুরি বোঝা যায় না। তাই সঠিকভাবে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা
করানো ভালো। নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে
অনুসরণ করলে আরও নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া যায়।
আপনি যদি কৃষক হন বা নিজের জমি নিয়ে ভাবেন, তাহলে জমির অবস্থা ও চাষাবাদের ধরন
অনুযায়ী নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করা উচিত। এতে আগে থেকেই বোঝা যায় মাটিতে কোন
পুষ্টি উপাদান কম বা বেশি, কী ধরনের সার প্রয়োজন এবং মাটির কোনো সংশোধন দরকার
কি না। এই ছোট্ট উদ্যোগটি অপ্রয়োজনীয় সার খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং
ভালো ফলন পেতে সঠিক মাটি ব্যবস্থাপনা করতে সহায়তা করে।


অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url