অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো একদম সহজ। বেশি টাকা খরচ না করেও দেয়াল, বিছানা, পর্দা, লাইট, আয়না আর পুরোনো আসবাব একটু গুছিয়ে ঘরের পুরো চেহারাই বদলে দিতে পারেন।
ঘর ছোট হোক বা বড়, কম বাজেটে কীভাবে এটাকে সুন্দর, পরিপাটি ও আরামদায়ক করে সাজানো যায়, সেই সহজ কিছু আইডিয়া এই পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে। চাইলে নিজের হাতেও কিছু জিনিস তৈরি করে ঘরকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারবেন।পোস্ট সূচিপত্রঃ অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
- অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
- অল্প খরচে শোবার ঘর সাজানো কেন ভালো?
- ঘর সাজানোর আগে কী কী পরিকল্পনা করবেন?
- কম খরচে দেয়াল সুন্দর করার সহজ উপায়
- পুরোনো আসবাব নতুনভাবে সাজানোর কৌশল
- বিছানার জায়গা সুন্দর করে সাজানোর টিপস
- কম খরচে পর্দা ও জানালা সাজানোর উপায়
- সুন্দর লাইট দিয়ে ঘরের পরিবেশ বদলানোর উপায়
- কম খরচে আয়না দিয়ে ঘর সাজানোর কৌশল
- ঘরে গাছ রেখে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আনার উপায়
- কম খরচে বেডরুমের রঙ বাছাই করার টিপস
- ছোট শোবার ঘর বড় দেখানোর সহজ কৌশল
- অল্প খরচে ঘর পরিষ্কার ও গোছানো রাখার উপায়
- কোন জিনিসগুলো না কিনেও ঘর সুন্দর করা যায়?
- অল্প বাজেটে শোবার ঘর সাজানোর সম্পূর্ণ পরিকল্পনা
- শোবার ঘর সাজাতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- শেষ কথাঃঅল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো মানেই যে অনেক টাকা খরচ করতে হবে,
এমনটা নয়। আপনার ঘরে থাকা জিনিসগুলো একটু সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখলেই অনেকটা
পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দা, ছোট আয়না, লাইট কিংবা
কয়েকটি সাজানোর জিনিস ঠিক জায়গায় রাখলে সাধারণ ঘরও দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। নতুন
আসবাব কেনার বদলে পুরোনো জিনিস একটু পরিষ্কার করে বা জায়গা পরিবর্তন করে
ব্যবহার করলেও খরচ অনেকটাই কমানো যায়।
আপনি চাইলে খুব অল্প বাজেটেই ঘরের দেয়াল, বিছানা ও জানালার জায়গাটাকে নতুনভাবে
সাজাতে পারেন। দেয়ালে পছন্দের ছবি বা সহজ কোনো ডেকোরেশন রাখতে পারেন, জানালায়
পরিপাটি পর্দা দিতে পারেন এবং ঘরের এক কোণে ছোট একটি গাছ রাখতে পারেন। রাতে
সুন্দর পরিবেশের জন্য কম দামের একটি লাইট ব্যবহার করলেও ঘরের চেহারা বদলে যায়।
তবে ঘর সাজানোর সময় অপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিস একসঙ্গে রাখবেন না, এতে ঘর সুন্দর
হওয়ার বদলে আরও এলোমেলো দেখাতে পারে।
আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী ধীরে ধীরে ঘর সাজাবেন। একসঙ্গে সবকিছু কেনার প্রয়োজন
নেই। আগে যেগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেগুলো দিয়ে শুরু করুন এবং পরে সুযোগ
অনুযায়ী ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন। এতে আপনার খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আবার শোবার
ঘরটাও ধীরে ধীরে আরও সুন্দর, পরিপাটি ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
অল্প খরচে শোবার ঘর সাজানো কেন ভালো?
শোবার ঘর সুন্দর করতে সবসময় বেশি টাকা খরচ করার দরকার নেই। আপনার ঘরে থাকা
পুরোনো জিনিসগুলো একটু গুছিয়ে, প্রয়োজনমতো জায়গা পরিবর্তন করে এবং ছোট কিছু
নতুন জিনিস যোগ করেই ঘরের চেহারা অনেকটাই বদলে ফেলতে পারেন। এতে যেমন টাকা
বাঁচে, তেমনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ঘরটাকে সুন্দর করে সাজানোর সুযোগও থাকে।
কম খরচে ঘর সাজানোর আরেকটি ভালো দিক হলো, আপনি নিজের বাজেটের মধ্যে থেকেই ধীরে
ধীরে পরিবর্তন আনতে পারেন। নতুন আসবাব কেনার বদলে পুরোনো টেবিল, চেয়ার বা তাক
পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে পারেন। সুন্দর বিছানার চাদর, পর্দা, ছোট আয়না, গাছ
কিংবা হালকা লাইটের মতো সাধারণ জিনিস দিয়েও ঘরকে বেশ আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
পরিপাটি ও সুন্দর একটি শোবার ঘর আপনার নিজের কাছেই ভালো লাগবে। ঘরে ঢুকলেই যদি
সবকিছু পরিষ্কার ও গোছানো থাকে, তাহলে আরামও বেশি লাগে। তাই অযথা বেশি টাকা খরচ
না করে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সাজালে আপনার শোবার ঘর যেমন সুন্দর হবে, তেমনি আপনার
টাকাও সাশ্রয় হবে।
ঘর সাজানোর আগে কী কী পরিকল্পনা করবেন?
ঘর সাজানোর আগে একটু পরিকল্পনা করে নিলে অযথা টাকা খরচ করার সম্ভাবনা কমে যায়।
প্রথমে আপনার শোবার ঘরটা ভালো করে দেখে নিন কোন জিনিসগুলো প্রয়োজন, কোনগুলো
শুধু জায়গা দখল করে আছে এবং কোন পুরোনো জিনিস আবার ব্যবহার করা যাবে। সবকিছু
একসঙ্গে পরিবর্তন করার দরকার নেই। আগে যেগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেগুলো ঠিক
করে নিন।
এরপর আপনার বাজেট ঠিক করুন। আপনি কত টাকা খরচ করতে চান, সেটা আগে থেকেই ঠিক
থাকলে প্রয়োজনের বাইরে কিছু কেনার ঝুঁকি কম থাকে। যেমন, বিছানার চাদর বা পর্দা
বদলানো বেশি জরুরি হলে আগে সেগুলো করতে পারেন। পরে সুযোগ হলে আয়না, লাইট, গাছ
বা অন্যান্য ডেকোরেশনের জিনিস যোগ করতে পারেন। এতে অল্প খরচে ধীরে ধীরে ঘরটাকে
সুন্দর করে সাজানো সম্ভব হবে।
আরেকটি বিষয় হলো ঘরের জায়গার সঠিক ব্যবহার। শোবার ঘর ছোট হলে বড় বড় আসবাব বা
বেশি সাজানোর জিনিস রাখবেন না। বিছানা, আলমারি, টেবিলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো
এমনভাবে রাখুন, যাতে চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। আপনি আগে থেকেই ঘরের
মাপ, বাজেট ও প্রয়োজনীয় জিনিসের একটি ছোট তালিকা করে নিলে ঘর সাজানো অনেক সহজ
হবে এবং খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
কম খরচে দেয়াল সুন্দর করার সহজ উপায়
শোবার ঘরের দেয়াল সুন্দর করতে সবসময় দামি রং বা নতুন ওয়ালপেপার লাগানোর প্রয়োজন
নেই। দেয়ালটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে অপ্রয়োজনীয় দাগ বা ময়লা সরিয়ে ফেললেই ঘর
অনেকটা পরিপাটি দেখায়। এরপর আপনার বাজেট অনুযায়ী দেয়ালে পছন্দের একটি রং করতে
পারেন। পুরো দেয়াল নতুন করে রং করার সামর্থ্য না থাকলে শুধু একটি দেয়ালে অন্য
রং করেও ঘরে নতুন একটা লুক আনতে পারেন।
আপনি চাইলে কম খরচে দেয়াল সাজানোর জন্য কয়েকটি ছোট ছবি, নিজের পছন্দের ফ্রেম বা
সহজ কিছু ডেকোরেশন ব্যবহার করতে পারেন। পুরোনো ছবি বা ফ্রেম থাকলে সেগুলো ফেলে
না দিয়ে পরিষ্কার করে নতুনভাবে দেয়ালে সাজিয়ে দিন। আবার চাইলে কাগজ, কাপড় বা
পুরোনো কিছু জিনিস দিয়ে নিজের হাতেও ছোটখাটো ওয়াল ডেকোরেশন তৈরি করতে পারেন।
এতে খরচ কম হবে, আবার দেয়ালটাও দেখতে অন্যরকম লাগবে।
তবে দেয়ালে বেশি জিনিস একসঙ্গে লাগিয়ে ফেলবেন না। এতে ঘর সুন্দর হওয়ার বদলে
এলোমেলো দেখাতে পারে। আপনার দেয়ালের আকার ও ঘরের রঙের সঙ্গে মিল রেখে দুই-তিনটি
সুন্দর ডেকোরেশন বেছে নিন। একটু গুছিয়ে সাজালেই কম খরচে দেয়াল সুন্দর করার
পাশাপাশি পুরো শোবার ঘরেও নতুন একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন।
পুরোনো আসবাব নতুনভাবে সাজানোর কৌশল
আপনার শোবার ঘর সুন্দর করতে সবসময় নতুন আলমারি, টেবিল বা চেয়ার কেনার দরকার
নেই। আপনার ঘরে থাকা পুরোনো আসবাবগুলো একটু পরিষ্কার করে এবং প্রয়োজনমতো জায়গা
পরিবর্তন করলেই ঘরের চেহারায় বেশ ভালো পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রথমে দেখে নিন
কোন আসবাবগুলো আপনার সত্যিই দরকার আর কোনগুলো শুধু জায়গা দখল করে আছে। যেগুলো
ব্যবহার করছেন না, সেগুলো সরিয়ে রাখলে আপনার ঘর আরও খোলামেলা ও পরিপাটি দেখাবে।
আপনার পুরোনো টেবিল, চেয়ার বা ছোট তাকের অবস্থা ভালো থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করে
নতুনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কাঠের আসবাব হলে ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রয়োজন
অনুযায়ী হালকা রং বা পালিশ করতে পারেন। চাইলে পুরোনো টেবিলের হাতল, চেয়ারের
কুশন বা কোনো আসবাবের কভার পরিবর্তন করেও নতুন একটা লুক দিতে পারেন। এতে নতুন
আসবাব কেনার খরচও অনেকটা কমে যাবে।
আপনি চাইলে শুধু আসবাবের জায়গা পরিবর্তন করেও ঘরের চেহারা বদলে দিতে পারেন।
যেমন, ছোট টেবিলটি অন্য পাশে রাখা, তাকটি খালি দেয়ালের পাশে বসানো কিংবা
চেয়ারটি জানালার কাছে রাখলে ঘরটা নতুনভাবে সাজানো মনে হতে পারে। তবে আসবাব
এমনভাবে রাখবেন, যাতে ঘরে চলাফেরা করতে সমস্যা না হয়। এভাবে অল্প খরচেই আপনার
পুরোনো আসবাব কাজে লাগিয়ে শোবার ঘরকে আরও সুন্দর, গোছানো ও আরামদায়ক করে তুলতে
পারেন।
বিছানার জায়গা সুন্দর করে সাজানোর টিপস
আপনার শোবার ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো বিছানা। তাই ঘর সুন্দর করতে
চাইলে প্রথমে বিছানার জায়গাটাকে পরিপাটি করে সাজানোর দিকে নজর দিন। পরিষ্কার ও
সুন্দর বিছানার চাদর, মিলিয়ে বালিশের কভার এবং একটি গুছানো কম্বল ব্যবহার করলেই
বিছানার চেহারা অনেকটাই বদলে যায়। চাদর বা কভার কেনার সময় ঘরের দেয়াল ও পর্দার
রঙের সঙ্গে মিল আছে কি না, সেটাও দেখে নিতে পারেন।
আপনি বিছানার চারপাশে অপ্রয়োজনীয় জিনিস না রেখে জায়গাটা পরিষ্কার ও খোলামেলা
রাখুন। বিছানার পাশে ছোট একটি টেবিল থাকলে সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো
সুন্দরভাবে রাখতে পারেন। চাইলে টেবিলের ওপর ছোট একটি লাইট, ঘড়ি বা ছোট গাছ
রাখতে পারেন। তবে বেশি জিনিস রাখবেন না, এতে জায়গাটা এলোমেলো দেখাতে পারে।
আপনার বিছানার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে চলাফেরাও সহজ হবে এবং ঘরটাও বেশি
পরিপাটি লাগবে।
আপনি চাইলে বিছানার মাথার দিকের দেয়ালটাও সহজভাবে সাজাতে পারেন। সেখানে একটি
সুন্দর ছবি, ছোট ফ্রেম বা সাদামাটা ডেকোরেশন রাখতে পারেন। তবে দেয়ালে বা
বিছানার আশপাশে এমন কিছু ব্যবহার করবেন না, যা পড়ে গিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সবকিছু পরিষ্কার, নিরাপদ ও পরিমিতভাবে সাজালে অল্প খরচেই আপনার বিছানার জায়গাটা
সুন্দর, আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন।
কম খরচে পর্দা ও জানালা সাজানোর উপায়
আপনার শোবার ঘরের জানালা সুন্দরভাবে সাজাতে সবসময় দামি পর্দা কেনার দরকার নেই।
ঘরের রঙ ও বিছানার চাদরের সঙ্গে মানানসই সাধারণ একটি পর্দা ব্যবহার করলেই
জানালার জায়গাটা বেশ সুন্দর দেখাতে পারে। নতুন পর্দা কেনার বাজেট কম থাকলে
পুরোনো পর্দা ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করতে পারেন। এতে খরচও কম
হবে, আবার ঘরটাও পরিপাটি দেখাবে।
আপনি চাইলে জানালার পাশে ছোট একটি গাছ, ফুলের টব বা সাধারণ কোনো ডেকোরেশন রাখতে
পারেন। তবে জানালার সামনে বেশি জিনিস রাখবেন না, এতে আলো-বাতাস চলাচলে সমস্যা
হতে পারে এবং জায়গাটাও এলোমেলো দেখাবে। পর্দার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থও জানালার মাপ
অনুযায়ী বেছে নেওয়া ভালো। খুব ছোট বা অযথা বড় পর্দা ব্যবহার করলে জানালার
সৌন্দর্য কিছুটা কমে যেতে পারে।
কম খরচে আরও সুন্দর করতে চাইলে পর্দার রড, রিং বা বাঁধার ফিতার মতো ছোট
জিনিসগুলোও গুছিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আপনার পুরোনো পর্দার রড ভালো থাকলে নতুন
করে কেনার প্রয়োজন নেই। শুধু পর্দা পরিষ্কার করে সুন্দরভাবে ঝুলিয়ে দিলেও ঘরের
চেহারায় পরিবর্তন আসবে। এভাবে সামান্য খরচ ও একটু যত্নের মাধ্যমে আপনার শোবার
ঘরের জানালার জায়গাটাকে সুন্দর, পরিষ্কার ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
সুন্দর লাইট দিয়ে ঘরের পরিবেশ বদলানোর উপায়
আপনার শোবার ঘরের পরিবেশ সুন্দর করতে লাইট খুব ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য
সবসময় দামি লাইট কেনার দরকার নেই। সাধারণ একটি সুন্দর ডিজাইনের লাইট বা নরম আলো
দেয় এমন LED লাইট ব্যবহার করলেও ঘরের চেহারায় অনেকটা পরিবর্তন আসতে পারে। ঘরের
মূল আলো খুব বেশি উজ্জ্বল না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী আরেকটি হালকা আলো ব্যবহার
করলে রাতে ঘরটা আরও আরামদায়ক মনে হতে পারে।
আপনি চাইলে বিছানার পাশে ছোট টেবিল ল্যাম্প, দেয়ালের পাশে ছোট লাইট বা সাজানোর
জন্য স্ট্রিং লাইট ব্যবহার করতে পারেন। তবে লাইট কোথায় রাখছেন, সেটাও
গুরুত্বপূর্ণ। বিছানার একদম চোখের সামনে তীব্র আলো না দিয়ে এমন জায়গায় রাখুন,
যাতে আলো সরাসরি চোখে না লাগে। ঘরের পর্দা, দেয়াল ও আসবাবের সঙ্গে মিল রেখে
লাইটের ডিজাইন বেছে নিলে সাজসজ্জাটাও আরও সুন্দর দেখাবে।
তবে লাইট ব্যবহারের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখবেন। তার যেন
এলোমেলোভাবে পড়ে না থাকে এবং নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত তারের লাইট ব্যবহার করবেন না।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ করে রাখলে বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে।
তাই বেশি খরচ না করে সঠিক জায়গায় সুন্দর লাইট ব্যবহার করলেই আপনার শোবার ঘরের
পরিবেশ অনেকটাই বদলে দিতে পারবেন।
কম খরচে আয়না দিয়ে ঘর সাজানোর কৌশল
আপনার শোবার ঘর ছোট হলে একটি আয়না দিয়েই ঘরটাকে একটু বড় ও খোলামেলা দেখানো যায়।
এজন্য খুব দামি ডিজাইনের আয়না কেনার দরকার নেই। আপনার বাজেট অনুযায়ী সাধারণ
একটি সুন্দর আয়না বেছে নিয়ে দেয়ালে এমন জায়গায় লাগাতে পারেন, যেখানে ঘরের আলো
প্রতিফলিত হয়। এতে ঘরটা তুলনামূলকভাবে বেশি উজ্জ্বল ও খোলামেলা মনে হতে পারে।
আপনি চাইলে পুরোনো আয়নাও নতুনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। আয়নাটি ভালোভাবে
পরিষ্কার করে একটি সাধারণ ফ্রেম ব্যবহার করলেই দেখতে বেশ সুন্দর লাগবে। ঘরের
দেয়াল, পর্দা বা আসবাবের সঙ্গে মানানসই ফ্রেম বেছে নিলে আয়নাটি ঘরের সাজসজ্জার
অংশ হয়ে উঠবে। ছোট ঘরে বড় আয়না ব্যবহার করলে জায়গা কিছুটা বেশি মনে হতে পারে,
তবে আয়নার আকার ঘরের জায়গার সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত।
আয়না লাগানোর সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে রাখবেন। দেয়ালে ভালোভাবে আটকানো বা
নিরাপদভাবে স্থাপন করা আয়না ব্যবহার করুন, যাতে সহজে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
বিছানার সামনে বা এমন জায়গায় আয়না রাখার আগে ঘরের আলো ও আপনার পছন্দের বিষয়টিও
বিবেচনা করুন। এভাবে অল্প খরচে সঠিক জায়গায় একটি আয়না ব্যবহার করেই আপনার শোবার
ঘরকে আরও সুন্দর, উজ্জ্বল ও গোছানো করে তুলতে পারেন।
ঘরে গাছ রেখে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আনার উপায়
আপনার শোবার ঘরে একটি-দুটি ছোট গাছ রাখলেই ঘরের পরিবেশে সুন্দর একটা পরিবর্তন
আসতে পারে। এজন্য অনেক টাকা খরচ করে বড় গাছ বা দামি টব কেনার দরকার নেই। আপনার
বাজেট অনুযায়ী ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট বা সহজে যত্ন নেওয়া যায় এমন গাছ বেছে নিতে
পারেন। গাছের সবুজ রং ঘরের সাজসজ্জায় প্রাকৃতিক একটা ছোঁয়া এনে দেয় এবং ঘরকেও
আরও সতেজ মনে হতে পারে।
আপনি চাইলে জানালার পাশে, টেবিলের ওপর বা ঘরের কোনো খালি কোণে ছোট টবে গাছ
রাখতে পারেন। তবে গাছ রাখার জায়গা বেছে নেওয়ার সময় আলো-বাতাসের প্রয়োজনের কথা
মাথায় রাখুন। সব গাছ কম আলোতে ভালো থাকে না, তাই আপনার ঘরে যতটুকু আলো আসে, তার
সঙ্গে মানানসই গাছ বেছে নেওয়া ভালো। বেশি পানি দেওয়ারও দরকার নেই; গাছের ধরন
অনুযায়ী যত্ন নিন।
গাছ রাখার পাশাপাশি টবটাও একটু সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন। পুরোনো টব
পরিষ্কার করে ব্যবহার করা বা সাধারণ টবের সঙ্গে ছোট একটি স্ট্যান্ড ব্যবহার
করলেও দেখতে ভালো লাগে। তবে শোবার ঘরে বেশি গাছ রেখে জায়গা ভরে ফেলবেন না। অল্প
কয়েকটি গাছ সুন্দরভাবে রাখলেই ঘর আরও পরিপাটি, সতেজ ও প্রাকৃতিক দেখাবে।
কম খরচে বেডরুমের রঙ বাছাই করার টিপস
আপনার বেডরুম সুন্দর করতে রঙের ভূমিকা অনেক। তবে ঘর সুন্দর করার জন্য সব দেয়ালে
নতুন করে রং করার দরকার নেই। আপনার বাজেট কম হলে শুধু একটি দেয়ালে পছন্দের রং
করতে পারেন। বাকি দেয়ালগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখলেও ঘরের চেহারায় বেশ
ভালো পরিবর্তন আসবে। এতে রঙের খরচ কম হবে, আবার ঘরটাও অনেকটা নতুনের মতো
দেখাবে।
আপনি যদি বেডরুমকে একটু বড়, খোলামেলা ও উজ্জ্বল দেখাতে চান, তাহলে হালকা রঙ
বেছে নিতে পারেন। সাদা, অফ-হোয়াইট, ক্রিম, হালকা ধূসর বা হালকা নীলের মতো রং
ঘরে শান্ত ও সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আবার আপনার ঘরে যদি প্রাকৃতিক
আলো ভালোভাবে আসে, তাহলে একটি দেয়ালে একটু গাঢ় রং ব্যবহার করেও সুন্দর লুক দিতে
পারেন। তবে রং বাছাইয়ের সময় পর্দা, বিছানার চাদর, আসবাব ও ঘরের অন্যান্য
জিনিসের সঙ্গে মিল আছে কি না, সেটা অবশ্যই দেখে নিন।
রং করার আগে আপনার দেয়ালের অবস্থাটাও দেখে নেওয়া জরুরি। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে
ভাব, ফাটল বা পুরোনো রং উঠে যাওয়ার সমস্যা থাকলে আগে সেগুলো ঠিক করে নিন। শুধু
তার ওপর নতুন রং করলে সমস্যাটা আবার দেখা দিতে পারে। তাই আপনার বাজেট, ঘরে আসা
প্রাকৃতিক আলো এবং আগে থেকে থাকা আসবাবের রঙ সবকিছু বিবেচনা করে রং বেছে নিলে
কম খরচেই আপনার বেডরুমকে সুন্দর, পরিপাটি ও আরামদায়ক করে তুলতে পারবেন।
ছোট শোবার ঘর বড় দেখানোর সহজ কৌশল
আপনার শোবার ঘর ছোট হলে সঠিকভাবে সাজালে সেটাকে তুলনামূলকভাবে বড় ও খোলামেলা
দেখানো সম্ভব। এজন্য প্রথমেই ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। বিছানা,
আলমারি, টেবিলসহ যেসব জিনিস নিয়মিত ব্যবহার করেন না, সেগুলো ঘরে না রাখাই ভালো।
যত কম জিনিস এলোমেলোভাবে থাকবে, ঘর তত বেশি পরিপাটি ও খোলামেলা দেখাবে।
আপনি চাইলে ঘরের দেয়ালে হালকা রঙ ব্যবহার করতে পারেন। সাদা, অফ-হোয়াইট, ক্রিম
বা হালকা ধূসর রঙের মতো হালকা শেড ছোট ঘরকে তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ও প্রশস্ত
মনে করাতে পারে। পাশাপাশি একটি আয়না এমন জায়গায় রাখতে পারেন, যেখানে আলো
প্রতিফলিত হয়। এতে ঘরে আলো বাড়ার পাশাপাশি জায়গাটাও কিছুটা বড় মনে হতে পারে।
জানালার সামনে অপ্রয়োজনীয় জিনিস না রেখে প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢোকার সুযোগ রাখুন।
আসবাবের ক্ষেত্রেও একটু বুদ্ধি করে চলুন। খুব বড় বিছানা বা ভারী আসবাবের বদলে
ঘরের মাপ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নিন। বিছানার নিচে বা আলমারির ভেতরে
জিনিস গুছিয়ে রাখলে মেঝেতে বেশি জায়গা খালি থাকে। পর্দাও খুব ভারী না নিয়ে
হালকা ধরনের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে অল্প কিছু পরিবর্তন করেই আপনার
ছোট শোবার ঘরকে আরও গোছানো, আরামদায়ক ও খোলামেলা দেখাতে পারবেন।
অল্প খরচে ঘর পরিষ্কার ও গোছানো রাখার উপায়
আপনার শোবার ঘর পরিষ্কার ও গোছানো রাখতে সবসময় দামি ক্লিনিং প্রোডাক্ট বা নতুন
স্টোরেজ কেনার দরকার নেই। নিয়মিত ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ধুলা পরিষ্কার করা এবং বিছানার
চাদর ও বালিশের কভার পরিষ্কার রাখলেই ঘর অনেকটা পরিপাটি দেখায়। ঘরে যেসব জিনিস
নিয়মিত ব্যবহার করেন না, সেগুলো আলাদা করে রাখুন। এতে ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কম
থাকবে এবং জায়গাটাও খোলামেলা লাগবে।
আপনি ঘরে থাকা সাধারণ জিনিস দিয়েই অনেক কিছু গুছিয়ে রাখতে পারেন। যেমন, ছোট
বাক্স বা ঝুড়ি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় জিনিস এক জায়গায় রাখা যায়। আলমারি ও
ড্রয়ারে জিনিস এলোমেলো না করে ব্যবহার অনুযায়ী আলাদা করে রাখুন। প্রতিটি জিনিস
ব্যবহারের পর আবার নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দেওয়ার অভ্যাস করলে ঘর অল্প সময়েই
গোছানো রাখা সহজ হবে।
সবচেয়ে ভালো হয় প্রতিদিন অল্প সময় ঘর গোছানোর জন্য রাখলে। একদিনে সবকিছু
পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে প্রতিদিন কয়েক মিনিট করে বিছানা, টেবিল, মেঝে ও
প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো গুছিয়ে নিন। এতে কাজের চাপও কম থাকবে এবং ঘরও সবসময়
পরিষ্কার থাকবে। এভাবে অতিরিক্ত টাকা খরচ না করেই আপনার শোবার ঘরকে সুন্দর,
পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
কোন জিনিসগুলো না কিনেও ঘর সুন্দর করা যায়?
আপনার ঘর সুন্দর করতে সবসময় নতুন নতুন জিনিস কেনার দরকার নেই। আগে ঘরে থাকা
জিনিসগুলো ভালোভাবে গুছিয়ে দেখুন। পুরোনো টেবিল, চেয়ার, তাক, আয়না বা
ডেকোরেশনের জিনিস একটু পরিষ্কার করে অন্য জায়গায় রাখলেই ঘরের চেহারায় পরিবর্তন
আসতে পারে। অনেক সময় শুধু আসবাবের জায়গা পরিবর্তন করেই ঘরকে নতুনের মতো মনে হয়।
আপনি পুরোনো পর্দা, বিছানার চাদর বা বালিশের কভার ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে
আবার ব্যবহার করতে পারেন। পুরোনো ছবি বা ফ্রেম থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করে
দেয়ালে নতুনভাবে সাজাতে পারেন। এমনকি ঘরে থাকা খালি বোতল, কাচের জার বা ছোট
বাক্সও পরিষ্কার করে কলম, ছোট গাছ বা প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার কাজে ব্যবহার করা
যায়। এতে নতুন স্টোরেজ বা ডেকোরেশনের জিনিস কেনার প্রয়োজন কমে যাবে।
ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে দেওয়া। আপনি হয়তো ভাবছেন নতুন কিছু কিনলেই ঘর
সুন্দর হবে, কিন্তু অনেক সময় উল্টোটা কাজ করে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে বিছানা,
টেবিল ও মেঝে পরিষ্কার রাখলে ঘর এমনিতেই অনেক সুন্দর ও খোলামেলা দেখায়। তাই আগে
ঘরে থাকা জিনিসগুলো দিয়েই যতটা সম্ভব সাজিয়ে নিন, তারপর সত্যিই প্রয়োজন হলে
নতুন কিছু কিনুন।
অল্প বাজেটে শোবার ঘর সাজানোর সম্পূর্ণ পরিকল্পনা
আপনি যদি অল্প বাজেটে শোবার ঘর সাজাতে চান, তাহলে একসঙ্গে অনেক কিছু কেনার
দরকার নেই। প্রথমে ঘরটা ভালোভাবে দেখে নিন এবং কোন জিনিসগুলো বদলানো দরকার, আর
কোনগুলো আগের মতোই ব্যবহার করা যাবে, সেটা ঠিক করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘর
পরিষ্কার ও গোছানো থেকেই শুরু করুন। এতে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই ঘরটা আগের চেয়ে
সুন্দর দেখাবে।
এরপর আপনার বাজেট অনুযায়ী সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বেছে নিন। যেমন, পুরোনো
বিছানার চাদর বেশি নষ্ট হলে আগে সেটি পরিবর্তন করতে পারেন। এরপর প্রয়োজন হলে
পর্দা, লাইট, আয়না বা ছোট কোনো গাছ যোগ করতে পারেন। দেয়ালে নতুন রং করার
প্রয়োজন হলে পুরো ঘর না করে শুধু একটি দেয়ালে রং করলেও ভালো পরিবর্তন আসতে
পারে। এভাবে একসঙ্গে সবকিছু না করে ধাপে ধাপে সাজালে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ
হবে।
আপনি চাইলে পুরোনো আসবাবও নতুনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। টেবিল, চেয়ার বা তাক
পরিষ্কার করে জায়গা পরিবর্তন করুন এবং যেসব জিনিস ব্যবহার করছেন না, সেগুলো
সরিয়ে রাখুন। ছোট ঘর হলে হালকা রং, আয়না ও পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করে ঘরটাকে আরও
খোলামেলা দেখাতে পারেন। সবশেষে ঘরের প্রতিটি জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক
করে দিন এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। এতে অল্প বাজেটেই আপনার শোবার ঘর সুন্দর,
পরিপাটি ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
শোবার ঘর সাজাতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
শোবার ঘর সুন্দর করতে গিয়ে অনেক সময় আমরা অজান্তেই কিছু ভুল করে ফেলি। যেমন,
ঘরের জায়গার তুলনায় অনেক বড় আসবাব কেনা, একসঙ্গে অনেক ডেকোরেশনের জিনিস রাখা বা
অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখা। এতে ঘর সুন্দর হওয়ার বদলে আরও ছোট ও এলোমেলো
দেখাতে পারে। তাই আপনার ঘরের মাপ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আসবাব বেছে নিন এবং যতটা
সম্ভব খালি জায়গা রাখুন।
আরেকটি ভুল হলো ঘরের সবকিছুতে অনেক বেশি রঙ ব্যবহার করা। দেয়ালের রং, পর্দা,
বিছানার চাদর ও ডেকোরেশনের মধ্যে মিল না থাকলে ঘর দেখতে অগোছালো লাগতে পারে।
তাই আপনি দুই-তিনটি মানানসই রঙের মধ্যে সাজসজ্জা রাখার চেষ্টা করুন। ছোট ঘরে
খুব গাঢ় রং বা ভারী পর্দা ব্যবহার করার আগে ঘরের আলো ও আকারও বিবেচনা করুন।
লাইট ও আয়না ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটু সতর্ক থাকা দরকার। খুব তীব্র আলো চোখের
জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, আবার আয়না নিরাপদভাবে না লাগালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
থাকে। এছাড়া শুধু নতুন জিনিস কিনে ঘর সাজানোর চেষ্টা না করে আগে ঘরে থাকা
জিনিসগুলো কাজে লাগান। আপনি যদি প্রয়োজন বুঝে জিনিস কিনেন, অপ্রয়োজনীয় জিনিস
সরিয়ে রাখেন এবং নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করেন, তাহলে অল্প খরচেই আপনার শোবার ঘর
সুন্দর ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
শেষ কথাঃঅল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো
আপনার শোবার ঘর সুন্দর করার জন্য অনেক টাকা খরচ করার দরকার নেই। ঘরে থাকা জিনিসগুলো একটু গুছিয়ে রাখা, পুরোনো আসবাব কাজে লাগানো, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দা, চাদর, লাইট বা ছোট গাছ যোগ করলেই ঘরের চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনার বাজেটের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলা।
আপনি ধীরে ধীরে ঘরের পরিবর্তন আনুন, একসঙ্গে সবকিছু করার চেষ্টা করবেন না। ঘর পরিষ্কার, পরিপাটি ও খোলামেলা রাখলেই অনেক সময় নতুন কিছু কেনার প্রয়োজন হয় না। একটু বুদ্ধি আর যত্ন নিয়ে অল্প খরচে নিজের শোবার ঘর সুন্দর করে সাজানো সম্ভব। এতে আপনার ঘর যেমন সুন্দর ও আরামদায়ক হবে, তেমনি খরচও থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে।
অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url