নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার উপায় জানতে চান? কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা আর একঘেয়েমির কারণে অনেক সময় আমাদের উৎসাহ কমে যায়। তখন কাজে মন বসে না, লক্ষ্যও অনেক দূরে মনে হয়।
তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে, কাজে মনোযোগও
বাড়ে। এই লেখায় জানবেন নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায় যা
আপনাকে প্রতিদিন নতুন উদ্যমে নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
পোস্ট সূচীপত্রঃ নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
- মোটিভেশন কী এবং কেন এটা মাঝে মাঝে হারিয়ে যায়
- নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখা কেন এত জরুরি
- প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন
- বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিন
- সকালটা একটু ভালোভাবে শুরু করুন
- নিজের কাজের পেছনের কারণটা মনে রাখুন
- প্রতিদিনের কাজের অগ্রগতি লিখে রাখুন
- যাদের গল্প আপনাকে উৎসাহ দেয়, তাদের কথা জানুন
- যেসব মানুষ বা চিন্তা আপনাকে নিরুৎসাহিত করে, তাদের থেকে দূরে থাকুন
- ছোট ছোট সাফল্যেও নিজেকে একটু বাহবা দিন
- ঘুম আর বিশ্রামের দিকটাও অবহেলা করবেন না
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাসটা গড়ে তুলুন
- ব্যর্থ হলেও হাল ছেড়ে না দেওয়ার কৌশল
- মোটিভেশন ধরে রাখতে গিয়ে যেসব ভুল হয়ে যায়
- মোটিভেশন নিয়ে মানুষ যা প্রায়ই জিজ্ঞেস করে
- শেষ কথাঃ নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
মোটিভেশন কী এবং কেন এটা মাঝে মাঝে হারিয়ে যায়
মোটিভেশন মানে হলো কোনো কাজ করার ইচ্ছা বা ভেতর থেকে আসা তাগিদ। সহজ কথায়,
সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন মনে হয়, আজ কিছু একটা করতেই হবে, নিজের লক্ষ্য পূরণের
জন্য এগিয়ে যেতে হবে সেই অনুভূতিই হলো মোটিভেশন। এই তাগিদ থাকলে কঠিন কাজও সহজ
মনে হয়। কিন্তু এই অনুভূতি সব সময় একই রকম থাকে না। কোনো দিন কাজের প্রতি
প্রচুর উৎসাহ থাকে, আবার কোনো দিন বিছানা থেকে উঠতেই মন চায় না।
এটা একদমই স্বাভাবিক। আমাদের মনও শরীরের মতো ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একটানা একই কাজ
করা, একঘেয়ে রুটিন, দীর্ঘদিন ফল না পাওয়া বা লক্ষ্যকে অনেক দূরের মনে হওয়া
এসব কারণে ধীরে ধীরে অনুপ্রেরণা কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া ব্যস্ত জীবন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত চাপ কিংবা চারপাশের
নেতিবাচক পরিবেশও মোটিভেশন কমিয়ে দেয়। অনেক সময় নিজের কাছ থেকে অতিরিক্ত
প্রত্যাশা করলেও হতাশা তৈরি হয়, যা কাজের আগ্রহ আরও কমিয়ে দেয়।
তবে মনে রাখবেন, মোটিভেশন হারিয়ে যাওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়। এটি শুধু একটি
সাময়িক অবস্থা। সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে এবং নিজের চিন্তাভাবনায় ছোট কিছু
পরিবর্তন আনলেই আবার নতুন করে অনুপ্রেরণা ফিরে পাওয়া সম্ভব। এবার জেনে নেওয়া
যাক নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার উপায় যাতে প্রতিদিন নতুন উৎসাহে নিজের লক্ষ্য
অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখা কেন এত জরুরি
আমাদের জীবনে যা কিছু ভালো হয় পড়াশোনায় ভালো ফলাফল, চাকরিতে উন্নতি, নিজের
ব্যবসা দাঁড় করানো, বা শরীর সুস্থ রাখা এসবের পেছনে একটা জিনিস সবসময় কাজ
করে, আর সেটা হলো নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ। এজন্যই নিজেকে অনুপ্রেরণাময়
রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায় জানা থাকা জরুরি এতে এই তাগিদটা ধরে রাখা অনেক
সহজ হয়ে যায়। এই তাগিদ না থাকলে সবকিছুই থমকে যায়, কাজ জমে থাকে, দিন কাটে
অথচ কিছুই এগোয় না। প্রতিদিনের ছোট কাজেও, যেমন সময়মতো ওঠা বা স্বাস্থ্যের
যত্ন নেওয়াতেও এই উদ্যমটাই আসল চালিকাশক্তি।
মোটিভেশন শুধু কাজ শেষ করার জন্য নয়, মানসিক শান্তির জন্যও সমান জরুরি। নিজের
ভেতর উদ্যম থাকলে জীবনের প্রতি একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, কঠিন সময়
এলেও মনে হয় এটাও পার হয়ে যাবে। কিন্তু এটা হারিয়ে গেলে ছোট সমস্যাও বড় মনে
হতে থাকে, আর ধীরে ধীরে হতাশা জেঁকে বসে।
তাই নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখাটা শুধু সাফল্যের জন্য নয়, একটা সুস্থ ও
শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যিনি নিজেকে সবসময় একটু একটু
করে উৎসাহ দিতে জানেন, তিনি জীবনের ওঠানামাগুলো অনেক সহজে সামলে নিতে পারেন।
প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই ঠিক বুঝতে পারেন না, আজ আসলে কী করবেন। এলোমেলোভাবে
দিন শুরু হলে কাজেও মন বসে না, সময়ও অকারণে নষ্ট হয়ে যায়। এর সহজ সমাধান
হলো, প্রতিদিন সকালে বা আগের রাতে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া আজ ঠিক
কী কী করতে হবে, তার একটা ছোট তালিকা। লক্ষ্যটা যত স্পষ্ট হবে, কাজ করাও তত সহজ
হবে। "আজ পড়াশোনা করব" বলার চেয়ে "আজ দুই ঘণ্টা অঙ্ক করব" বললে কাজটা অনেক
বেশি বাস্তব মনে হয়।
এভাবে ছোট ছোট নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করলে মাথায় একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়,
আর কাজ শুরু করতেও দ্বিধা কম লাগে। দিনের শুরুতে তিন থেকে চারটা কাজ বেছে নিন,
যেগুলো সেদিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। এর বেশি লক্ষ্য ঠিক করলে চাপ বেড়ে যায়,
আর কাজ শেষ না হলে হতাশাও তৈরি হতে পারে। তাই বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য
ঠিক করাই এখানে আসল বিষয়।
এভাবে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দিন শুরু করলে ধীরে ধীরে একটা
অভ্যাস তৈরি হয়। আর এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখার সবচেয়ে
কার্যকর উপায়গুলোর একটা হয়ে দাঁড়ায়।
বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিন
কোনো বড় কাজের কথা ভাবলেই অনেক সময় মনে একটা চাপ তৈরি হয়। ধরুন কেউ একটা বই
লিখতে চান, বা নিজের ব্যবসা শুরু করতে চান পুরো কাজটার কথা একসাথে ভাবলে
সেটা এত বড় মনে হয় যে শুরুই করা হয়ে ওঠে না। এই দ্বিধা থেকেই অনেক সময় কাজ
ফেলে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়।
এর সহজ সমাধান হলো, বড় কাজটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেওয়া। পুরো বই লেখার
কথা না ভেবে যদি ঠিক করা হয় আজ শুধু একটা পৃষ্ঠা লিখব তাহলে কাজটা অনেক হালকা
মনে হয়। প্রতিটা ছোট ধাপ শেষ হওয়ার পর একটা তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি হয়, আর সেই
তৃপ্তিই পরের ধাপে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।
এই পদ্ধতিতে কাজ করলে সময়ের সাথে সাথে বড় লক্ষ্যও একসময় সহজেই পূরণ হয়ে
যায়, অথচ কোনো এক ধাপেই খুব বেশি চাপ অনুভব হয় না। তাই কাজ যত বড়ই হোক না
কেন, সেটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে এগোনোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পথ।
সকালটা একটু ভালোভাবে শুরু করুন
সত্যি বলতে, দিনটা কেমন যাবে সেটা অনেকটাই ঠিক হয়ে যায় সকালের প্রথম কয়েক
মিনিটেই। আমরা অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই চোখ কচলাতে কচলাতে ফোন হাতে নিয়ে ফেলি
একটু ফেসবুক, একটু নিউজ, একটু মেসেজ দেখা। আর এভাবেই না বুঝতে বুঝতেই মাথায়
হাজারটা চিন্তা ঢুকে যায়, অথচ তখনও বিছানা থেকেই ওঠা হয়নি।
একটু অন্যভাবে ভাবুন তো যদি ফোনটা প্রথম বিশ মিনিট হাতেই না নেন? তার বদলে একটু
হাঁটাহাঁটি করলেন, জানালা খুলে একটু বাতাস নিলেন, বা এক কাপ চা নিয়ে চুপচাপ
বসে থাকলেন কিছুক্ষণ। শুনতে খুবই সাধারণ লাগছে, জানি। কিন্তু এই ছোট্ট
পরিবর্তনটাই মনটাকে একটু জায়গা দেয়, শান্ত হওয়ার সুযোগ দেয়।
আমি নিজেও লক্ষ্য করেছি, যেদিন সকালটা তাড়াহুড়ো আর ফোনের নোটিফিকেশন দিয়ে
শুরু হয়, সেদিন সারাদিনই কেমন যেন এলোমেলো লাগে। আর যেদিন একটু সময় নিয়ে
শুরু করি, সেদিন কাজেও মন বসে বেশি। এটা কোনো জাদুকরী নিয়ম না, শুধু নিজেকে
একটু সময় দেওয়ার ব্যাপার।
নিজের কাজের পেছনের কারণটা মনে রাখুন
মাঝে মাঝে কাজ করতে করতে হঠাৎ থমকে যাই, মনে হয় এসব করে আসলে কী হচ্ছে? কেন
করছি এত কষ্ট করে? এই প্রশ্নটা যখন মাথায় আসে আর উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না,
তখনই আসলে উৎসাহ কমতে শুরু করে।
এখানে একটা জিনিস কাজে লাগে নিজেকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করা, "শুরুতে কেন এটা করব
বলে ঠিক করেছিলাম?" হয়তো উত্তরটা খুব সহজ কিছু মাকে একটু ভালো রাখতে
চেয়েছিলেন, নিজের একটা স্বপ্ন সত্যি করতে চেয়েছিলেন, বা শুধু নিজেকে প্রমাণ
করতে চেয়েছিলেন যে পারবেন। যে কারণটাই হোক, সেটা যখন মনে পড়ে, তখন হঠাৎ করে
আবার একটা জোর পাওয়া যায়।
একটা কাজ করে দেখতে পারেন কারণটা একটা কাগজে লিখে টেবিলের সামনে লাগিয়ে রাখুন,
বা ফোনের লক স্ক্রিনে লিখে রাখুন। যেদিন মনে হবে আর পারছি না, সেদিন একবার চোখ
বুলিয়ে নিন। অদ্ভুতভাবে হলেও, এই ছোট্ট কাজটা মাঝে মাঝে অনেক বড় পার্থক্য
তৈরি করে দেয়।
প্রতিদিনের কাজের অগ্রগতি লিখে রাখুন
একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন কখনো? আমরা সবসময় হিসাব করি আর কতদূর যেতে
হবে, কিন্তু ভুলে যাই কতটা পথ আসলে পার হয়ে এসেছি। এভাবে শুধু সামনের দিকে
তাকিয়ে থাকতে থাকতে একটা সময় মনে হতে থাকে কিছুই তো এগোচ্ছে না যদিও বাস্তবে
হয়তো অনেকটাই এগিয়েছেন।
এর জন্য একটা সহজ কাজ করা যায়। রাতে শোয়ার আগে একটা ছোট খাতা বা ফোনের নোটে
দুই লাইন লিখে ফেলুন আজ কী করলেন, ছোট হোক বা বড়। আজ পাঁচ পৃষ্ঠা পড়লাম আজ
সেই কাজটা শেষ করলাম যেটা দুই সপ্তাহ ধরে ফেলে রেখেছিলাম কম যেকোনো কিছু। প্রথম
দিকে মনে হবে অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু কিছুদিন পর যখন পুরোনো লেখাগুলো পড়বেন,
নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।
এই ছোট্ট অভ্যাসটার আসল শক্তি লুকিয়ে আছে ওই মুহূর্তে, যখন মন ভেঙে যেতে চায়
আর মনে হয় কিছুই হচ্ছে না তখন পুরোনো পাতাগুলো একবার উল্টে দেখলেই বোঝা যায়,
আসলে অনেক দূর হাঁটা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।
যাদের গল্প আপনাকে উৎসাহ দেয়, তাদের কথা জানুন
মাঝে মাঝে মনে হয় না, আরে এই মানুষটাও তো আমার মতোই শুরু করেছিল, তাহলে ও পারল
কীভাবে?এই প্রশ্নটাই আসলে অনেক বড় একটা অনুপ্রেরণা। যাদের জীবনের গল্প আপনাকে
ভেতর থেকে নাড়া দেয়, তাদের সম্পর্কে একটু জানার চেষ্টা করুন। হতে পারে সেটা
কোনো সফল উদ্যোক্তা, কোনো লেখক, বা আপনার আশেপাশের এমন কেউ, যে কঠিন পরিস্থিতি
পার করে আজ ভালো জায়গায় পৌঁছেছে।
এই গল্পগুলো পড়লে বা শুনলে একটা জিনিস বোঝা যায় সফলতার পথে হোঁচট খাওয়া, ভয়
পাওয়া, বা থেমে যাওয়ার ইচ্ছা হওয়া, এসব সবার জীবনেই আসে। কেউই একদম মসৃণভাবে
সফল হয়নি। এটা জানলে নিজের কঠিন সময়টাকে অনেক হালকাভাবে নেওয়া যায়, মনে হয়
আমিও পারব।
সপ্তাহে এক-দুইদিন এমন কারো সাক্ষাৎকার শুনুন, বা জীবনী পড়ুন, যিনি আপনার
লক্ষ্যের সাথে মিলে যায়। এটা কোনো বাড়তি চাপ নয়, বরং একটা ছোট বিরতি, যেখান
থেকে নতুন করে শক্তি পাওয়া যায়।
যেসব মানুষ বা চিন্তা আপনাকে নিরুৎসাহিত করে, তাদের থেকে দূরে থাকুন
কিছু মানুষ আছেন, যাদের সাথে কথা বলার পর মনটাই খারাপ হয়ে যায়। কোনো স্বপ্নের
কথা বললে সাথে সাথে বলে ওঠেন এসব করে কিছু হয় না বা তোমার দ্বারা হবে
না। এমন কথাবার্তা বারবার শুনতে শুনতে না বুঝতেই নিজের ভেতরেও একটা সন্দেহ তৈরি
হয়ে যায়।
এখানে বোঝাটা জরুরি সবাই যে ইচ্ছা করে খারাপ কথা বলে, তা নয়। কিন্তু তাদের
নেতিবাচক চিন্তা যদি বারবার আপনার মনে প্রভাব ফেলে, তাহলে একটু দূরত্ব রাখাই
ভালো। সবসময় তাদের সাথে তর্ক করার দরকার নেই, শুধু নিজের স্বপ্নের কথা তাদের
সাথে কম শেয়ার করলেই চলে।
নিজের মনের মধ্যে যে নেতিবাচক চিন্তাগুলো ঘুরপাক খায়, সেগুলোর দিকেও একটু
খেয়াল রাখুন। আমি পারব না এই কথাটা যখনই মাথায় আসে, তখন একবার থেমে ভাবুন এটা
কি সত্যিই সত্যি, নাকি শুধু একটা মুহূর্তের ভয়? আশেপাশে এবং নিজের মনে, দুই
জায়গাতেই একটু ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করলে মোটিভেশন অনেক বেশি
স্থায়ী হয়।
ছোট ছোট সাফল্যেও নিজেকে একটু বাহবা দিন
আমরা অনেকেই বড় লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে খুশি হতে দিই না।
পরীক্ষায় ভালো ফল না হওয়া পর্যন্ত, বা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মনে হয়
কিছুই অর্জন হয়নি। কিন্তু এভাবে ভাবলে পথের মাঝের ছোট ছোট অর্জনগুলো একদম
চোখের আড়ালে থেকে যায়।
আসলে প্রতিটা ছোট কাজ শেষ করাও একটা সাফল্য। আজকের পরিকল্পনা মতো কাজ শেষ
করতে পারলে, বা কঠিন একটা দিন পার করতে পারলেও নিজেকে একটু বাহবা দেওয়া
যায়। আজ আমি ভালো করেছি এই কথাটা নিজেকে বলাটা কোনো অহংকার নয়, বরং নিজের
প্রতি একটা সদয় আচরণ। নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
এর মধ্যে এই ছোট্ট অভ্যাসটা হয়তো সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায়, অথচ প্রতিদিনের
মানসিক শক্তি ধরে রাখার জন্য এটাই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
এই ছোট ছোট উদযাপনগুলোই ধীরে ধীরে মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস তৈরি করে যে, "আমি
এগোচ্ছি।" আর এই বিশ্বাসটাই দীর্ঘ পথ চলার আসল শক্তি জোগায়, বড় লক্ষ্যে
পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ঘুম আর বিশ্রামের দিকটাও অবহেলা করবেন না
অনেকেই মনে করেন, বেশি কাজ করলেই বেশি এগোনো যায়। তাই রাত জেগে কাজ করা,
ঘুম কমিয়ে দেওয়া, বা বিশ্রাম নেওয়াকে সময় নষ্ট মনে করাটা একটা সাধারণ
ভুল ধারণা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীর আর মন ক্লান্ত থাকলে যতই ইচ্ছা থাকুক
না কেন, কাজে মন বসানো কঠিন হয়ে যায়।
ঘুম কম হলে মাথা কাজ করে না, ছোট ছোট বিষয়েও বিরক্তি লাগে, আর সিদ্ধান্ত
নিতেও সমস্যা হয়। এভাবে কয়েকদিন চলতে থাকলে একটা সময় শরীরই আর সাড়া
দেয় না, তখন কাজ তো দূরের কথা, উঠে বসতেই কষ্ট হয়। তাই বলা যায়, নিজেকে
অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায় এর মধ্যে ঘুম ও বিশ্রামের
যত্ন নেওয়াটাই আসলে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, অথচ সবচেয়ে জরুরি একটা অংশ।
প্রতিদিন অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন, আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে
ছোট ছোট বিরতি নিন। এক নাগাড়ে অনেকক্ষণ কাজ না করে মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ
করে বসা, একটু হাঁটা, বা শুধু চুপচাপ কিছুক্ষণ সময় কাটানো এই ছোট ছোট
বিশ্রামই আসলে কাজের গতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাসটা গড়ে তুলুন
জীবনে যা নেই, তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে অনেক সময় যা আছে সেটাই চোখের আড়ালে
চলে যায়। সবসময় আরও ভালো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকলে বর্তমানের ছোট ছোট
ভালো লাগার মুহূর্তগুলো ঠিক অনুভব করা হয় না। আর এভাবেই ধীরে ধীরে মনের
মধ্যে একটা অতৃপ্তি জমতে থাকে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস এখানে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে
যাওয়ার আগে তিনটা জিনিসের কথা ভাবুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ হতে পারে সেটা
পরিবারের কারো হাসি, একটা ভালো খাবার, বা দিনের কোনো ছোট সাফল্য। শুরুতে
কঠিন মনে হলেও, কিছুদিন পর এই অভ্যাসটা মনকে হালকা করে তোলে।
যখন মন ভালো থাকা আর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি বাড়ে, তখন জীবনের প্রতি একটা
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এমনিতেই তৈরি হয়। আর এই ইতিবাচকতাই কাজ করার আর
এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জোগায়, কঠিন সময়েও মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে।
ব্যর্থ হলেও হাল ছেড়ে না দেওয়ার কৌশল
কোনো চেষ্টা যখন সফল হয় না, তখন হতাশ লাগাটাই স্বাভাবিক। মনে হতে পারে,
আমার দ্বারা বোধহয় হবে না। কিন্তু এখানেই আসল পার্থক্য তৈরি হয়
যারা এগিয়ে যান, তারাও ব্যর্থ হন, শুধু তারা থেমে যান না, আবার চেষ্টা
করেন।
ব্যর্থতাকে শত্রু না ভেবে একটা শিক্ষক হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। প্রতিটা
ব্যর্থতা আসলে বলে দেয়, কোন জায়গাটায় আরেকটু ভালো করা দরকার। তাই কোনো
কাজ ঠিকমতো না হলে নিজেকে দোষারোপ না করে বরং ভাবুন, এখান থেকে কী শেখা
গেল, আর পরের বার কীভাবে এগোনো যায়।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, একবার ব্যর্থ হলেই পুরোপুরি থেমে না যাওয়া।
প্রয়োজনে একটু বিরতি নিন, নিজেকে সময় দিন, তারপর আবার শুরু করুন। যারা
বারবার চেষ্টা চালিয়ে যান, তারাই একসময় ঠিক পথ খুঁজে পান আর এই ধৈর্যই
দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
মোটিভেশন ধরে রাখতে গিয়ে যেসব ভুল হয়ে যায়
মোটিভেশন ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই না বুঝে এমন কিছু ভুল করে
ফেলেন, যা আসলে উল্টো ফল দেয়। যেমন, একসাথে অনেক বড় বড় লক্ষ্য ঠিক করে
ফেলা। শুরুতেই "আজ থেকে সব বদলে ফেলব" ভেবে অতিরিক্ত চাপ নিলে কয়েকদিন পরই
ক্লান্তি চলে আসে, আর তখন পুরো চেষ্টাটাই ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
আরেকটা সাধারণ ভুল হলো, শুধু "মুড ভালো থাকলে" কাজ করার অপেক্ষায় থাকা।
বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন মন ভালো থাকবে না। যারা সফল হন, তারা মন ভালো থাকুক
বা না থাকুক, ছোট ছোট কাজ চালিয়ে যান। শুধু অনুভূতির উপর নির্ভর করলে
ধারাবাহিকতা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আসলে নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি
সহজ ও কার্যকর উপায় মেনে চললেও এই ভুলগুলো এড়াতে না পারলে ফলাফল বেশিদিন
স্থায়ী হয় না।
আরো পড়ুনঃ কমলার খোসার উপকারিতা ও অপকারিতা
এছাড়া নিজের অগ্রগতিকে অন্যের সাথে তুলনা করাও একটা বড় ভুল। সামাজিক
মাধ্যমে অন্যদের সাফল্য দেখে নিজেকে ছোট মনে হতে পারে, অথচ প্রত্যেকের
যাত্রা আলাদা। এই তুলনা যত কম করা যায়, মন তত হালকা থাকে আর নিজের গতিতে
এগিয়ে যাওয়া তত সহজ হয়।
মোটিভেশন নিয়ে মানুষ যা প্রায়ই জিজ্ঞেস করে
প্রশ্নঃ মোটিভেশন হঠাৎ হারিয়ে গেলে কী করা উচিত?
- প্রথমে নিজেকে দোষ না দিয়ে বুঝুন যে এটা স্বাভাবিক। খুব ছোট একটা কাজ দিয়ে শুরু করুন, বড় কিছু নিয়ে ভাবার দরকার নেই। ছোট একটা কাজ শেষ হলেই আস্তে আস্তে উদ্যম ফিরে আসে।
প্রশ্নঃ প্রতিদিন মোটিভেটেড থাকা কি সম্ভব?
- সত্যি বলতে, প্রতিদিন সমান উদ্যম অনুভব করা প্রায় কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। আসল বিষয় হলো, মন ভালো না থাকলেও ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়া।
প্রশ্নঃ কোন অভ্যাসটা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে?
- কোনো একক অভ্যাস সবার জন্য কাজ করে না। তবে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা আর নিজের অগ্রগতি লিখে রাখা এই দুটো অভ্যাস বেশিরভাগ মানুষের জন্যই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
শেষ কথাঃ নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
লেখার শুরুতে যা বলেছিলাম, সেটাই আবার মনে করিয়ে দিতে চাই মোটিভেশন কোনো
একদিনে তৈরি হওয়া জিনিস না, আর হঠাৎ করে হারিয়ে গেলেও সেটা কোনো ব্যর্থতা
নয়। আজ আলোচনা করা নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
একসাথে সব মেনে চলার দরকার নেই। বরং যেটা আপনার কাছে সবচেয়ে সহজ আর
বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে, সেটা দিয়েই শুরু করুন। ছোট একটা অভ্যাস দিয়ে শুরু
করলেও, সময়ের সাথে সাথে সেটাই বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
আমি নিজেও বিশ্বাস করি, নিজেকে অনুপ্রেরণাময় রাখার সবচেয়ে বড় রহস্য হলো
নিজের প্রতি একটু ধৈর্য রাখা আর নিজেকে ক্ষমা করতে শেখা। কোনোদিন হয়তো
কিছুই ভালো লাগবে না, কাজে মন বসবে না সেটাও ঠিক আছে। পরদিন আবার নতুন করে
শুরু করা যায়। আপনি যদি প্রতিদিন একটু একটু করেও এগিয়ে যান, সেটাই আসল
সাফল্য। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, পথ ঠিকই খুলে যাবে।


অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url