সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় জানা থাকলে বৈধ পথে নিরাপদে বিদেশ যাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। এই লেখায় BMET-এ আবেদন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ, সময় এবং যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

সরকারি-ভাবে-বিদেশ-যাওয়ার-উপায়অনেকেই সঠিক তথ্যের অভাবে দালালের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ও আইনি সমস্যায় পড়েন। তাই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া এখানে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে আপনি নিজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

পোস্ট সূচীপত্রঃসরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় কী?

সহজ কথায়, সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়া মানে দালাল ছাড়া, BMET-এর মাধ্যমে নিজের তথ্য নিজেই নিবন্ধন করে বৈধভাবে বিদেশে কাজে যাওয়া। এই নিবন্ধন না করলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনই পার হওয়া যায় না, তাই এটা শুরুর সবচেয়ে জরুরি ধাপ। অনেকে একে জনশক্তি কার্ড, ম্যানপাওয়ার কার্ড বা স্মার্ট কার্ড নামেও চেনেন, আসলে সবই একই জিনিস।

এখন আর অফিসে অফিসে ঘোরার দরকার নেই, "আমি প্রবাসী" অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসেই নিবন্ধনটা করে ফেলা যায়। সরকারি ফি মাত্র ২০০ টাকা, তাই দালাল ধরে বাড়তি টাকা গোনার কোনো মানেই হয় না। নিবন্ধনের পর একটা ছোট প্রশিক্ষণও নিতে হয়, তিন দিনের এই কোর্স শেষ হলেই ইমিগ্রেশনের জন্য দরকারি কার্ড হাতে পাওয়া যায়।

এই পথের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, পুরো প্রক্রিয়াটা সরকারের নজরদারিতে হয় বলে খরচ কম থাকে আর প্রতারিত হওয়ার ভয়ও থাকে না। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে এই সরকারি নিয়মটা জেনে রাখলে নিজের টাকা আর সময়, দুটোই বাঁচবে।

সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কী কী যোগ্যতা লাগে?

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রথম শর্তই হলো বয়স। সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হলেই আবেদন করা যায়, তবে দেশ ও কাজের ধরন অনুযায়ী এই সীমা কিছুটা ওঠানামা করে। এর পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটাও জরুরি, কারণ মেডিকেল টেস্টে ফিট প্রমাণিত না হলে কোনোভাবেই ছাড়পত্র মেলে না।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে খুব বেশি বাধ্যবাধকতা নেই, বেশিরভাগ সাধারণ কাজের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাই যথেষ্ট। তবে যাদের নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতা আছে, যেমন ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং বা ইলেকট্রিক্যাল কাজ, তাদের জন্য একটা ট্রেড সার্টিফিকেট থাকলে সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া বৈধ পাসপোর্ট আর জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে না থাকলে প্রক্রিয়া শুরুই করা যাবে না।

শেষ শর্ত হিসেবে বলা যায়, ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জোগাড় করাটাও বাধ্যতামূলক। মোটকথা, বয়স, শারীরিক সুস্থতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর পরিচ্ছন্ন অতীত রেকর্ড থাকলেই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার পথ খোলা থাকে, বাড়তি কোনো জটিলতা লাগে না।

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় কাগজপত্রের ঘাটতিতে, তাই শুরুতেই সব গুছিয়ে রাখলে পরে আর দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। প্রথমে লাগবে বৈধ পাসপোর্ট, যার মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা চাই, কারণ পাসপোর্ট ছাড়া বিএমইটি নিবন্ধনই শুরু করা যায় না। সাথে রাখতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, কারণ নিবন্ধনের সময় এই তথ্য দিয়েই প্রোফাইল তৈরি হয়।

নিবন্ধন হয়ে গেলে পরের ধাপে লাগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট বা মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট, যা সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকেই করাতে হয়। সাথে জমা দিতে হয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, যাতে প্রমাণ হয় নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। যাদের নির্দিষ্ট দক্ষতা আছে, যেমন ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং বা ইলেকট্রিক্যাল কাজে, তাদের সেই ট্রেড সার্টিফিকেটও কাছে রাখা ভালো, কারণ এতে ভালো কাজ পাওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়।

সব কাগজ জমা হলে নিতে হয় প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ, যা তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়, আর প্রশিক্ষণ শেষে হাতে আসে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড, যা ছাড়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়াই যায় না। তাই পাসপোর্ট, NID, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আর স্মার্ট কার্ড, এই কয়েকটা কাগজ আগে থেকে গুছিয়ে রাখলেই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকে না।

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য আবেদন করার নিয়ম

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার আবেদন শুরু হয় "আমি প্রবাসী" অ্যাপ বা BMET-এর ওয়েবসাইটে একটা একাউন্ট খোলার মাধ্যমে। নাম, মোবাইল নম্বর আর NID দিয়ে একাউন্ট খুলে OTP যাচাই করলেই প্রোফাইলে ঢোকা যায়, এরপর পাসপোর্ট অনুযায়ী সব তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হয়, কারণ একটা তথ্যেও ভুল হলে পরে কার্ড খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যায়।

তথ্য পূরণের পর আসে ফি পরিশোধের পালা। বিএমইটি নিবন্ধনের সরকারি ফি মাত্র ২০০ টাকা, যা বিকাশ, রকেট বা নগদ দিয়ে সহজেই দেওয়া যায়। পেমেন্ট শেষ হলে একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়, যা দিয়ে পরে আবেদনের অবস্থা যাচাই করা যায়। যারা G2G পদ্ধতিতে যেতে চান, তাদের জন্য BMET বা BOESL নির্দিষ্ট সময়ে সার্কুলার দেয়, সেই অনুযায়ী আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়।

নিবন্ধনের পর নিজ জেলার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে একটা বাধ্যতামূলক ব্রিফিং সেশনে অংশ নিতে হয়, যেখান থেকে পাসপোর্টে সিল দেওয়া হয়। এরপর তিন দিনের প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ শেষ করলেই মেলে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড, যা দেখিয়ে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়া যায়। এভাবে একাউন্ট খোলা থেকে প্রশিক্ষণ পর্যন্ত ধাপগুলো ঠিকমতো মানলেই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার আবেদন কোনো দালাল ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়।

সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হয়?

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খরচ অনেক কম থাকে, তবে এই খরচ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় বাঁধা নেই, বরং দেশ ও কাজের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণত পাসপোর্ট ফি, বিএমইটি নিবন্ধন, মেডিকেল টেস্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আর বিমান ভাড়া মিলিয়ে সরকারি চ্যানেলে খরচ প্রায় ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। যেমন মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী রিক্রুটমেন্ট খরচের একটা নির্দিষ্ট সিলিং রাখা হয়েছে, যা প্রায় ৮০ হাজার টাকার আশেপাশে।

তবে বাস্তবতা হলো, নির্ধারিত এই খরচের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগও কম নয়, বিশেষ করে কিছু অসাধু চক্রের হাত ঘুরে গেলে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই কোনো দেশে যাওয়ার আগে সেই দেশের জন্য সরকার নির্ধারিত খরচ ঠিক কত, সেটা BMET বা BOESL-এর ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এর চেয়ে বেশি টাকা কেউ দাবি করলে সেটা প্রতারণার লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়াই ভালো।

তুলনার জন্য বলা যায়, দালাল বা অবৈধ পথে গেলে একই দেশে যেতে খরচ ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, যেখানে সরকারি পথে সেই খরচের একটা বড় অংশ বেঁচে যায়। তাই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় বেছে নিলে শুধু নিরাপত্তাই নয়, পকেটের টাকাও অনেকটা সাশ্রয় হয়।

সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কতদিন সময় লাগে?

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার সময়টা নির্ভর করে কোন দেশে, কোন পদ্ধতিতে আর কত দ্রুত কাগজপত্র জোগাড় হচ্ছে তার ওপর, তাই একদম নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে সাধারণভাবে পুরো প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৩ থেকে ৬ মাস সময় নিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে, যা সাধারণত ১ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে হাতে আসে, তবে ভেরিফিকেশনে দেরি হলে এর চেয়েও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
সরকারি-ভাবে-বিদেশ-যাওয়ার-উপায়
মেডিকেল টেস্ট আর বিএমইটি নিবন্ধন সাধারণত কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু আসল সময় নেয় নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র বা ভিসা অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া। যারা G2G পদ্ধতিতে যেতে চান, তাদের জন্য সময়টা আরও একটু বেশি লাগে, কারণ দুই দেশের সরকারের মধ্যে সার্কুলার প্রকাশ, আবেদন যাচাই আর চূড়ান্ত নির্বাচন, এই ধাপগুলো পার হতেই কয়েক মাস কেটে যায়।

তাই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আর মেডিকেল টেস্টের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো আগেভাগে সেরে রাখলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করতে হয় না, আর দালালের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিও কমে যায়।

সরকারি ভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এখন আর মাত্র দুই-একটা দেশে সীমাবদ্ধ নেই, বরং BOESL-এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি দেশেই নিয়মিত কর্মী পাঠানো হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত আর সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য। এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়াতেও সরকারি পথে কর্মী যাওয়ার সুযোগ আছে, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় EPS প্রোগ্রামের আওতায় লটারির মাধ্যমে কর্মী বাছাই করা হয়।

এগুলো ছাড়াও জর্ডান, জাপান, ব্রুনাই, মরিশাস আর ফিজির মতো দেশেও BOESL মাঝেমধ্যে নিয়োগ সার্কুলার প্রকাশ করে থাকে। কোন দেশে ঠিক কবে সার্কুলার আসবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী এটা ওঠানামা করে। তাই কোন দেশে সুযোগ আছে, সেটা জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিয়মিত BMET আর BOESL-এর ওয়েবসাইট বা "আমি প্রবাসী" অ্যাপে চোখ রাখা।

মনে রাখা জরুরি, একটা নির্দিষ্ট সময়ে সব দেশেই একসাথে সুযোগ থাকে না, বরং কোনো একটা দেশ কিছুদিনের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ রাখতে পারে, আবার নতুন করে চালুও হতে পারে। তাই সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করলে একটামাত্র দেশের ওপর ভরসা না করে, একাধিক সম্ভাবনা মাথায় রেখে সার্কুলার অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সরকারি ভাবে বিদেশে কোন কোন কাজের সুযোগ পাওয়া যায়?

সরকারি ভাবে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের বেশিরভাগই সাধারণত শ্রমনির্ভর কাজেই নিয়োজিত হন, কারণ এই খাতেই চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, ফ্যাক্টরি শ্রমিক, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং সিকিউরিটি গার্ডের মতো পদগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই ধরনের কাজের চাহিদা সারা বছরই থাকে।

যাদের নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতা আছে, তাদের জন্য সুযোগ আরও ভালো। যেমন ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, প্লাম্বিং, ড্রাইভিং বা মেকানিক্যাল কাজে দক্ষ কর্মীদের সাধারণ শ্রমিকদের চেয়ে বেশি বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার EPS প্রোগ্রামে মূলত ফ্যাক্টরি ও উৎপাদন খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়া হয়, আবার কিছু দেশে নার্সিং বা টেকনিক্যাল পদের জন্যও আলাদা সার্কুলার প্রকাশিত হয়।

এছাড়া কিছু দেশে নারী কর্মীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রাখা হয়, যেমন জর্ডানের গার্মেন্টস খাতে নারী কর্মীদের নিয়োগ তুলনামূলক বেশি হয়। মোটকথা, সরকারি ভাবে বিদেশে যাওয়ার সময় নিজের দক্ষতা অনুযায়ী সঠিক খাত বেছে নিতে পারলে শুধু চাকরি পাওয়াই সহজ হয় না, বেতনও অনেকটা ভালো পাওয়া যায়।

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন

বিদেশ যাওয়ার আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো যে প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, তার লাইসেন্স যাচাই করা। BMET-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে এজেন্সির নিবন্ধন নম্বর দিয়ে খুঁজলেই বোঝা যায় সেটা বৈধ কিনা। কেউ যদি লাইসেন্সহীন এজেন্সি বা ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে বলে, সেটাকে বিপদের সংকেত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত।
সরকারি-ভাবে-বিদেশ-যাওয়ার-উপায়
চাকরির প্রস্তাব বা অফার লেটার হাতে পেলে সেটাও একা একা বিশ্বাস না করে BMET-এর মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া দরকার। বেতন, কাজের ধরন, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আর চুক্তির মেয়াদ, এসব বিষয় স্পষ্টভাবে চুক্তিপত্রে লেখা আছে কিনা ভালোভাবে পড়ে দেখতে হবে। স্বাক্ষর করার আগে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটা শর্ত বুঝে নেওয়াই নিরাপদ, কারণ পরে সমস্যা হলে এই কাগজটাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি ভাবে বিদেশ গেলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খরচ কম আর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকে। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সংশ্লিষ্টতা না থাকায় সরকার নির্ধারিত ফি-এর বাইরে বাড়তি টাকা দিতে হয় না, ফলে পরিবারের সঞ্চয় বা ঋণের টাকা অহেতুক নষ্ট হয় না।

বিদেশে গিয়ে কোনো বিপদে পড়লে দূতাবাস বা সরকারি সংস্থার সহায়তা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটাই সরকারি নথিভুক্ত থাকে। বেতন না পাওয়া, চুক্তি ভঙ্গ বা নিয়োগকর্তার হয়রানির মতো সমস্যায় পড়লে অভিযোগ জানানোর একটা বৈধ পথ থাকে, যা দালালের মাধ্যমে গেলে সাধারণত পাওয়াই যায় না।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নেওয়া যায়, প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের নানা সুবিধা পাওয়া যায়, আর দেশে ফিরলে পুনর্বাসনেও সরকার পাশে থাকে। কিন্তু এসব সুযোগ পান শুধু তারাই, যারা বৈধ পথে গেছেন। তাই সরকারি ভাবে বিদেশ গেলে শুধু যাওয়াটাই নিরাপদ হয় না, পুরো সময়টাতেই একটা নিরাপত্তা থেকে যায়, বিদেশে থাকা অবস্থায়ও, দেশে ফেরার পরও।

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়া নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ বিএমইটি নিবন্ধনের ফি কত?

উত্তরঃ মাত্র ২০০ টাকা। "আমি প্রবাসী" অ্যাপে বিকাশ, রকেট বা নগদ দিয়ে ঘরে বসেই এই ফি দিয়ে দেওয়া যায়, বাড়তি কোনো খরচ নেই।

প্রশ্নঃ বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ছাড়া কি বিদেশ যাওয়া যায়?

উত্তরঃ না, একদমই না। কাজের জন্য বিদেশ যেতে হলে এই কার্ড থাকতেই হবে, নইলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনই পার হওয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ পাসপোর্ট ছাড়া কি বিএমইটি নিবন্ধন করা যায়?

উত্তরঃ না। আগে বৈধ পাসপোর্ট বানাতে হবে, তারপরই বিএমইটি নিবন্ধনের কাজ শুরু করা যায়।

প্রশ্নঃ সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে বয়স কত হতে হয়?

উত্তরঃ সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হলেই চলে, তবে দেশ আর কাজের ধরন অনুযায়ী এই সীমা একটু ওঠানামা করতে পারে।

প্রশ্নঃ টাকা না থাকলে কীভাবে বিদেশ যাব?

উত্তরঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে জামানত ছাড়াই ঋণ নেওয়া যায়, সুদও থাকে মাত্র ৯% পর্যন্ত। বৈধ ভিসা আর BMET স্মার্ট কার্ড থাকলেই আবেদন করা যায়।

প্রশ্নঃ এজেন্সি বৈধ কিনা বুঝব কীভাবে?

উত্তরঃ BMET-এর ওয়েবসাইটে এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর দিয়ে সহজেই যাচাই করা যায়। বৈধ এজেন্সি সরকার নির্ধারিত ফি-এর বেশি এক টাকাও চাইতে পারে না।

প্রশ্নঃ G2G পদ্ধতিতে গেলে কি খরচ কম পড়ে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, অনেকটাই কম পড়ে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় খরচ সবচেয়ে কম হয়, তবে এই পথে একটু বেশি সময় লাগতে পারে।

শেষ কথাঃসরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

বিদেশ যাওয়া মানেই দালালের হাত ধরা নয়। সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় জানা থাকলে নিজের তথ্য নিজেই যাচাই করে, কম খরচে আর নিরাপদে বিদেশে পাড়ি জমানো যায়। BMET নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ আর সময়, সবকিছু আগে থেকে জানা থাকলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো বা প্রতারণার শিকার হতে হয় না।

তাই বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সবার আগে "আমি প্রবাসী" অ্যাপ বা BMET-এর ওয়েবসাইট ঘুরে দেখুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন আর কোনো এজেন্সির মাধ্যমে গেলে তার লাইসেন্স যাচাই করে নিন। ধৈর্য ধরে সঠিক নিয়ম মেনে এগোলে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াটা মোটেও কঠিন কিছু না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url