২২তম বিসিএস প্রশ্ন সমাধান সম্পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ
১. বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তির মেয়াদ---
ক) ১০ বছর
খ) ২০ বছর
গ) ২৫ বছর
ঘ) ৩০ বছর
সঠিক উত্তরঃ ঘ) ৩০ বছর
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া এই চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তিটির মোট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ বছর, যা ১৯৯৬ থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
২. বাংলাদেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প কোনটি?
ক) পাট
খ) তৈরি পোশাক
গ) চা
ঘ) মাছ
সঠিক উত্তরঃ খ) তৈরি পোশাক
সহজ ব্যাখ্যাঃ আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো গার্মেন্টস শিল্প বা তৈরি পোশাক খাত (RMG)। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে এটিই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত এবং সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার অর্জনের মূল উৎস।
৩. কুমিল্লা বার্ড (BARD)-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক) মোহাম্মদ আইয়ুব খান
খ) আখতার হামিদ খান
গ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ঘ) এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তরঃ খ) আখতার হামিদ খান
সহজ ব্যাখ্যাঃ BARD-এর পূর্ণ রূপ হলো Bangladesh Academy for Rural Development (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি)। ১৯৫৯ সালে কুমিল্লার কোটবাড়িতে বিখ্যাত সমাজকর্মী ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ড. আখতার হামিদ খানের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রামীণ জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
৪. ছয়-দফা দাবি প্রথম কোথায় উত্থাপন করা হয়?
ক) ঢাকায়
খ) লাহোরে
গ) করাচিতে
ঘ) নারায়ণগঞ্জে
সঠিক উত্তরঃ খ) লাহোরে
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলগুলোর একটি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়-দফা দাবি' পেশ করেন। এই ছয়-দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
৫. বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
ক) কর্নওয়ালিস
খ) ক্লাইভ
গ) জন মেয়ার
ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তরঃ ক) কর্নওয়ালিস
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস এই দেশে জমিদারি প্রথা বা 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' চালু করেন। এই ব্যবস্থার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল 'সূর্যাস্ত আইন' অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের আগে জমিদারদেরকে সরকারের কোষাগারে খাজনা জমা দিতে হতো, তা না হলে জমিদারি নিলামে উঠে যেত।
৬. বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা কোনটি?
ক) দিনাজপুর
খ) ঠাকুরগাঁও
গ) লালমনিরহাট
ঘ) পঞ্চগড়
সঠিক উত্তরঃ ঘ) পঞ্চগড়
সহজ ব্যাখ্যাঃ মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের একেবারে মাথায় বা উত্তরপ্রান্তে যে জেলাটি অবস্থিত, তার নাম 'পঞ্চগড়'। এই জেলার বিখ্যাত 'তেঁতুলিয়া' হলো বাংলাদেশের সর্ব-উত্তরের উপজেলা এবং সেখানকার 'বাংলাবান্ধা' হলো আমাদের দেশের একেবারে শেষ সীমানা বা সর্ব-উত্তরের স্থান।
৭. সিলেট কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
ক) আড়িয়াল খাঁ
খ) সুরমা
গ) চন্দনা
ঘ) রূপসা
সঠিক উত্তরঃ খ) সুরমা
সহজ ব্যাখ্যাঃ চায়ের দেশ ও আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত আমাদের ঐতিহ্যবাহী সিলেট অঞ্চলটি অত্যন্ত সুন্দর ও মিষ্টি নদী 'সুরমা'-র তীরে গড়ে উঠেছে। (বাকি অপশনগুলোর মধ্যে রূপসা নদী খুলনা শহরের পাশে এবং আড়িয়াল খাঁ নদী মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে)।
৮. বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
ক) ময়নামতি
খ) সোনারগাঁও
গ) ঢাকা
ঘ) পাহাড়পুর
সঠিক উত্তরঃ খ) সোনারগাঁও
সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলার প্রাচীন রাজধানী নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী 'সোনারগাঁও'-এ এই লোকশিল্প জাদুঘরটি অবস্থিত। ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিশেষ আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় আমাদের গ্রামীণ মানুষের তৈরি প্রাচীন জিনিসপত্র, শিল্প ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। একে 'সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর' বলা হয়।
৯. বাংলাদেশের বিখ্যাত মণিপুরী নাচ কোন অঞ্চলের?
ক) রাঙামাটি
খ) রংপুর
গ) কুমিল্লা
ঘ) সিলেট
সঠিক উত্তরঃ ঘ) সিলেট
সহজ ব্যাখ্যাঃ সিলেটের মৌলভীবাজার ও আশেপাশের অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী 'মণিপুরী' সম্প্রদায়ের নিজস্ব ও অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন একটি ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের নাম হলো মণিপুরী নাচ। তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের এই বিশেষ নাচটি এখন দেশ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত ও জনপ্রিয়।
১০. মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
ক) আট
খ) দশ
গ) এগার
ঘ) পনের
সঠিক উত্তরঃ গ) এগার
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পুরো দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ, সামরিক কৌশল পরিচালনা এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে সহজে পরাস্ত করার সুবিধার্থে সারা বাংলাদেশকে মোট ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চল বা 'সেক্টর'-এ ভাগ করা হয়েছিল।
১১. ইসলামী সম্মেলন সংস্থার প্রধান কার্যালয় কোথায়?
ক) তেহরান
খ) জেদ্দা
গ) কায়রো
ঘ) রিয়াদ
সঠিক উত্তরঃ খ) জেদ্দা
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইসলামী সম্মেলন সংস্থা বা সংক্ষেপে OIC (Organization of Islamic Cooperation) হলো বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংগঠন। ১৯৬৯ সালে গঠিত এই বিশেষ সংস্থাটির মূল বা প্রধান কার্যালয় (সদর দপ্তর) সৌদি আরবের বাণিজ্যিক শহর 'জেদ্দা'-তে অবস্থিত।
১২. বাংলাদেশ কত সালে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
ক) ১৯৭২ সালে
খ) ১৯৭৩ সালে
গ) ১৯৭৪ সালে
ঘ) ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তরঃ গ) ১৯৭৪ সালে
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি (OIC)-এর একটি ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সম্মেলনে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। (বর্তমানে এই সংস্থার নাম পরিবর্তন করে 'ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা' রাখা হয়েছে)।
১৩. অমর্ত্য সেন কোন বিষয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পান?
ক) দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য
খ) উন্নয়নের গতিধারা
গ) মাইক্রোক্রেডিট
ঘ) বৈদেশিক সাহায্য
সঠিক উত্তরঃ ক) দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য
সহজ ব্যাখ্যাঃ বিখ্যাত বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি মূলত সমাজে কেন দুর্ভিক্ষ হয় এবং দারিদ্র্যের পেছনের আসল কারণগুলো কী তা নিয়ে গভীর গবেষণা ও মানবকল্যাণমূলক তত্ত্ব দিয়েছিলেন, যা পুরো বিশ্বে 'কল্যাণ অর্থনীতি' হিসেবে সমাদৃত।
১৪. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM)-এর আগামী শীর্ষ সম্মেলন কোন শহরে অনুষ্ঠিত হবে?
ক) দিল্লী
খ) ডারবান
গ) ঢাকা
ঘ) জাকার্তা
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃএই প্রশ্নটি ২০০১ সালের পরীক্ষার সময়কালের একটি সমসাময়িক (Current Affairs) প্রশ্ন ছিল। ডারবানে ১৯৯৮ সালে ১২শ সম্মেলন হওয়ার পর তৎকালীন প্রেক্ষাপটে পরবর্তী সম্মেলনের স্থান নিয়ে প্রশ্নটি করা হয়েছিল। ব্লগের পাঠকদের আপডেটেড রাখার জন্য বর্তমান বা সাম্প্রতিকতম ন্যাম (NAM) সম্মেলনের সময়কাল ও স্থানটি জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
১৫. উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC)-এর সদস্য সংখ্যা কত?
ক) ৬
খ) ৭
গ) ৮
ঘ) ৫
সঠিক উত্তরঃ ক) ৬
সহজ ব্যাখ্যাঃ GCC-এর পূর্ণ রূপ হলো Gulf Co-operation Council। মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬টি ধনী ও তেল সমৃদ্ধ মুসলিম দেশ নিয়ে ১৯৮১ সালে এই অর্থনৈতিক জোটটি গঠন করা হয়। সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। এর সদর দপ্তর সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত।
১৬. BIMSTEC কি ধরনের সংগঠন?
ক) রাজনৈতিক
খ) অর্থনৈতিক
গ) বাণিজ্যিক
ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তরঃ খ) অর্থনৈতিক
সহজ ব্যাখ্যাঃ BIMSTEC (বেঙ্গলোপসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট) হলো মূলত একটি আঞ্চলিক 'অর্থনৈতিক' ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংস্থা। ১৯৯৭ সালে গঠিত এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো বঙ্গোপসাগরের আশেপাশের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পর্যটন ও অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়ন করা। এর স্থায়ী সদর দপ্তর আমাদের ঢাকা শহরে অবস্থিত।
১৭. সার্ক কোন সালে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৯৮৫ সালে ঢাকায়
খ) ১৯৮৩ সালে দিল্লীতে
গ) ১৯৮৪ সালে কলম্বোতে
ঘ) ১৯৮৬ সালে মালেতে
সঠিক উত্তরঃ ক) ১৯৮৫ সালে ঢাকায়
সহজ ব্যাখ্যাঃ দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের (বর্তমানে ৮টি) আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর আমাদের রাজধানী 'ঢাকা'-তে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্ক (SAARC) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এই সংস্থাটি গঠনে তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রধান ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৮. জাতিসংঘের বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত?
ক) ১৯৫
খ) ১৮৯
গ) ১৭০
ঘ) ১৭৫
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এটিও ২০০১ সালের প্রেক্ষাপটের প্রশ্ন, যখন সদস্য সংখ্যা কম ছিল। তবে বর্তমানের সঠিক ও আপডেটেড তথ্য হলো জাতিসংঘের বর্তমান মোট সদস্য দেশ ১৯৩টি। ২০১১ সালের ১৪ জুলাই সর্বশেষ 'দক্ষিণ সুদান' (South Sudan) ১৯৩তম দেশ হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
১৯. বাংলাদেশ কতবার স্বস্তি পরিষদের সদস্যপদ লাভ করে?
ক) ২ বার
খ) ৩ বার
গ) ১ বার
ঘ) ৪ বার
সঠিক উত্তরঃ ক) ২ বার
সহজ ব্যাখ্যাঃ জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা হলো 'স্বস্তি পরিষদ' বা নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council)। বাংলাদেশ এই নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে এ পর্যন্ত মোট দুইবার দায়িত্ব পালন করার গৌরব অর্জন করেছে। প্রথমবার ১৯৭৯-১৯৮০ মেয়াদে এবং দ্বিতীয়বার ২০০০-২০০১ মেয়াদে।
২০. বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিসন সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত?
ক) ১৩৬
খ) ১৩৭
গ) ১৩৮
ঘ) ১৪০ (২)
সঠিক উত্তরঃ খ) ১৩৭
সহজ ব্যাখ্যাঃ সরকারি চাকুরিতে যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্বে থাকা 'বিসিএস' পরীক্ষার মূল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হলো বিপিএসসি (BPSC)। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলেই এই স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি বা 'সরকারি কর্ম কমিশন' গঠন করা হয়েছে।
২১. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের কোথায় বাংলা ভাষায় বক্তৃতা প্রদান করেন?
ক) স্বস্তি পরিষদে
খ) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে
গ) ইকোসোকে (ECOSOC)
ঘ) ইউনেস্কোতে (UNESCO)
সঠিক উত্তরঃ খ) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে
সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি বাঙালি জাতির জন্য অন্যতম এক গর্বের ইতিহাস। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের 'সাধারণ পরিষদের' (UN General Assembly) ২৯তম অধিবেশনে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মায়ের ভাষা 'বাংলায়' তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন।
২২. মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
ক) জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
গ) ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান
ঘ) ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তরঃ খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। (অন্যদিকে যৌথ বাহিনীর পক্ষে ভারতের লেফট্যানেন্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তানের পক্ষে জেনারেল নিয়াজী এই আত্মসমর্পণ দলিলে সই করেন)।
২৩. রাশিয়ার কুরস্ক নামক সাবমেরিনটির ওজন কত টন?
ক) ১২,৮০০ টন
খ) ১৩,৯০০ টন
গ) ১৪,২০০ টন
ঘ) ১৫,০০০ টন
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এটি ২০০০ সালের একটি অত্যন্ত আলোচিত আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডির ওপর ভিত্তি করে আসা সমসাময়িক প্রশ্ন। ২০০০ সালের ১২ আগস্ট রাশিয়ার পরমাণু শক্তিচালিত শক্তিশালী সাবমেরিন 'কুরস্ক' বেরেন্টস সাগরে এক মহড়ার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ডুবে যায় এবং এর ১১৮ জন ক্রু-র সকলেই মারা যান। মূল সাবমেরিনটির ওজন ছিল প্রায় ২৪,০০০ টন।
২৪. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ কোনটি?
ক) সুইডেন
খ) নাইজেরিয়া
গ) বাংলাদেশ
ঘ) ভারত
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এটি ২০০১ সালের সূচক অনুযায়ী আসা একটি অত্যন্ত পুরোনো ডেটা ভিত্তিক প্রশ্ন। তৎকালীন সময়ে (২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকায় এসেছিল। তবে তোমার ব্লগের পাঠকদের মনে রাখতে হবে, এটি একটি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক সূচক এবং প্রতি বছরই নতুন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকা আপডেট করা হয়।
২৫. 'বিশ্বের জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০০০' রিপোর্ট অনুসারে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে কোন দেশ?
ক) পাকিস্তান
খ) কেনিয়া
গ) পাপুয়া নিউগিনি
ঘ) বাংলাদেশ
সঠিক উত্তরঃ গ) পাপুয়া নিউগিনি
সহজ ব্যাখ্যাঃ জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) কর্তৃক প্রকাশিত ২০০০ সালের বৈশ্বিক জনসংখ্যা পরিস্থিতি ও নারী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী নারী নির্যাতনের হারের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে ছিল ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ 'পাপুয়া নিউগিনি'।
২৬. ২০০০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন কে?
ক) প্রেসিডেন্ট কিম দায় জং
খ) হোমস জে হেকম্যান
গ) গাও সিংজিয়ান
ঘ) এরিক ক্যান্ডেল
সঠিক উত্তরঃ ক) প্রেসিডেন্ট কিম দায় জং
সহজ ব্যাখ্যাঃ দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম দায় জং (Kim Dae-jung) উত্তর কোরিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করা, কোরিয়ান উপদ্বীপে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পেছনে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ২০০০ সালে শান্তিতে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
২৭. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি?
ক) আফ্রিকা
খ) ইউরোপ
গ) এশিয়া
ঘ) উত্তর আমেরিকা
সঠিক উত্তরঃ গ) এশিয়া
সহজ ব্যাখ্যাঃ আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয় দিক থেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বা বৃহত্তম মহাদেশ হলো আমাদের এই 'এশিয়া মহাদেশ'। পুরো পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৩০% এলাকা জুড়ে রয়েছে এই মহাদেশ এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এই অঞ্চলেই বসবাস করে।
২৮. আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
ঘ) ২৫ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তরঃ ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে কুষ্টিয়ার মুজিবনগরে তৎকালীন স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' (Proclamation of Independence) জারি করে এবং এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। (পরবর্তীতে ১৭ এপ্রিল এই মুজিবনগর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিল)।
২৯. হেলসিঙ্কি কোন দেশের রাজধানী?
ক) সুইডেন
খ) নরওয়ে
গ) ফিনল্যান্ড
ঘ) পোল্যান্ড
সঠিক উত্তরঃ গ) ফিনল্যান্ড
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইউরোপের হাজার হ্রদের দেশ এবং সুখের দেশ হিসেবে পরিচিত 'ফিনল্যান্ড'-এর রাজধানীর নাম হলো 'হেলসিঙ্কি'। (বাকি অপশনগুলোর মধ্যে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম, নরওয়ের রাজধানী অসলো এবং পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ)।
৩০. কোন আরব দেশ সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
ক) ইরাক
খ) মিশর
গ) কুয়েত
ঘ) জর্ডান
সঠিক উত্তরঃ ক) ইরাক
সহজ ব্যাখ্যাঃ মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে 'ইরাক' বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। (তবে ওপারেশনের দিক থেকে যদি বলা হয় 'প্রথম মুসলিম দেশ কোনটি?' তবে উত্তর হবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেঁনেগাল, যারা ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি দেয়)।
৩১. সোনালী আঁশের দেশ কোনটি?
ক) ভারত
খ) শ্রীলঙ্কা
গ) পাকিস্তান
ঘ) বাংলাদেশ
সঠিক উত্তরঃ ঘ) বাংলাদেশ
সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের 'পাট' এবং পাটজাত পণ্যের এক বিশাল ঐতিহ্য ও সুখ্যাতি রয়েছে। এ দেশে উৎপাদিত সোনালী রঙের উচ্চমানের পাটের কারণেই আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে পরম মমতায় 'সোনালী আঁশের দেশ' বলা হয়ে থাকে।
৩২. বাংলা একাডেমির মূল ভবনের নাম কি ছিল?
ক) বর্ধমান হাউজ
খ) বাংলা ভবন
গ) আহসান মঞ্জিল
ঘ) চামেলী হাউজ
সঠিক উত্তরঃ ক) বর্ধমান হাউজ
সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু 'বাংলা একাডেমি' ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির যে মূল বা ঐতিহাসিক লাল রঙের ভবনটি রয়েছে, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে সেটির নাম ছিল 'বর্ধমান হাউজ' (যা ছিল বর্ধমানের মহারাজার কলকাতার বাইরের একটি বাড়ি এবং পরে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন হয়েছিল)।
৩৩. ঢাকা বিভাগে কয়টি জেলা আছে?
ক) ১৫টি
খ) ১৭টি
গ) ১৪টি
ঘ) ১৯টি
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই প্রশ্নটি ২০০১ সালের পরীক্ষার সময়কালের। ২০১৫ সালে ঢাকা বিভাগের ৪টি জেলা (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা) নিয়ে আলাদা 'ময়মনসিংহ বিভাগ' গঠন করা হয়। তাই বর্তমানে ঢাকা বিভাগে মোট ১৩টি জেলা রয়েছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী।
৩৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
ক) ১৯০৫ সালে
খ) ১৯১১ সালে
গ) ১৯৩৫ সালে
ঘ) ১৯২১ সালে
সঠিক উত্তরঃ ঘ) ১৯২১ সালে
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে রদ বা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, পূর্ববঙ্গের মানুষের ক্ষোভ প্রশমন ও শিক্ষার আলো ছড়াতে ব্রিটিশ সরকার এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই লক্ষ্যে ১৯১২ সালে নাথান কমিশন গঠিত হয় এবং ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় বিশাল জমি দান করেন। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তার গৌরবময় যাত্রা শুরু করে। একে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়।
৩৫. সুইডেনের মুদ্রার নাম কি?
ক) পাউন্ড
খ) ডলার
গ) ক্রোনা
ঘ) পেসো
সঠিক উত্তরঃ গ) ক্রোনা
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অন্যতম সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও সুইডেন কিন্তু তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী মুদ্রা 'ইউরো' গ্রহণ করেনি। সুইডেনের সরকারি মুদ্রার নাম হলো 'ক্রোনা' (Krona)। (অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে পাউন্ড, যুক্তরাষ্ট্রে ডলার এবং ফিলিপাইন ও মেক্সিকোতে পেসো প্রচলিত আছে)।
৩৬. NAM-এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত?
ক) ১০০
খ) ১১০
গ) ১১৪
ঘ) ১১০
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এটি ২০০১ সালের প্রেক্ষাপটের একটি পুরোনো ডেটা ভিত্তিক প্রশ্ন। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম (NAM) একটি গতিশীল আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং এর সদস্য সংখ্যা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১১ সালে আজারবাইজান ও ফিজি যোগ দেওয়ার পর এর সদস্য সংখ্যা ১২০-এ উন্নীত হয় এবং বর্তমানে এর সদস্য দেশ ১২১টি।
৩৭. কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট যে অট্টালিকায় অবস্থিত তার নাম কি?
ক) মার্লবোরো হাউজ
খ) হোয়াইট হাউজ
গ) বাকিংহাম প্রাসাদ
ঘ) দি চেকার্স
সঠিক উত্তরঃ ক) মার্লবোরো হাউজ
সহজ ব্যাখ্যাঃ কমনওয়েলথ হলো মূলত অতীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা স্বাধীন দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এই সংস্থার প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র বা সদর দপ্তরটি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি ঐতিহাসিক ও রাজকীয় অট্টালিকায় অবস্থিত, যার নাম 'মার্লবোরো হাউজ' (Marlborough House)। (অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বাসভবন এবং বাকিংহাম প্রাসাদ হলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের মূল বাসভবন)।
৩৮. সতীদাহ প্রথা কবে রহিত হয়?
ক) ১৮১৯ সালে
খ) ১৮২৯ সালে
গ) ১৮৩৯ সালে
ঘ) ১৮৪৯ সালে
সঠিক উত্তরঃ খ) ১৮২৯ সালে
সহজ ব্যাখ্যাঃ সতীদাহ প্রথা ছিল প্রাচীন হিন্দু সমাজের একটি অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুর নিয়ম, যেখানে স্বামী মারা গেলে তাঁর জ্বলন্ত চিতায় জীবন্ত স্ত্রীকে জোরপূর্বক পুড়িয়ে মারা হতো। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায় তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর আইনিভাবে এই 'সতীদাহ প্রথা' চিরতরে নিষিদ্ধ বা রহিত করেন।
৩৯. প্রথম সাফ গেমসে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
ক) ঢাকা
খ) নয়াদিল্লী
গ) কলম্বো
ঘ) কাঠমাণ্ডু
সঠিক উত্তরঃ ঘ) কাঠমাণ্ডু
সহজ ব্যাখ্যাঃ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অলিম্পিক বা সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব হলো সাফ গেমস (যা বর্তমানে সাউথ এশিয়ান গেমস বা SA Games নামে পরিচিত)। ১৯৮৪ সালে নেপালের রাজধানী 'কাঠমাণ্ডু'-তে এই গেমসের প্রথম আসরটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ দুটি স্বর্ণপদক জয় করেছিল।
৪০. দহগ্রাম ছিটমহল কোন জেলায় অবস্থিত?
ক) নীলফামারী
খ) কুড়িগ্রাম
গ) লালমনিরহাট
ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তরঃ গ) লালমনিরহাট
সহজ ব্যাখ্যাঃ দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও বিখ্যাত ছিটমহল, যা ভৌগোলিক ও প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশের 'লালমনিরহাট' জেলার অংশ। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ভেতরের অন্য সব ছিটমহল বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, দহগ্রাম কিন্তু শুরু থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে যুক্ত ছিল এবং এর যাতায়াতের জন্য 'তিনবিঘা করিডোর' ব্যবহার করা হয়।
৪১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কার রচনা?
ক) দীনেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তরঃ ক) দীনেশচন্দ্র সেনগুপ্ত (দীনেশচন্দ্র সেন)
সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসকে সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম সফল ও অসাধারণ কাজটি করেছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. দীনেশচন্দ্র সেন। ১৮৯৬ সালে তাঁর রচিত 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও উল্লেখযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। মৈমনসিংহ গীতিকা সম্পাদনার জন্যও তিনি বিখ্যাত।
৪২. 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ) মুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তরঃ খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশ্বখ্যাত ভাষাবিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে খুব বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক উপায়ে বিশ্লেষণ করে ১৯৩৯ সালে এই 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' বইটি লিখেছিলেন। (অন্যান্যদের মধ্যে বিদ্যাসাগর মহাশয় লিখেছেন 'ব্যাকরণ কৌমুদী' আর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখেছেন 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ')।
৪৩. 'পদাবলী'-র প্রথম কবি কে?
ক) শ্রীচৈতন্য
খ) বিদ্যাপতি
গ) চণ্ডীদাস
ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তরঃ খ) বিদ্যাপতি
সহজ ব্যাখ্যাঃ মধ্যযুগে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে যে চমৎকার গান বা কবিতাগুলো লেখা হতো, সেগুলোকে 'পদাবলী' বলা হয়। মৈথিলী কোকিল খ্যাত মহাকবি বিদ্যাপতি হলেন এই পদাবলীর আদি বা প্রথম কবি। যদিও তিনি বাঙালি ছিলেন না (বিহারের মিথিলার কবি ছিলেন), তবুও তাঁর মিষ্টি ব্রজবুলি ভাষার পদগুলো বাঙালিদের হৃদয় জয় করে নিয়েছিল।
৪৪. দোভাষী পুঁথি বলতে কি বোঝায়?
ক) দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
খ) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
গ) তৈরি করা কৃত্রিম ভাষায় রচিত পুঁথি
ঘ) আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি
সঠিক উত্তরঃ খ) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
সহজ ব্যাখ্যাঃ নামের মধ্যে 'দোভাষী' থাকলেও এটি কিন্তু কেবল দুটি ভাষার পুঁথি নয়। মধ্যযুগের শেষের দিকে মুসলিম কবিরা বাংলা ভাষার সাথে আরবী, ফারসী, উর্দু এবং তুর্কি ভাষার শব্দ চমৎকারভাবে মিশিয়ে এক ধরনের মিশ্র ভাষার জন্ম দেন। এই বিশেষ মিশ্র ভাষায় মানুষের বিনোদনের জন্য যে রূপকথা, যুদ্ধ বা ধর্মীয় বীরত্বের গল্প লেখা হতো, সেগুলোকে বলা হয় 'দোভাষী পুঁথি' বা 'মিশ্র ভাষার পুঁথি'।
৪৫. 'সঞ্চয়িতা' কোন কবির কাব্য সংকলন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তরঃ ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সারাজীবনের সেরা ও বিখ্যাত কবিতা এবং গানগুলোর একটি বিশাল সংগ্রহ বা নির্বাচিত সংকলন হলো 'সঞ্চয়িতা'। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা একটি অমনিবাস। (মনে রাখার সহজ ট্রিক: রবীন্দ্রনাথের হলো 'সঞ্চয়িতা' আর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলনের নাম 'সঞ্চিতা')।
৪৬. রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থটি নাটক?
ক) চোখের বালি
খ) বলাকা
গ) ঘরে-বাইরে
ঘ) রক্তকরবী
সঠিক উত্তরঃ ঘ) রক্তকরবী
সহজ ব্যাখ্যাঃ 'রক্ষকরবী' (১৯২৪) হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিশ্বখ্যাত প্রতীকী ও রূপক নাটক। এটি মূলত লোভী রাজা এবং যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মানবিক অধিকার ও প্রেমের বিজয়ের গল্প। (বাকি অপশনগুলোর মধ্যে 'চোখের বালি' ও 'ঘরে-বাইরে' তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস, আর 'বলাকা' হলো কাব্যগ্রন্থ)।
৪৭. কোন কবিতা রচনার কারণে নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল?
ক) বিদ্রোহী
খ) আনন্দময়ীর আগমনে
গ) কাণ্ডারী হুশিয়ার
ঘ) অগ্রপথিক
সঠিক উত্তরঃ খ) আনন্দময়ীর আগমনে
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯২২ সালে কবি নজরুলের নিজস্ব 'ধূমকেতু' পত্রিকায় ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিয়ে তিনি 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটি প্রকাশ করেন। এই কবিতায় ক্ষিপ্ত হয়ে তৎকালীন অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকার কবিকে রাজদ্রোহের অপরাধে গ্রেপ্তার করে এবং বিচারে তাঁর এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।
৪৮. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত লেখা কোনটি?
ক) বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনীব
খ) মুক্তি
গ) হেবা
ঘ) বিদ্রোহী
সঠিক উত্তরঃ ক) বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯১৯ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসে তৎকালীন বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা 'সওগাত'-এ নজরুল ইসলামের প্রথম গদ্য বা গল্প 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল মুদ্রণ আকারে সাধারণ মানুষের সামনে আসা কবির জীবনের প্রথম সাহিত্য সৃষ্টি। (আর যদি প্রশ্ন করা হয় কবির প্রথম প্রকাশিত 'কবিতা' কোনটি, তবে উত্তর হবে 'মুক্তি')।
৪৯. 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
ক) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
গ) কাজী আব্দুল ওদুদ
ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তরঃ ক) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯১৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রখ্যাত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'সওগাত'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (যাঁকে সওগাত মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনও বলা হয়)। তৎকালীন সময়ে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে কুসংস্কার মুক্ত করতে এবং নতুন নতুন লেখক তৈরি করতে এই পত্রিকাটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।
৫০. 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটির কবি কে?
ক) ফররুখ আহমদ
খ) আহসান হাবিব
গ) শামসুর রাহমান
ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তরঃ ক) ফররুখ আহমদ
সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা সাহিত্যে 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' হিসেবে পরিচিত ফররুখ আহমদ। ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম এবং সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো 'সাত সাগরের মাঝি'। এই বইয়ের কবিতাগুলোতে তিনি রূপক ও প্রতীকের মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া সমাজকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
৫১. 'পথের দাবী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) সত্যেন সেন
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তরঃ ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সহজ ব্যাখ্যাঃ অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও রাজনৈতিক ঘরানার উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' (১৯২৬)। এই উপন্যাসে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী চরিত্রের উপস্থিতি থাকায় এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বইটি প্রকাশের পর পরই নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
৫২. 'অপলাপ' শব্দের অর্থ কি?
ক) অস্বীকার
খ) মিথ্যা
গ) প্রলাপ
ঘ) অসদালাপ
সঠিক উত্তরঃ ক) অস্বীকার
সহজ ব্যাখ্যাঃ 'অপলাপ' শব্দটির আক্ষরিক বা মূল অর্থ হলো কোনো সত্য জিনিসকে লুকিয়ে ফেলা, গোপন করা কিংবা সরাসরি 'অস্বীকার' করা। যেমনঃ "সত্যকে অপলাপ করে লাভ নেই", অর্থাৎ সত্যকে অস্বীকার বা গোপন করা যায় না।
৫৩. পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?
ক) লাচাড়ী ছন্দে রচিত পদ্য বা কবিতাবলী
খ) পদাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা
গ) বাউল বা মরমী গীতি
ঘ) বৌদ্ধ বা বৈষ্ণব ধর্মের গূঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি
সঠিক উত্তরঃ খ) পদাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা
সহজ ব্যাখ্যাঃ মধ্যযুগে দেব-দেবী বা রাধাকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক প্রেম ও মহিমাকে কেন্দ্র করে ছোট ছোট চরণে বা পদে যে সুন্দর ও সুরেলা কবিতা বা গান রচনা করা হতো, সেগুলোকে 'পদাবলী' বলা হয়। যেমন বৈষ্ণব পদাবলী বা চর্যাপদের পদগুলো।
৫৪. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক) কারা রচনা করেন?
ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ আলী আহসান
খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহাম্মদ আব্দুল হাই
গ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশা
ঘ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তরঃ ঘ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের ইতিহাসকে চমৎকার ও সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক মুহাম্মদ আব্দুল হাই এবং সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক) নামের এই বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থটি রচনা করেন।
৫৫. কোনটি ঠিক?
ক) গোরা (নাট্যগ্রন্থ)
খ) বিদ্রোহী (কাব্যগ্রন্থ)
গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
ঘ) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
সঠিক উত্তরঃ গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
সহজ ব্যাখ্যাঃ এখানে কেবল একটি অপশনের জোড়া সঠিক আছে, সেটি হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস। (বাকিগুলোর মধ্যে 'গোরা' রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, 'বিদ্রোহী' নজরুলের একটি বিখ্যাত কবিতা এবং 'একাত্তরের দিনগুলি' শহীদ জননী জাহানারা ইমামের লেখা একটি স্মৃতিচারণমূলক ডায়েরি বা গ্রন্থ)।
৫৬. কোনটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনী গ্রন্থ?
ক) মরুমায়া
খ) মরু ভাস্কর
গ) মরুতীর্থ
ঘ) মরু কুসুম
সঠিক উত্তরঃ খ) মরু ভাস্কর
সহজ ব্যাখ্যাঃ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী এই অসাধারণ জীবনী গ্রন্থটি রচনা করেন। মরুভূমির প্রখর সূর্যের মতো উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি বইটির নাম দিয়েছিলেন 'মরু ভাস্কর'। (অন্যদিকে 'মরুমায়া' হলো কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কাব্যগ্রন্থ)।
৫৭. পদাবলী লিখেছেন---
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তরঃ ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সহজ ব্যাখ্যাঃ মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীর মিষ্টি ও রাধাকৃষ্ণের প্রেমরসে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এই ধারায় লেখনী ধরেছিলেন। তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধাকৃষ্ণের ভাব অবলম্বনে 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' নামে একটি চমৎকার পদাবলী কাব্য রচনা করেন।
৫৮. 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান'-এর সম্পাদক কে?
ক) মুহাম্মদ আব্দুল হাই
খ) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
গ) মুহাম্মদ এনামুল হক
ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তরঃ ঘ) আহমদ শরীফ
সহজ ব্যাখ্যাঃবাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত 'সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান'-এর মূল প্রধান সম্পাদক ছিলেন প্রখ্যাত গবেষক ও ভাষাবিদ ড. আহমদ শরীফ। (আর যদি প্রশ্ন আসত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান'-এর সম্পাদক কে, তবে উত্তর হতো ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)।
৫৯. 'ভিখুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!'—এই বাক্যের 'কী'-এর অর্থ--
ক) ভয়
খ) রাগ
গ) বিরক্তি
ঘ) বিপদ
সঠিক উত্তরঃ গ) বিরক্তি
সহজ ব্যাখ্যাঃ কোনো কোনো বাক্যে কোনো শব্দের আসল অর্থ না খুঁজে বাক্যের মূল ভাব বা মানুষের মুখের এক্সপ্রেশন বুঝতে হয়। এখানে ভিখারি পেছনে লেগে থাকায় বক্তা খুব বিরক্ত হয়ে বলছেন "কী বিপদ!" তাই এখানে 'কী' শব্দটি দিয়ে মনের তীব্র 'বিরক্তি' প্রকাশ পাচ্ছে।
৬০. 'ঢাকের কাঠি' বাগধারার অর্থ--
ক) সাহায্যকারী
খ) তোষামুদে
গ) বাদক
ঘ) স্বাস্থ্যহীন লোক
সঠিক উত্তরঃ খ) তোষামুদে
সহজ ব্যাখ্যাঃ ঢাক বাজানোর সময় ঢাকের কাঠি যেমন ঢাকের ইশারায় বা তালে তালে চলে, ঠিক তেমনি সমাজে কিছু মানুষ আছেন যারা বড় বা প্রভাবশালী মানুষের ইশারায় চলেন এবং তাদের সবসময় চাটুকারিতা বা তোষামোদ করেন। এই চাটুকার বা তোষামুদে মানুষদেরই বাগধারায় 'ঢাকের কাঠি' বলা হয়।
৬১. Submission : Yielding (অ্যানালজি)
ক) Subjection ... Liberation
খ) Restrain ... Indulge
গ) Compliant ... Acquiescent
ঘ) Restriction ... Relaxation
সঠিক উত্তরঃ গ) Compliant : Acquiescent
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইংরেজি অ্যানালজির এই প্রশ্নটি জোড়ায় জোড়ায় সমার্থক শব্দ বা Synonym-এর লজিকে তৈরি।
প্রশ্নে দেওয়া আছে Submission (কারও কাছে নতি স্বীকার করা বা বশ্যতা) এবং এর সমার্থক শব্দ হলো Yielding (বশ্যতা স্বীকার করা বা মেনে নেওয়া)।
এবার অপশন (গ) খেয়াল করো- Compliant মানে হলো কোনো কিছু সহজে মেনে নেওয়া বা বাধ্য থাকা, আর Acquiescent মানেও হলো কোনো প্রতিবাদ না করে শান্তভাবে মেনে নেওয়া। যেহেতু মূল জোড়ার মতো এই জোড়ার অর্থও হুবহু সমার্থক, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
৬২. Vacillate : Hesitate (অ্যানালজি)
ক) Persevere ... Waiver
খ) Impulsive ... Deliberate
গ) Obstinate ... Accommodating
ঘ) Irresolute ... Indecisive
সঠিক উত্তরঃ ঘ) Irresolute : Indecisive
সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি মূলত সমার্থক শব্দ বা Synonym-এর নিয়মে তৈরি একটি অ্যানালজি।
প্রশ্নে দেওয়া আছে Vacillate যার অর্থ হলো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ইতস্তত করা, আর Hesitate মানেও হলো দ্বিধা করা। অর্থাৎ, শব্দ দুটি একে অপরের সমার্থক।
এবার অপশন (ঘ) খেয়াল করো--Irresolute মানে হলো অস্থিরমতি বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা, আর Indecisive মানেও হলো অনিশ্চিত বা দ্বিধাগ্রস্ত। যেহেতু মূল জোড়ার মতো এই জোড়ার শব্দ দুটিও হুবহু সমার্থক অর্থ প্রকাশ করছে, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
৬৩. Assert : Dissent (অ্যানালজি)
ক) Affirm ... Object
খ) Reject ... Disapprove
গ) Acknowledge ... Recognize
ঘ) Endorse ... Ratify
সঠিক উত্তরঃ ক) Affirm : Object
সহজ ব্যাখ্যাঃ এই অ্যানালজিটি বিপরীতার্থক শব্দ বা Antonym-এর নিয়মে সাজানো হয়েছে।
মূল শব্দ Assert মানে হলো কোনো কিছু দৃঢ়ভাবে দাবি করা বা ঘোষণা করা, আর Dissent মানে হলো ভিন্নমত পোষণ করা বা আপত্তি করা। অর্থাৎ, শব্দ দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী।
এবার অপশন (ক) লক্ষ্য করো-- Affirm মানে হলো কোনো কিছু দৃঢ়ভাবে বা সত্য বলে ঘোষণা করা, আর Object মানে হলো আপত্তি বা বিরোধিতা করা। মূল জোড়ার মতো এই জোড়টিতেও সুন্দর বিপরীত সম্পর্ক বজায় থাকায় এটিই সঠিক উত্তর।
৬৪. Distort : Twist (অ্যানালজি)
ক) Straighten ... Bend
খ) Deform ... Reform
গ) Harmonize ... Balance
ঘ) Observe ... Blur
সঠিক উত্তরঃ গ) Harmonize : Balance
সহজ ব্যাখ্যাঃ এই প্রশ্নটিও সমার্থক শব্দের (Synonym) লজিকে এসেছে।
প্রশ্নে দেওয়া Distort অর্থ হলো কোনো কিছুর প্রকৃত রূপ বিকৃত করা, আর Twist মানে হলো মোচড়ানো বা বিকৃত করা। দুটি শব্দই সমার্থক।
অপশনগুলোর মধ্যে (গ)-তে থাকা Harmonize অর্থ হলো কোনো কিছুর সাথে মিল বা সামঞ্জস্য সাধন করা, আর Balance মানে হলো ভারসাম্য বজায় রাখা বা সদৃশ করা। যেহেতু এই জোড়াটির অর্থও সমার্থক সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাই এটিই এখানে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত উত্তর।
৬৫. Government has been entrusted ---- elected politicians.
ক) with
খ) for
গ) to
ঘ) at
সঠিক উত্তরঃ গ) to
সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি ইংরেজি ব্যাকরণের একটি Appropriate Preposition-এর প্রশ্ন। ইংরেজি 'Entrust' শব্দটির ব্যবহার খুবই চমৎকার:
Entrusted with + something; কোনো দায়িত্ব বা বিষয়ের ভার দেওয়া বুঝাতে 'with' বসে।
Entrusted to + someone: কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ওপর বিশ্বাস করে কোনো দায়িত্ব সঁপে দেওয়া বুঝাতে 'to' বসে।
যেহেতু এখানে শূন্যস্থানের পরে 'elected politicians' (নির্বাচিত রাজনীতিবিদগণ, অর্থাৎ ব্যক্তিবর্গ) রয়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী শূন্যস্থানে 'to' বসবে। পুরো বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় "নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের ওপর সরকারের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে।"
৬৬. He has paid the penalty --- his crimes --- five years in prison.
ক) for, with
খ) at, by
গ) about, at
ঘ) after, in
সঠিক উত্তরঃ ক) for, with (অথবা বইয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী 'for' ও 'with'-এর সংমিশ্রণ)।
সহজ ব্যাখ্যাঃ বাক্যটির প্রথম অংশে অপরাধের মূল্য বা মাশুল দেওয়া বুঝাতে 'paid the penalty for' ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ কোনো অপরাধের শাস্তি ভোগ করা। আর দ্বিতীয় অংশে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ শাস্তি ভোগ করা বুঝাতে 'with five years in prison' যুক্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ বাক্যটির অর্থ "সে ৫ বছরের কারাদণ্ডের মাধ্যমে তার অপরাধের শাস্তি ভোগ করেছে।"
৬৭. The path --- paved, so we were able to walk through the path.
ক) was
খ) had been
গ) has been
ঘ) being
সঠিক উত্তরঃ খ) had been
সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি মূলত অতীতকালের দুটি কাজের সিকোয়েন্স বা Past Perfect Tense-এর একটি চমৎকার নিয়ম। অতীতে দুটি কাজ পরপর ঘটলে যে কাজটি আগে ঘটেছিল সেটিতে 'Past Perfect' (had + verb-এর past participle) হয় এবং পরের কাজটিতে 'Past Indefinite' হয়। এখানে রাস্তাটি পাকা করার কাজ আগে হয়েছিল এবং আমরা হেঁটেছিলাম পরে (were able to walk)। যেহেতু রাস্তা পাকা করার কাজটি আগে হয়েছিল, তাই এখানে 'had been paved' বসবে।
৬৮. In spite of my requests, he did not---
ক) give in
খ) fall in
গ) get off
ঘ) give forth
সঠিক উত্তরঃ ক) give in
সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি একটি Phrasal Verb বা গ্রুপ ভার্বের প্রশ্ন। অপশনগুলোর অর্থ একটু বুঝে নিই:
give in মানে হলো বশ্যতা স্বীকার করা, নতি স্বীকার করা বা মেনে নেওয়া।
fall in মানে ভেঙে পড়া বা লাইনে দাঁড়ানো।
যেহেতু বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় "আমার এত অনুরোধ সত্ত্বেও সে নিজের জেদ ধরে রাখল বা নতি স্বীকার করল না", তাই শূন্যস্থানে 'give in' বসবে।
৬৯. The children studied in a class room--- windows were never opened.
ক) that
খ) which
গ) where
ঘ) whose
সঠিক উত্তরঃ ঘ) whose
সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি ইংরেজি ব্যাকরণের Relative Pronoun-এর একটি সুন্দর ব্যবহার। এখানে 'class room' (শ্রেণীকক্ষ) এবং 'windows' (জানালাগুলো)-এর মধ্যে একটি মালিকানা বা অধিকারের সম্পর্ক (শ্রেণীকক্ষের জানালাগুলো) বোঝানো হচ্ছে। ইংরেজিতে বস্তুর ক্ষেত্রেও কোনো কিছুর 'যার' বা 'যেটির' মালিকানা বোঝাতে 'whose' ব্যবহৃত হয়। তাই সম্পূর্ণ বাক্যটি হবে: "শিশুরা এমন একটি শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনা করত যার (whose) জানালাগুলো কখনোই খোলা হতো না।"
৭০. To stay healthy, we must plan to have a balanced---.
ক) food
খ) diet
গ) outlook
ঘ) figure
সঠিক উত্তরঃ খ) diet
সহজ ব্যাখ্যাঃ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে বা সুস্থ থাকতে আমাদের প্রতিদিন নিয়ম মেনে সুষম খাবার খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় বা সচরাচর মেডিকেল টার্মে সুষম ও নিয়ন্ত্রিত খাবার তালিকাকে একসাথে 'balanced diet' (সুষম খাদ্য তালিকা) বলা হয়। এটি একটি বহুল প্রচলিত ও স্ট্যান্ডার্ড ইংরেজি ফ্রেজ।
৭১. We must keep our fingers --- that the weather will stay fine for the picnic tomorrow.
ক) raised
খ) pointed
গ) lifted
ঘ) cressed (crossed)
সঠিক উত্তরঃ ঘ) cressed (crossed)
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইংরেজিতে একটি চমৎকার ইডিয়ম বা প্রবাদ আছে 'Keep one's fingers crossed'। এর অর্থ হলো কোনো ভালো কিছুর প্রত্যাশা করা, আশা পোষণ করা বা কোনো শুভ কামনায় প্রার্থনা করা। এখানে আগামীকাল পিকনিকের আবহাওয়া যেন ভালো থাকে সেই শুভ ও ভালো প্রত্যাশা বোঝাতে 'keep our fingers crossed' ফ্রেজটি সম্পূর্ণ করতে শূন্যস্থানে 'crossed' বসবে।
৭২. They have --- their support for our case
ক) pledged
খ) disavowed
গ) provided
ঘ) defered
সঠিক উত্তরঃ ক) pledged
সহজ ব্যাখ্যাঃ এই প্রশ্নের সঠিক শব্দটি বেছে নিতে বাক্যটির অর্থ বুঝতে হবে। 'Pledge' শব্দটির অর্থ হলো কোনো কিছুর জন্য আনুষ্ঠানিক বা দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেওয়া, অঙ্গীকার করা বা শপথ নেওয়া। বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় "তারা আমাদের এই বিষয়টিতে বা মামলায় তাদের সমর্থন দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে (pledged)।"
৭৩. Cul-de-sac
ক) selection
খ) dead end
গ) error
ঘ) bubble
সঠিক উত্তরঃ খ) dead end
সহজ ব্যাখ্যাঃ 'Cul-de-sac' মূলত একটি ফরাসি শব্দ, যা ইংরেজি ভাষায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর আক্ষরিক অর্থ হলো 'কানাগলি' বা এমন একটি রাস্তা যার শেষ মাথাটি বন্ধ এবং সেখান দিয়ে আর সামনে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ইংরেজিতে একেই এক কথায় বলা হয় 'dead end'।
৭৪. Parcel
ক) quarrel
খ) piece of land
গ) postage
ঘ) unobstructed view
সঠিক উত্তরঃ খ) piece of land
সহজ ব্যাখ্যাঃ আমরা সাধারণত 'Parcel' বলতে কোনো ডাকযোগে পাঠানো প্যাকেট বা মোড়ককে বুঝি। তবে আইন ও ভূমির পরিভাষায় 'Parcel' বা 'Parcel of land'-এর আরেকটি সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে, যার মানে হলো 'এক খণ্ড জমি' বা 'জমির টুকরো'। অপশন অনুযায়ী 'piece of land' হলো এর সঠিক সমার্থক শব্দ।
৭৫. Ruminant
ক) Cud-chewing animal
খ) Soup
গ) Gossip
ঘ) Noise-maker
সঠিক উত্তরঃ ক) Cud-chewing animal
সহজ ব্যাখ্যাঃ জীববিজ্ঞানের ভাষায় 'Ruminant' বলতে বোঝায় সেইসব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যারা খাবার প্রথমে গিলে ফেলে এবং পরবর্তীতে পেট থেকে মুখে এনে অবসর সময়ে চিবিয়ে চিবিয়ে খায়, অর্থাৎ সহজ বাংলায় যাদেরকে 'জাবর কাটা প্রাণী' (যেমন: গরু, ছাগল, হরিণ) বলা হয়। ইংরেজিতে জাবর কাটাকে বলে 'Cud-chewing', তাই 'Cud-chewing animal' হলো এর সঠিক অর্থ।
[প্যাসেজের মূল ভাবার্থ সংক্ষেপে]
এই ইংরেজি প্যাসেজটি মূলত আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy), টেলিস্কোপ এবং কম্পিউটার ডেটা বেসের মধ্যকার চমৎকার সম্পর্ক নিয়ে লেখা। অতীতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপের কাছে গিয়ে সশরীরে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করতে হতো। কিন্তু আধুনিক যুগে ডিজিটাল সেন্সর যুক্ত স্বয়ংক্রিয় টেলিস্কোপ এবং কম্পিউটার ডেটা বেসের কল্যাণে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন ঘরে বসেই মহাকাশের বিপুল তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণা করতে পারছেন। অর্থাৎ, আধুনিক টেলিস্কোপ এবং কম্পিউটার ডেটা বেস একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
৭৬. Telescopes and data bases complement each other for the astronomer
ক) Telescopes and data bases complement each other for the astronomer
খ) Telescopes and data bases are both becoming relevant for the astronomer
গ) Telescopes and data bases have nothing in common for the astronomer
ঘ) Telescopes and data bases can be confusing to the astronomer
সঠিক উত্তরঃ ক) Telescopes and data bases complement each other for the astronomer
সহজ ব্যাখ্যাঃ প্যাসেজের মূল বক্তব্য জুড়েই দেখানো হয়েছে কীভাবে আধুনিক টেলিস্কোপ মহাকাশের ছবি বা তথ্য সংগ্রহ করে এবং কম্পিউটার ডেটা বেস সেই বিপুল তথ্যকে নিজের মধ্যে জমা করে রাখে। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এই দুটি প্রযুক্তি একে অপরের 'Complement' বা অত্যন্ত চমৎকার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
৭৭. Data bases sit on computer disks, humming away implies.
ক) Data bases are singing instrumant
খ) Data bases are useless and static
গ) Data bases make soft-sound but ate working away.
ঘ) Data bases are things of the past.
সঠিক উত্তরঃ গ) Data bases make soft-sound but ate working away. (বাক্যে 'ate' মূলত 'are'-এর একটি প্রিন্টিং মিসটেক, যা 'are working away' হবে)।
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইংরেজিতে 'Humming away' কথাটির অর্থ হলো কোনো কম্পিউটার বা মেশিন সচল থাকার সময় যে হালকা বা মৃদু গুঞ্জনধ্বনি (Humming) তৈরি হয় এবং সেটি অনবরত ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের কাজ করে যায়। এখানে কম্পিউটার ডিস্কে ডেটা বেস সচল থাকা এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বোঝাতেই এই এক্সপ্রেশনটি ব্যবহার করা হয়েছে।
৭৮. Modern data base produce reams of observational data.
ক) Data bases produce a lot of information
খ) Data bases are pecked with paper.
গ) Data bases create information instantly.
ঘ) Data bases are of limited use in strong information.
সঠিক উত্তরঃ ক) Data bases produce a lot of information
সহজ ব্যাখ্যাঃ ইংরেজিতে 'Reams of' একটি ফ্রেজ, যার অর্থ হলো 'প্রচুর পরিমাণ', 'বিপুল' বা 'ভুরি ভুরি' (A lot of)। সুতরাং, "produce reams of observational data" বাক্যটির সহজ অর্থ দাঁড়ায় আধুনিক ডেটা বেসগুলো মহাকাশ পর্যবেক্ষণের বিপুল বা প্রচুর পরিমাণ তথ্য (a lot of information) তৈরি ও জমা করতে পারে।
৭৯. The contemporary astronomer needs a telescope equipped with digital sensors to explore the universe.
ক) The contemporary astronomer needs to look at the sky from a mountain top.
খ) The contemporary astronomer needs a telescope to explore the universe.
গ) The contemporary astronomer needs heavy machinery to explore the universe.
ঘ) The contemporary astronomer needs a telescope equipped with digital sensors to explore the universe.
সঠিক উত্তরঃ ঘ) The contemporary astronomer needs a telescope equipped with digital sensors to explore the universe.
সহজ ব্যাখ্যাঃ প্যাসেজের দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফের শুরুতেই পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান বা সমসাময়িক (Contemporary) জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এখন আর দূর পাহাড়ে গিয়ে টেলিস্কোপে চোখ রাখতে হয় না। কারণ আধুনিক টেলিস্কোপগুলো ডিজিটাল সেন্সর (digital sensors) দ্বারা সুসজ্জিত, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাবিশ্বকে অন্বেষণ করতে পারে।
৮০. A good title for the passage will be ---.
ক) Telescope and exploration of the universe.
খ) Digital telescope and exploration of the universe.
গ) Astronomers and exploration of the universe.
ঘ) Space exploration in the new millennium.
সঠিক উত্তরঃ খ) Digital telescope and exploration of the universe.
সহজ ব্যাখ্যাঃ যেকোনো প্যাসেজের উপযুক্ত শিরোনাম (Title) নির্ধারণ করার নিয়ম হলো যে বিষয়টি নিয়ে পুরো প্যাসেজে সবচেয়ে বেশি হাইলাইট করা হয়েছে সেটি বেছে নেওয়া। এখানে সাধারণ কোনো প্রাচীন টেলিস্কোপ নয়, বরং 'ডিজিটাল সেন্সর যুক্ত আধুনিক টেলিস্কোপ ও কম্পিউটার প্রযুক্তি' কীভাবে মহাবিশ্ব জয়ের কাজকে সহজ করেছে, তা-ই মূল বিষয়। তাই 'Digital telescope and exploration of the universe' হলো এর সবচেয়ে সেরা ও সার্থক শিরোনাম ।
৮১. একটি সংখ্যা ৫৫০ থেকে যত বড় ৮২০ থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
ক) ৭৩০
খ) ৭৩৫
গ) ৮০০
ঘ) ৭৮০
সঠিক উত্তরঃ খ) ৭৩৫
সহজ শর্টকাট টেকনিকঃ যখনই প্রশ্নে "যত বড়, তত ছোট" বলা থাকবে, তখন চোখ বন্ধ করে সংখ্যা দুটির যোগফলকে ২ দিয়ে ভাগ করে দিলেই উত্তর চলে আসবে!
হিসাবঃ (৫৫০ + ৮২০) ÷ ২ = ১৩৭০ ÷ ২ = ৭৩৫।
৮২. কোনো পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর ৮০% গণিত এবং ৭০% বাংলায় পাস করলো। উভয় বিষয়ে পাস করলো ৬০%, উভয় বিষয়ে শতকরা কত জন ফেল করলো?
ক) ১৫%
খ) ১০%
গ) ১২%
ঘ) ১১%
সঠিক উত্তরঃ খ) ১০%
সহজ ব্যাখ্যাঃ
শুধু গণিতে পাস করে = (৮০ - ৬০)% = ২০%
শুধু বাংলায় পাস করে = (৭০ - ৬০)% = ১০%
উভয় বিষয়ে পাস করে = ৬০%
তাহলে মোট পাস করার হার = (২০ + ১০ + ৬০)% = ৯০%।
যেহেতু মোট পরীক্ষার্থী ১০০%, তাই উভয় বিষয়ে ফেল করেছে = (১০০ - ৯০)% = ১০%।
৮৩. কোন কোন স্বাভাবিক সংখ্যা দ্বারা ৩৪৬ কে ভাগ করলে প্রতি ক্ষেত্রে ৩১ অবশিষ্ট থাকে?
ক) ৩৫, ৪৫, ৬৩, ১০৫, ৩১৫
খ) ৩৫, ৪০, ৬৫, ১১০, ৩১৫
গ) ৩৫, ৪৫, ৭০, ১০৫, ৩১৫
ঘ) ৩৫, ৪৫, ৬৩, ১১০, ৩১৫
সঠিক উত্তরঃ ক) ৩৫, ৪৫, ৬৩, ১০৫, ৩১৫
সহজ ব্যাখ্যাঃ যেহেতু ভাগ করলে ৩১ অবশিষ্ট থাকে, তাই মূল সংখ্যাটি থেকে প্রথমে ৩১ বিয়োগ করতে হবে।
বিয়োগফল: ৩৪৬ - ৩১ = ৩১৫।
এখন আমাদের এমন সংখ্যাগুলো খুঁজতে হবে যা দিয়ে ৩১৫ কে নিঃশেষে ভাগ করা যায় এবং সংখ্যাগুলো অবশ্যই অবশিষ্ট ৩১ এর চেয়ে বড় হতে হবে। ৩১ এর চেয়ে বড় ৩১৫ এর সঠিক উৎপাদক সেট হলো: ৩৫, ৪৫, ৬৩, ১০৫ এবং ৩১৫।
৮৪. একটি द्रव्य ৩৮০ টাকায় বিক্রয় করায় ২০ টাকা ক্ষতি হলো। ক্ষতির শতকরা হার কত?
ক) ৪%
খ) vanity (৬%)
গ) ৫%
ঘ) ৭%
সঠিক উত্তরঃ গ) ৫%
সহজ ব্যাখ্যাঃ লাভ বা ক্ষতি সবসময় কেনা দাম বা ক্রয়মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়।
এখানে জিনিসটির ক্রয়মূল্য = বিক্রয়মূল্য + ক্ষতি = ৩৮০ + ২০ = ৪০০ টাকা।
এখন, ৪০০ টাকায় ক্ষতি হয় ২০ টাকা।
তাহলে ১০০ টাকায় (শতকরা) ক্ষতি হয় = (২০ ÷ ৪০০) × ১০০ = ৫%।
৮৫. দুটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর ১৯৯ হলে বড় সংখ্যাটি কত?
ক) ৭০
খ) ৮০
গ) ৯০
ঘ) ১০০
সঠিক উত্তরঃ ঘ) ১০০
সহজ শর্টকাট টেকনিকঃ দুটি পরপর বা ক্রমিক সংখ্যার বর্গের পার্থক্য দেওয়া থাকলে বড় সংখ্যাটি বের করার নিয়ম হলো- বর্গের অন্তরের সাথে ১ যোগ করে ২ দিয়ে ভাগ করা।
বড় সংখ্যা = (১৯৯ + ১) ÷ ২ = ২০০ ÷ ২ = ১০০।
(আর ছোট সংখ্যাটি চাইলে শুধু ১ বিয়োগ করে ২ দিয়ে ভাগ করলেই হতো, অর্থাৎ ৯৯)।
৮৬. একটি প্রকৃত ভগ্নাংশের হর ও লবের অন্তর ২, হর ও লব উভয় থেকে ৩ বিয়োগ করলে যে ভগ্নাংশ পাওয়া যায় তার সঙ্গে ১/৪ যোগ করলে যোগফল ১ হয়, ভগ্নাংশটি কত?
ক) ৭/৯
খ) ৯/১১
গ) ১১/১৩
ঘ) ১৩/১৫
সঠিক উত্তরঃ খ) ৯/১১
সহজ অপশন টেস্ট পদ্ধতিঃ এই বড় অঙ্কটি সমীকরণ না সাজিয়ে অপশন দেখেই ৫ সেকেন্ডে করা যায়!
অপশন (খ) অর্থাৎ ৯/১১ ধরা যাক। এর লব (৯) ও হর (১১) থেকে ৩ বিয়োগ করলে ভগ্নাংশটি হয় = (৯-৩)/(১১-৩) = ৬/৮ = ৩/৪।
এবার এই ৩/৪ এর সাথে ১/৪ যোগ করে দেখি: ৩/৪ + ১/৪ = ৪/৪ = ১। শর্ত মিলে গেছে, তাই ৯/১১-ই সঠিক উত্তর।
৮৭. কোন সংখ্যাটি বৃহত্তম?
ক) ০.৩
খ) ১/৩
গ) √০.৩
ঘ) ২/৫
সঠিক উত্তরঃ গ) √০.৩
সহজ ব্যাখ্যাঃ সবগুলো সংখ্যাকে দশমিকে রূপান্তর করে তুলনা করি,
ক) ০.৩ = ০.৩০০০
খ) ১/৩ = ০.৩৩৩৩...
গ) √০.৩ = ০.৫৪৭৭...
ঘ) ২/৫ = ০.৪০০০
দশমিকের পরের ঘরগুলো খেয়াল করলে দেখা যায় ০.৫৪৭৭ সংখ্যাটি সবচেয়ে বড়। তাই √০.৩-ই বৃহত্তম।
৮৮. x + y = 12 এবং x - y = 2 হলে xy-এর মান কত?
ক) 35
খ) 140
গ) 70
ঘ) 144
সঠিক উত্তরঃ ক) 35
সহজ ব্যাখ্যাঃ
আমরা জানি, xy বের করার একটি সহজ সূত্র রয়েছে। সূত্রটি হলো:
xy = {(x + y) / 2} এর স্কয়ার - {(x - y) / 2} এর স্কয়ার
এবার প্রশ্নে দেওয়া মানগুলো সূত্রে বসিয়ে পাই:
প্রথমে (x + y)-এর জায়গায় 12 বসালে হয়: (12 / 2) এর স্কয়ার = 6 এর স্কয়ার = 36
তারপর (x - y)-এর জায়গায় 2 বসালে হয়: (2 / 2) এর স্কয়ার = 1 এর স্কয়ার = 1
এখন প্রথম অংশ থেকে দ্বিতীয় অংশ বিয়োগ করলেই উত্তর চলে আসবেঃ
36 - 1 = 35।
৮৯. এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর চেয়ে ৫ বছরের বড়। তার স্ত্রীর বয়স ছেলের বয়সের ৪ গুণ। ৫ বছর পরে ছেলের বয়স ১২ বছর হলে বর্তমান ঐ ব্যক্তির বয়স কত?
ক) ৬৫ বছর
খ) ২৮ বছর
গ) ৩৩ বছর
ঘ) ৫৩ বছর
সঠিক উত্তরঃ গ) ৩৩ বছর
সহজ ব্যাখ্যাঃ একদম শেষ থেকে উল্টোভাবে হিসাব করলে মুখে মুখেই উত্তর চলে আসবে--
ছেলের বর্তমান বয়স = ১২ - ৫ = ৭ বছর।
স্ত্রীর বর্তমান বয়স = ছেলের বয়সের ৪ গুণ = ৭ × ৪ = ২৮ বছর।
ব্যক্তির বর্তমান বয়স = স্ত্রীর চেয়ে ৫ বছর বড় = ২৮ + ৪ = ৩৩ বছর।
৯০. ৬০ মিটারবিশিষ্ট একটি বাঁশকে ৩ : ৭ : ১০ অনুপাতে ভাগ করলে টুকরাগুলোর সাইজ কত?
ক) ৮ মিটার; ২২ মিটার; ৩০ মিটার
খ) ১০ মিটার; ২০ মিটার; ৩০ মিটার
গ) ৯ মিটার; ২১ মিটার; ৩০ মিটার
ঘ) ১২ মিটার; ২০ মিটার; ২৮ মিটার
সঠিক উত্তরঃ গ) ৯ মিটার; ২১ মিটার; ৩০ মিটার
সহজ ব্যাখ্যাঃ প্রথমে অনুপাতগুলোর যোগফল বের করি = ৩ + ৭ + ১০ = ২০।
১ম টুকরো = ৬০ এর ৩/২০ অংশ = ৯ মিটার।
২য় টুকরো = ৬০ এর ৭/২০ অংশ = ২১ মিটার suicide।
৩য় টুকরো = ৬০ এর ১০/২০ অংশ = ৩০ মিটার।
অর্থাৎ টুকরোগুলো যথাক্রমে ৯ মিটার, ২১ মিটার এবং ৩০ মিটার।
৯১. নিউট্রন আবিষ্কার করেন-
ক) কিউরি
খ) রাদারফোর্ড
গ) চ্যাডউইক
ঘ) থমসন
সঠিক উত্তরঃ গ) চ্যাডউইক
সহজ ব্যাখ্যাঃ নিউক্লিয়াসে অবস্থিত চার্জ বা আধান নিরপেক্ষ কণা 'নিউট্রন' ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক আবিষ্কার করেন। (অন্যদিকে রাদারফোর্ড পরমাণুর নিউক্লিয়াস ও প্রোটন এবং স্যার জোসেফ জন থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন)।
৯২. যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদের বলা হয়—
ক) আইসোটোপ
খ) আইসোমার
গ) আইসোটোন
ঘ) আইসোবার
সঠিক উত্তরঃ গ) আইসোটোন
সহজ ব্যাখ্যাঃএটি মনে রাখার একটি সহজ ট্রিক রয়েছে:
আইসোটো'ন' (শেষে 'ন' আছে = নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন ও ভরসংখ্যা ভিন্ন)।
আইসোটো'প' (শেষে 'প' আছে = প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা সমান)।
আইসোবা'র' (শেষে 'র' আছে = ভরসংখ্যা সমান)।
৯৩. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র--
ক) ক্রোনোমিটার
খ) ট্যাকোমিটার
গ) হাইড্রোমিটার
ঘ) ওডোমিটার
সঠিক উত্তরঃ খ) ট্যাকোমিটার
সহজ ব্যাখ্যাঃ উড়োজাহাজের গতি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করার জন্য 'ট্যাকোমিটার' (Tachometer) যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। (অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে সূক্ষ্মভাবে সময় নির্ণয়ের জন্য ক্রোনোমিটার, তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপতে হাইড্রোমিটার এবং মোটর গাড়ির অতিক্রান্ত দূরত্ব ও গতি মাপতে ওডোমিটার ব্যবহার করা হয়)।
৯৪. ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র---
ক) ব্যারোমিটার
খ) সেক্সট্যান্ট
গ) সিসমোগ্রাফ
ঘ) ম্যানোমিটার
সঠিক উত্তরঃ গ) সিসমোগ্রাফ
সহজ ব্যাখ্যাঃ ভূকম্পন বা ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ ও রেকর্ড করার যন্ত্র হলো 'সিসমোগ্রাফ' (Seismograph)। (অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার, গ্রহ-নক্ষত্রের উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র সেক্সট্যান্ট এবং গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র হলো ম্যানোমিটার)।
৯৫. রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর কোন রশ্মি বের হয়?
ক) গামা রশ্মি
খ) বিটা রশ্মি
গ) রঞ্জন রশ্মি
ঘ) কসমিক রশ্মি
সঠিক উত্তরঃ গ) রঞ্জন রশ্মি
সহজ ব্যাখ্যাঃ পুরোনো মডেলের রঙিন টেলিভিশন বা কম্পিউটার মনিটরে ক্যাথোড রে টিউব (CRT) ব্যবহার করা হতো। এখানে ইলেকট্রনসমূহ অতিউচ্চ বিভবের (প্রায় ২০০০০-১০০০০০ V) কারণে স্ক্রিনে মৃদু 'রঞ্জন রশ্মি' বা এক্স-রে (X-ray) তৈরি করতো। তবে আধুনিক এলসিডি (LCD) বা এলইডি (LED) মনিটর থেকে এমন কোনো ক্ষতিকর রশ্মি বের হয় না।
৯৬. সূর্য শক্তি উৎপন্ন হয়---
ক) পরমাণুর ফিশন পদ্ধতিতে
খ) পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতিতে
গ) রাসায়নিক বিক্রয়ার ফলে
ঘ) তেজস্ক্রিয়তার ফলে
সঠিক উত্তরঃ খ) পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতিতে
সহজ ব্যাখ্যাঃ সূর্যের শক্তির আসল উৎস হলো 'নিউক্লিয়ার ফিউশন' (Nuclear Fusion) বা পরমাণু সংযোজন পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় দুটি কম ওজনের হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস তীব্র তাপে ও চাপে একসাথে যুক্ত হয়ে একটি অপেক্ষাকৃত ভারী হিলিয়াম পরমাণু গঠন করে। এই রূপান্তরের সময় যে সামান্য ভর হারিয়ে যায়, তা-ই বিপুল শক্তি ও আলো হিসেবে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
৯৭. ডেঙ্গু জ্বরের বাহক---
ক) অ্যানোফিলিস
খ) কিউলেক্স
গ) এডিস
ঘ) সকল ধরনের মশা
সঠিক উত্তরঃ গ) এডিস
সহজ ব্যাখ্যাঃ ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বা ভাইরাস বহন করে 'एডিস' (Aedes) মশা। এই মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। (অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়ার এবং কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে)।
৯৮. পেনিসিলিয়াম আবিষ্কার করেন--
ক) রবার্ট হুক
খ) টমাস এডিসন
গ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ঘ) জেমস ওয়াট
সঠিক উত্তরঃ গ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
সহজ ব্যাখ্যাঃ চিকিৎসা জগতের প্রথম ও বিখ্যাত অ্যান্টিবায়োটিক 'পেনিসিলিন' আবিষ্কার করেন স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। (অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে রবার্ট হুক উদ্ভিদ কোষ, টমাস এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি ও সিনেমাটোগ্রাফি এবং জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন)।
৯৯. গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া এই দেশের জন্য ভয়াবহ আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে--
ক) সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে
খ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে
গ) নদ-নদীর পানি কমে যেতে পারে
ঘ) ওজোন স্তরের ক্ষতি নাও হতে পারে
সঠিক উত্তরঃ ক) সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে
সহজ ব্যাখ্যাঃ গ্রিন হাউজ প্রভাবের কারণে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে (গ্লোবাল ওয়ার্মিং)। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বিশাল বরফ গলে যাচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো নিচু উপকূলবর্তী অঞ্চলের বিশাল অংশ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ভয়াবহ আশঙ্কা রয়েছে।
১০০. আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ--
ক) গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে
খ) গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
গ) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো অবদান নেই
ঘ) ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়
সঠিক উত্তরঃ খ) গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
সহজ ব্যাখ্যাঃ গাছপালা হলো প্রকৃতির ফুসফুস। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গাছপালা বাতাস থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন গ্যাস বাতাসে ছেড়ে দেয়। তাছাড়া বনায়ন পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, মাটির ক্ষয়রোধ করে এবং ঝড়-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পুরো জীবজগৎকে রক্ষা করে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url