২১তম বিসিএস প্রশ্ন সমাধান সম্পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ

২১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নের নির্ভুল সমাধান ও সহজ ব্যাখ্যা একসঙ্গে পড়ুন। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, পরিষ্কার বিশ্লেষণ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পড়ে দ্রুত রিভিশন করুন এবং চাকরির প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলুন।

২১-তম-বিসিএস-প্রশ্ন-সমাধান-সম্পূর্ণ-ব্যাখ্যাসহ

১. 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?

ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

খ) মুহম্মদ আব্দুল হাই

গ) মুনীর চৌধুরী

ঘ) মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী

সঠিক উত্তরঃ ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশিষ্ট ভাষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯ খ্রি.) রচিত বিখ্যাত ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৬৫)। তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলোঃ 'ভাষা ও সাহিত্য' (১৯৩১) এবং 'বাংলা ব্যাকরণ' (১৯৩৫)।

২. 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' কার রচনা?

ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

গ) রামমোহন রায়

ঘ) কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়

সঠিক উত্তরঃ খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

সহজ ব্যাখ্যাঃ লেখক, সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.) একটি মৌলিক গ্রন্থ 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'। তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- 'বেতালপঞ্চবিংশতি', 'শকুন্তলা', 'সীতার বনবাস' এবং শেক্সপীয়রের 'Comedy of Errors'-এর অনুবাদ 'ভ্রান্তিবিলাস'।

৩. 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কার রচনা?

ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

খ) নবীনচন্দ্র সেন

গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ঘ) রঙলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

সঠিক উত্তরঃ গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার জনক হলেন কবি ও নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩ খ্রি.)। ১৮৬৬ সালে তাঁর রচিত সনেটসমূহ 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' নামে সংকলিত হয়ে প্রকাশিত হয়।

৪. কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ?

ক) বিষের বাঁশী

খ) বন্দীর বন্দনা

গ) সন্দীপের চর

ঘ) রূপসী বাংলা

সঠিক উত্তরঃ ক) বিষের বাঁশী

সহজ ব্যাখ্যাঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রি.) 'বিষের বাঁশী' (১৯২৪) একটি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক ও বিদ্রোহাত্মক কাব্যগ্রন্থ। অন্যদিকে 'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসুর এবং 'রূপসী বাংলা' জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।

৫. 'কবর' নাটক কার রচনা?

ক) শহীদুল্লাহ কায়সার

খ) জহির রায়হান

গ) মুনীর চৌধুরী

ঘ) সত্যেন সেন

সঠিক উত্তরঃ গ) মুনীর চৌধুরী

সহজ ব্যাখ্যাঃ শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও ভাষাসৈনিক মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১ খ্রি.) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ভাষা বন্দিদের অনুপ্রেরণায় রাজবন্দি থাকা অবস্থায় 'কবর' (১৯৫৬) নাটকটি রচনা করেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক হলোঃ 'রক্তাক্ত প্রান্তর', 'চিঠি' ও 'দণ্ডকারণ্য'।

৬. 'চাঁদের হাট' --অর্থ কি?

ক) বন্ধুদের সমাগম

খ) আত্মীয় সমাগম

গ) প্রিয়জন সমাগম

ঘ) গণ্যমান্যদের সমাগম

সঠিক উত্তরঃ গ) প্রিয়জন সমাগম

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'চাঁদের হাট' একটি বহুল ব্যবহৃত বাংলা বাগধারা, যার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো 'প্রিয়জন সমাগম' বা আনন্দময় পরিবেশ (যেখানে গুণী বা সুন্দর মানুষদের মিলনমেলা ঘটে)।

৭. কোন বানানটি শুদ্ধ?

ক) সুচিস্মিতা

খ) সুচিস্মিতা

গ) সূচীস্মিতা

ঘ) শুচিস্মিতা

সঠিক উত্তরঃ ঘ) শুচিস্মিতা (বইয়ের নোট ও অপশন অনুযায়ী)

সহজ ব্যাখ্যাঃ এখানে শুদ্ধ বানানটি হলো 'শুচিস্মিতা' (যার অর্থ পবিত্র বা নির্মল হাসিমুখী নারী)। তবে বইয়ের অপশনে তালব্য-শ (শু) এবং চ-এ ই-কার (চি) যুক্ত রূপটিকে সঠিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৮. 'কর্মে যাহার ক্লান্তি নাই' এই বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ কি?

ক) ক্লান্তিহীন

খ) অক্লান্ত

গ) অক্লান্ত কর্মী

ঘ) অবিশ্রাম

সঠিক উত্তরঃ গ) অক্লান্ত কর্মী (বইয়ের আদি উত্তরপত্র অনুযায়ী)

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাক্য সংকোচনের নিয়ম অনুযায়ী, 'কর্মে যাহার ক্লান্তি নাই'-এক কথায় প্রকাশ করলে হয় 'অক্লান্তকর্মী'। আর যদি বলা হতো 'যাহার ক্লান্তি নাই'  তবে হতো 'অক্লান্ত'।

৯. ণত্ব বিধি সাধারণত কোন শব্দে প্রযোজ্য?

ক) দেশী

খ) বিদেশী

গ) তৎসম

ঘ) তদ্ভব

সঠিক উত্তরঃ গ) তৎসম

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে 'ণ' (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহারের সঠিক নিয়মকেই ণত্ব বিধান বলে। খাঁটি বাংলা, তদ্ভব বা বিদেশী শব্দে কখনো মূর্ধন্য-ণ (ণ) হয় না, সবসময় দন্ত্য-ন (ন) হয়।

১০. ক্রিয়াপদ ---

ক) সবসময় বাক্যে থাকবে

খ) কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে

গ) শুধু অতীতকাল বোঝাতে বাক্যে ব্যবহৃত হয়

ঘ) আসলে বিশেষণ থেকে অভিন্ন

সঠিক উত্তরঃ খ) কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে

সহজ ব্যাখ্যাঃ যে পদ দ্বারা কোনো কাজ সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে। বাংলা বাক্যের গঠনে ক্রিয়াপদ অপরিহার্য হলেও গঠনশৈলীর কারণে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে। যেমন: "তিনি আমার ভাই" (এই বাক্যে 'হন' ক্রিয়াটি উহ্য আছে)।

১১. কোনটি অনুজ্ঞা?

ক) তুমি গিয়েছিলে

খ) তুমি যাও

গ) তুমি যাচ্ছিলে

ঘ) তুমি যাচ্ছ

সঠিক উত্তরঃ খ) তুমি যাও

সহজ ব্যাখ্যাঃ আদেশ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে বিশেষ রূপ ব্যবহৃত হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন বর্তমান কালে 'তুমি যাও', 'কলমটি দাও' ইত্যাদি। সুতরাং 'তুমি যাও' একটি অনুজ্ঞা।

১২. 'যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা' --এখানে 'মুখ' বলতে কী বোঝাচ্ছে?

ক) অনুভূতি

খ) গালি

গ) প্রত্যঙ্গ

ঘ) শক্তি

সঠিক উত্তরঃ ঘ) শক্তি

সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি একটি বহুল ব্যবহৃত বাংলা প্রবাদ। এখানে 'মুখ' বলতে শারীরিক কোনো প্রত্যঙ্গ বোঝানো হয়নি, বরং ব্যক্তির অহংকার, ধৃষ্টতা বা 'শক্তি' বোঝানো হয়েছে। নিজের সামর্থ্য বা শক্তির বাইরে গিয়ে অহংকার প্রকাশ করলে এই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়।

১৩. কোন বানানটি শুদ্ধ?

ক) মুমূর্ষু

খ) মুমুর্ষু

গ) মূমর্ষু

ঘ) মূমূর্ষু

সঠিক উত্তরঃ ক) মুমূর্ষু

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা ব্যাকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল জিজ্ঞাসিত একটি শুদ্ধ বানান হলো 'मুমূর্ষু'। এই বানানের নিয়মটি মনে রাখার সহজ উপায় হলোঃ প্রথমটি হ্রস্ব-উ কার (মু), মাঝেরটি দীর্ঘ-ঊ কার ও রেফ (মূর্ষ্), এবং শেষেরটি হ্রস্ব-উ কার (ষু)। শব্দটির অর্থ মরণাপন্ন বা মরো মরো অবস্থা।

১৪. 'বিরাগী' শব্দের অর্থ কী?

ক) উদাসীন

খ) প্রতিকূল

গ) রাগহীন

ঘ) বিশেষভাবে রুষ্ট

সঠিক উত্তরঃ ক) উদাসীন

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'বিরাগী' একটি পুরুষবাচক শব্দ, যার অর্থ হলো রাগহীন, বৈরাগী, উদাসীন কিংবা নিঃস্পৃহ। এই শব্দটির স্ত্রীবাচক রূপ হলো 'বিরাগিণী'।

১৫. 'ব্রজবুলি' বলতে কী বোঝায়?

ক) ব্রজধামে কথিত ভাষা

খ) একরকম কৃত্রিম কবিভাষা

গ) বাংলা ও হিন্দির যোগফল

ঘ) মৈথিলি ভাষার একটি উপভাষা

সঠিক উত্তরঃ খ) একরকম কৃত্রিম কবিভাষা

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'ব্রজবুলি' হলো মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। এই ভাষায় মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেছেন বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস, চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ব্রজবুলি ভাষায় 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্য রচনা করেছিলেন।

১৬. 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই' -কে বলেছেন?

ক) চণ্ডীদাস

খ) বিদ্যাপতি

গ) রামকৃষ্ণ পরমহংস

ঘ) বিবেকানন্দ

সঠিক উত্তরঃ ক) চণ্ডীদাস

সহজ ব্যাখ্যাঃ এই অমর ও বিশ্বজনীন উক্তিটি করেছেন মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি চণ্ডীদাস। বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা হিসেবে চণ্ডীদাসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

১৭. কোনটি রবীন্দ্রনাথের রচনা?

ক) চতুরঙ্গ

খ) চতুষ্কোণ

গ) চতুষ্পদী

ঘ) চতুষ্পাঠী

সঠিক উত্তরঃ ক) চতুরঙ্গ

সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চতুরঙ্গ' (১৯১৬) একটি বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক সামাজিক উপন্যাস। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'গোরা', 'ঘরে-বাইরে', 'চোখের বালি' ও 'শেষের কবিতা'।

১৮. কোনটি কাব্যগ্রন্থ?

ক) কবিতা

খ) কাব্য পরিক্রমা

গ) কয়েকটি কবিতা

ঘ) বাংলার কাব্য

সঠিক উত্তরঃ গ) কয়েকটি কবিতা

সহজ ব্যাখ্যাঃ নাগরিক কবি সমর সেন (১৯১৬-১৯৮৭ খ্রি.) রচিত বিখ্যাত আধুনিক কাব্যগ্রন্থ হলো 'কয়েকটি কবিতা' (১৯৩৭)। 

১৯. কোনটি নাটক?

ক) কর্তার ইচ্ছায় কর্ম

খ) গড্ডলিকা

গ) পল্লীসমাজ

ঘ) সাজাহান

সঠিক উত্তরঃ ঘ) সাজাহান

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'সাজাহান' (১৯০৯) হলো বিখ্যাত নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি. এল. রায়)-এর একটি ঐতিহাসিক নাটক। অন্যদিকে 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসুর ছোটগল্প এবং 'পল্লীসমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।

২০. 'আবল-তাবল' কার লেখা?

ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী

খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

গ) সুকুমার রায়

ঘ) সত্যজিৎ রায়

সঠিক উত্তরঃ গ) সুকুমার রায়

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলা সাহিত্যের সেরা ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের অমর সৃষ্টি হলো ননসেন্স ছড়ার সংকলন 'আবল-তাবল' (১৯২৩)। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ হলো— 'হযবরল', 'পাগলা দাশু' ও 'বহুরূপী'।

[Each question below consists of a related pair of words. Select the pair that best expresses a relationship similar to that expressed in the original pair.]

২১. Eager : Indifferent

ক) concerned : careful

খ) anxious : nervous

গ) enthusiastic : halfhearted

ঘ) devoted : dedicated

সঠিক উত্তরঃ গ) enthusiastic : halfhearted

সহজ ব্যাখ্যাঃ মূল শব্দজোড়া 'Eager' (আগ্রহী বা উৎসুক) এবং 'Indifferent' (উদাসীন) এরা একে অপরের বিপরীত শব্দ (Antonyms)। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'enthusiastic' (উচ্ছ্বসিত বা উৎসাহী) এবং 'halfhearted' (অনাগ্রহী বা উৎসাহহীন) শব্দ দুটিও পরস্পর বিপরীতমুখী সম্পর্ক প্রকাশ করে। তাই সঠিক এনালজি হলো অপশন (গ)।

২২. Lengthen : Prolong

ক) stretch : extend

খ) distance : reduce

গ) draw out : shorten

ঘ) reach out : cut short

সঠিক উত্তরঃ ক) stretch : extend

সহজ ব্যাখ্যাঃ মূল শব্দজোড়া 'Lengthen' (দীর্ঘায়িত করা) এবং 'Prolong' (প্রলম্বিত করা) পরস্পর সমার্থক শব্দ (Synonyms)। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কেবল 'stretch' (প্রসারিত বা দীর্ঘ করা) এবং 'extend' (প্রসারিত বা বৃদ্ধি করা) শব্দ দুটিও পরস্পর সমার্থক বা একই অর্থ প্রকাশ করে।

২৩. Delay : Retard

ক) postpone : promote

খ) adjourn : start

গ) slow down : hold up

ঘ) defer : accelerate

সঠিক উত্তরঃ গ) slow down : hold up

সহজ ব্যাখ্যাঃ মূল শব্দজোড়া 'Delay' (দেরি করা) এবং 'Retard' (ধীরগতির করা বা বাধা দেওয়া) পরস্পর সমার্থক শব্দ (Synonyms)। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'slow down' (ধীরগতি করা) এবং 'hold up' (থামিয়ে রাখা বা আটকে রাখা) শব্দ দুটিও পরস্পর সমার্থক সম্পর্ক প্রকাশ করে।

২৪. Submissive : Disobedient

ক) comply : conform

খ) heed : acquiesce

গ) observe : defy

ঘ) obey : hearken to

সঠিক উত্তরঃ গ) observe : defy

সহজ ব্যাখ্যাঃ মূল শব্দজোড়া 'Submissive' (নম্র বা বাধ্য) এবং 'Disobedient' (অবাধ্য বা অবিনয়ী) পরস্পর বিপরীতার্থক শব্দ (Antonyms)। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'observe' (নিয়ম মেনে চলা বা পালন করা) এবং 'defy' (অমান্য করা বা উপেক্ষা করা) শব্দ দুটিও পরস্পর বিপরীত সম্পর্ক প্রকাশ করে।

২৫. He fantasized ------ winning the lottery.

ক) with

খ) from

গ) after

ঘ) about

সঠিক উত্তরঃ ঘ) about

সহজ ব্যাখ্যাঃ ইংরেজি 'Fantasize about' একটি Appropriate Preposition, যার অর্থ কোনো কিছু নিয়ে কল্পনা করা বা অবাস্তব স্বপ্ন দেখা। যেহেতু লটারি জেতার কল্পনার কথা বলা হচ্ছে, তাই শূন্যস্থানে 'about' বসবে।


২৬. The Parthenon is said ------ erected in the Age of Pericles.

ক) to have become

খ) to have begun

গ) to have been

ঘ) to have had begun

সঠিক উত্তরঃ গ) to have been

সহজ ব্যাখ্যাঃ পারথেনন নিজে নিজে স্থাপিত হয়নি, বরং তাকে স্থাপন করা হয়েছিল। অতীতকালের কোনো প্যাসিভ বা কর্মবাচ্য অবস্থাকে প্রকাশ করতে 'to have been + V3 (erected)' ইনফিনিটিভ স্ট্রাকচারটি ব্যবহার করা হয়।


২৭. He divided the money ----- the two children.

ক) among

খ) between

গ) in between

ঘ) over

সঠিক উত্তরঃ খ) between

সহজ ব্যাখ্যাঃ সাধারণত দুজনের মধ্যে কোনো কিছু ভাগ করে দেওয়া বোঝালে Preposition হিসেবে 'between' বসে। আর দুইয়ের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে বোঝালে 'among' বসে। যেহেতু এখানে 'two children' (দুটি শিশু) উল্লেখ আছে, তাই 'between' সঠিক।

২৮. As they waited Rahim argued against war ------

ক) while his brother discusses the effects of pollution.

খ) while his brother discussed the effects of pollution.

গ) while his brother was discussing the effects of pollution.

ঘ) while his brother had discussed the effects of pollution.

সঠিক উত্তরঃ গ) while his brother was discussing the effects of pollution.

সহজ ব্যাখ্যাঃ প্রথমত, বাক্যের প্রধান অংশটি (Main clause) Past Tense-এ (argued) থাকায় পরের অংশটিও Past Tense হবে। দ্বিতীয়ত, 'while' যুক্ত ক্লজ দিয়ে সাধারণত চলমান কোনো কাজ বোঝায়, তাই এটি Past Continuous Tense (was/were + V-ing) নিয়মে 'was discussing' হবে।

২৯. If we want concrete proof, we are looking for ------

ক) clear evidence

খ) building material

গ) a cement mixer

ঘ) something to cover a path.

সঠিক উত্তরঃ ক) clear evidence

সহজ ব্যাখ্যাঃ এখানে 'Concrete proof' বলতে কোনো সিমেন্ট বা ঢালাইয়ের জিনিস বোঝানো হয়নি, এটি একটি ফ্রেজ যার অর্থ হলো 'কাটখড় বা সুস্পষ্ট প্রমাণ'। তাই এর সমার্থক অর্থ হিসেবে 'clear evidence' (সুস্পষ্ট প্রমাণ) সঠিক উত্তর।

৩০. The Olympic games were watched by ------ billions people all over the world.

ক) exactly

খ) usually

গ) truly

ঘ) literally

সঠিক উত্তরঃ ঘ) literally

সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশ্বে অলিম্পিক গেমস কোটি কোটি বা বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ দেখে— এই বিপুল সংখ্যাকে জোরালোভাবে বা আক্ষরিক অর্থে প্রকাশ করতে জোর দেওয়ার জন্য 'literally' শব্দটি পারফেক্ট।

৩১. The author thinks that true learning will lead to---

ক) personal understanding of the ideas of writers

খ) discovery of unknown world

গ) revelation of the mysteries of the world

ঘ) better expressive powers.

সঠিক উত্তরঃ ঘ) better expressive powers.

সহজ ব্যাখ্যাঃ মূল বইয়ের অনুচ্ছেদ বা প্যাসেজের ভাবার্থ অনুযায়ী, লেখক মনে করেন প্রকৃত শিক্ষা বা জ্ঞান মানুষকে আরও উন্নত ও সুন্দরভাবে নিজের ভাব প্রকাশের শক্তি বা সক্ষমতা (better expressive powers) বাড়িয়ে দেয়।

৩২. Which of the following best describes the author's attitude towards learning?

ক) learning is not a matter of reading extensively

খ) learning is not something to be demonstrated in examinations

গ) learning is a matter of promoting creativity in students

ঘ) learning is matter of memorization.

সঠিক উত্তরঃ গ) learning is a matter of promoting creativity in students

সহজ ব্যাখ্যাঃ লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে মুখস্থ বিদ্যার বদলে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো বা বৃদ্ধি করা (promoting creativity in students)।

৩৩. The gypsies are people who ------

ক) have a settled way of life.

খ) came originally from Egypt to England

গ) are always on the move

ঘ) steal children to train them in the way of life.

সঠিক উত্তরঃ গ) are always on the move

সহজ ব্যাখ্যাঃ প্যাসেজের ২য় লাইনেই স্পষ্ট বলা আছে- 'They do not have any fixed home but wander about from place to place' (তাদের নির্দিষ্ট কোনো বাড়ি নেই, তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ায়)। ইংরেজি 'are always on the move' কথার অর্থও হলো 'সবসময় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানো'। তাই জিপসি বা যাযাবরদের জীবনযাত্রার সাথে (গ) নম্বর অপশনটি একদম মিলে যায়।

৩৪. The gypsies like to live in tents because---

ক) it is easy to hide stolen children in a tent

খ) it is easy to read one's palm inside a tend

গ) it is easy to bring them from Egypt.

ঘ) it is easy to pitch them.

সঠিক উত্তরঃ ঘ) it is easy to pitch them.

সহজ ব্যাখ্যাঃ এখানে 'pitch' শব্দের অর্থ হলো তাবু খাটানো বা স্থাপন করা। যাযাবর বা জিপসিরা যেহেতু এক জায়গায় বেশিদিন থাকে না, তাই তাদের এমন ঘর দরকার যা খুব দ্রুত ভেঙে আবার অন্য জায়গায় সহজে খাটিয়ে নেওয়া যায়। তাবু খাটানো ও তা গুটিয়ে নেওয়া খুব সহজ (easy to pitch them) বলেই তারা তাবুতে থাকতে পছন্দ করে।

৩৫. The English took them for Egyptian's means---

ক) The English took them to the Egyptians.

খ) The English considered them to be Egyptians.

গ) The English were taken in by the Egyptians.

ঘ) The English brought them as far as to Egypt.

সঠিক উত্তরঃ খ) The English considered them to be Egyptians.

সহজ ব্যাখ্যাঃ ইংরেজি 'take someone for' একটি চমৎকার ফ্রেজ, যার অর্থ হলো কাউকে কোনো কিছু 'মনে করা' বা 'ভুল করে অন্য কিছু ভাবা' (consider/mistake someone to be)। সুতরাং 'The English took them for Egyptian's' লাইনটির আসল অর্থ হলোঃ ইংরেজরা জিপসিদেরকে মিশরের অধিবাসী বা মিশরীয় মনে করতো। এই 'মনে করা' অর্থটি (খ) নম্বর অপশনের 'considered' শব্দের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

৩৬. Attitude towards the gypsies---

ক) are still the same as before

খ) have not much changed over the years.

গ) can change they stop stealing children

ঘ) have shown signs of change.

সঠিক উত্তরঃ ঘ) have shown signs of change.

সহজ ব্যাখ্যাঃ প্যাসেজের একদম শেষ লাইনে বলা আছেঃ 'But this attitude towards the gypsies has gradually changed' (কিন্তু জিপসিদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি আস্তে আস্তে বদলে গেছে)। যেহেতু দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার মানে এটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। তাই ইংরেজি 'have shown signs of change' (পরিবর্তনের লক্ষণ দেখাচ্ছে) অপশনটিই এখানে সঠিক।

Questions 37 to 40 are incomplete sentences. Choose the one word or phrase that best completes the sentence.

৩৭. The tree has been blown ----- by the strong wind.

ক) away

খ) up

গ) off

ঘ) out

সঠিক উত্তরঃ ক) away

সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি একটি Group Verb বা Appropriate Preposition-এর ব্যবহার। বাতাসে কোনো কিছু উড়িয়ে বা অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া বোঝাতে 'Blow away' ব্যবহৃত হয়। যেহেতু তীব্র বাতাসে গাছটি ভেঙে বা উপড়ে দূরে ছিটকে পড়েছে, তাই শূন্যস্থানে 'away' বসবে। (অন্য অপশনগুলোর অর্থ: Blow up = বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া; Blow out = ফু দিয়ে মোমবাতি নেভানো)।

৩৮. No one can ----- that he is clever.

ক) defy

খ) admire

গ) deny

ঘ) denounce

সঠিক উত্তরঃ গ) deny

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাক্যটির অর্থ করলে দাঁড়ায় --'কেউই -----করতে পারবে না যে সে চালাক।' অপশনগুলোর মধ্যে 'deny' শব্দের অর্থ হলো 'অস্বীকার করা'। অর্থাৎ, সে যে চালাক বা চতুর  এই সত্যটি কেউই অস্বীকার করতে পারবে না (No one can deny)। বাক্যটির অর্থপূর্ণ ভাব প্রকাশের জন্য 'deny' শব্দটিই সবচেয়ে উপযুক্ত।

৩৯. A reward has been announced for the employees who ----- hard.

ক) have worked

খ) has worked

গ) will be work

ঘ) have had worked

সঠিক উত্তরঃ ক) have worked

সহজ ব্যাখ্যাঃ এখানে 'who' শব্দটি তার ঠিক আগের শব্দ 'employees' (কর্মচারীবৃন্দ)-কে নির্দেশ করছে। যেহেতু 'employees' শব্দটি একটি Plural (বহুবচন) Subject, তাই এরপরে সাহায্যকারী ভার্ব হিসেবে Plural রূপ 'have' বসবে। আর যে কর্মচারীরা কঠোর পরিশ্রম করেছে, তাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে এই কাজটি বর্তমানের ফলাফল প্রকাশ করছে বলে Present Perfect Tense অনুযায়ী 'have worked' বসানো হয়েছে।

৪০. To ----- the arrival of spring, Bangladesh Television ----- a special function.

ক) Commemorate : launched

খ) announce : telecast

গ) celebrate : organized

ঘ) welcome : sanctioned

সঠিক উত্তরঃ গ) celebrate : organized

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাক্যটির অর্থ হলোঃ বসন্তের আগমনকে 'উদযাপন করতে' বাংলাদেশ টেলিভিশন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের 'আয়োজন করেছিল'। শূন্যস্থানের প্রথম অংশে বসন্তের আগমনকে উদযাপন করার ইংরেজি হলো 'celebrate' এবং দ্বিতীয় অংশে অনুষ্ঠান আয়োজন করার ইংরেজি হলো 'organized'। দুটি শব্দ একসাথে বসালে বাক্যটি সম্পূর্ণ অর্থপূর্ণ হয়।

৪১. একটি গাড়ির চাকা প্রতি মিনিটে ৯০ বার ঘোরে। এক সেকেন্ডে চাকাটি কত ডিগ্রি ঘোরে?

ক) ১৮০°

খ) ২৭০°

গ) ৩৬০°

ঘ) ৫৪০°

সঠিক উত্তরঃ ঘ) ৫৪০°

সহজ ব্যাখ্যাঃ একদম ভেঙে ধাপে ধাপে হিসাবটি নিচে দেওয়া হলোঃ

ধাপ ১: আমরা জানি, ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড। চাকাটি ৬০ সেকেন্ডে ঘোরে ৯০ বার। 

তাহলে, চাকাটি ১ সেকেন্ডে ঘোরে = (৯০ ÷ ৬০) বার = ১.৫ বার (বা ১ ও অর্ধেক বার)।

ধাপ ২: যেকোনো বৃত্তাকার জিনিস বা চাকা একবার সম্পূর্ণ ঘুরলে ৩৬০° কোণ তৈরি করে।

তাহলে চাকাটি ১.৫ বার ঘুরলে মোট কোণ তৈরি করবে = (৩৬০° × ১.৫) = ৫৪০°।

অতএব, চাকাটি এক সেকেন্ডে ৫৪০° ঘোরে।

৪২. একটি ক্লাসে ৩০ জন ছাত্র আছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন ফুটবল খেলে এবং ১৪ জন ক্রিকেট খেলে এবং ৫ জন কিছুই খেলে না। কত জন উভয়টি খেলে?

ক) ৩

খ) ৫

গ) ৭

ঘ) ৯

সঠিক উত্তরঃ গ) ৭

সহজ ব্যাখ্যাঃ চলুন সহজ লজিকে হিসাবটি বুঝে নিই--

ধাপ ১ঃ ক্লাসে মোট ছাত্র ৩০ জন। এর মধ্যে ৫ জন কিছুই খেলে না। 

তাহলে মোট খেলোয়াড় আছে = (৩০ - ৫) = ২৫ জন। অর্থাৎ, ফুটবল বা ক্রিকেট কোনো না কোনো খেলা খেলে এমন ছাত্র ২৫ জন।

ধাপ ২ঃ প্রশ্নে বলা আছে ফুটবল খেলে ১৮ জন এবং ক্রিকেট খেলে ১৪ জন। এই দুটি যোগ করলে হয় = (১৮ + ১৪) = ৩২ জন।

ধাপ ৩ঃ আমাদের মোট খেলোয়াড় ছিল ২৫ জন, কিন্তু যোগ করে পেলাম ৩২ জন। এই যে বাড়তি ছাত্র বের হলো, তারাই মূলত দুটি খেলাই খেলে।

সুতরাং, উভয় খেলা খেলে = (৩২ - ২৫) = ৭ জন।


৪৩. একটি সোনার গহনার ওজন ১৬ গ্রাম। এতে সোনা ও তামার অনুপাত ৩:১। এতে কি পরিমাণ সোনা মেশালে অনুপাত ৪:১ হবে?

ক) ৮ গ্রাম

খ) ৬ গ্রাম

গ) ৩ গ্রাম

ঘ) ৪ গ্রাম

সঠিক উত্তরঃ ঘ) ৪ গ্রাম

সহজ ব্যাখ্যাঃ প্রশ্নটি ভেঙে সমাধান করলে দাঁড়ায়-

ধাপ ১ঃ অনুপাতের যোগফল = ৩ + ১ = ৪।

১৬ গ্রাম গহনায় সোনা আছে = ১৬ এর (৩/৪) অংশ = ১২ গ্রাম।

তাহলে তামা আছে = ১৬ - ১২ = ৪ গ্রাম।

ধাপ ২ঃ নতুন অনুপাত হবে সোনা : তামা = ৪ : ১।

যেহেতু আমরা শুধু সোনা মেশাবো, তামার পরিমাণ কিন্তু আগের মতোই ৪ গ্রাম থাকবে। নতুন অনুপাত অনুযায়ী ১ ভাগ তামা যদি ৪ গ্রাম হয়, তবে ৪ ভাগ সোনা হতে হবে = (৪ × ৪) = ১৬ গ্রাম।

ধাপ ৩ঃ আগে সোনা ছিল ১২ গ্রাম, এখন লাগবে ১৬ গ্রাম।

অতএব, অতিরিক্ত সোনা মেশাতে হবে = (১৬ - ১২) = ৪ গ্রাম।

৪৪. ১,০০০ টাকা ক ও খ ১:৪ অনুপাতে ভাগ করে নেয়। খ-এর অংশ সে এবং তার মা ও মেয়ের মধ্যে ২:১:১ অনুপাতে ভাগ করে। মেয়ে কত টাকা পাবে?

ক) ১০০ টাকা

খ) ৪০০ টাকা

গ) ২০০ টাকা

ঘ) ৮০০ টাকা

সঠিক উত্তরঃ গ) ২০০ টাকা

সহজ ব্যাখ্যাঃ দুই ভাগে হিসাবটি করলে খুব সহজেই বোঝা যায়

প্রথম ভাগ (ক ও খ এর মধ্যে): ক ও খ এর অনুপাত ১:৪ (যোগফল = ৫)।

১০০০ টাকার মধ্যে 'খ' পাবে = ১০০০ এর (৪/৫) অংশ = ৮০০ টাকা।

দ্বিতীয় ভাগ (খ এর টাকা তার মা ও মেয়ের মধ্যে): খ এর টাকা ভাগ হবে ২:১:১ অনুপাতে (যোগফল = ২ + ১ + ১ = ৪)।

এই ৪ ভাগের মধ্যে মেয়ের অংশ হলো ১ ভাগ।

সুতরাং, মেয়ে পাবে = ৮০০ টাকার (১/৪) অংশ = ২০০ টাকা।

৪৫. ৯৯৯৯৯৯-এর সঙ্গে কোন ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যোগ করলে যোগফল ২, ৩, ৪, ৫ এবং ৬ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য হবে?

ক) ২১

খ) ৩৯

গ) ৩৩

ঘ) ২৯

সঠিক উত্তরঃ ক) ২১

সহজ ব্যাখ্যাঃ তিনটি সহজ ধাপে উত্তরটি বের করা যায়

ধাপ ১ঃ প্রথমে ২, ৩, ৪, ৫ এবং ৬ এর লসাগু বের করতে হবে। এদের লসাগু হলো ৬০। অর্থাৎ যে সংখ্যা ৬০ দ্বারা বিভাজ্য, তা এই সবগুলো সংখ্যা দিয়েই বিভাজ্য হবে।

ধাপ ২ঃ এবার লসাগু (৬০) দিয়ে ৯৯৯৯৯৯ কে ভাগ করতে হবে। ভাগ করলে দেখা যাবে ভাগশেষ বা অবশিষ্ট থাকে ৩৯।

ধাপ ৩ঃ যেহেতু আমাদের সংখ্যা যোগ করতে বলা হয়েছে, তাই লসাগু থেকে এই ভাগশেষ বিয়োগ করতে হবে।

অতএব, নির্ণেয় ক্ষুদ্রতম সংখ্যা = ৬০ - ৩৯ = ২১।

৪৬. একটি কুকুর একটি খরগোশকে ধরার জন্য তাড়া করে। কুকুর যে সময়ে ৪ বার লাফ দেয়, খরগোশ সে সময়ে ৫ বার লাফ দেয়। কিন্তু খরগোশ ৪ লাফে যতদূর যায়, কুকুর ৩ লাফে ততদূর যায়। কুকুর ও খরগোশের গতিবেগের অনুপাত কত?

ক) ১৫ : ১৬

খ) ২০ : ১২

গ) ১৬ : ১৫

ঘ) ১২ : ২০

সঠিক উত্তরঃ গ) ১৬ : ১৫

সহজ ব্যাখ্যাঃ এই ধরনের অঙ্কের জন্য একটা চমৎকার ও সহজ শর্টকাট ট্রিক আছে। চলো ধাপে ধাপে দেখি

ধাপ ১ঃ প্রশ্নে দুই ধরনের তথ্য দেওয়া আছে। প্রথমে দেওয়া আছে লাফের সংখ্যা (কুকুর ৪ বার লাফ দিলে খরগোশ দেয় ৫ বার)। আর শেষে দেওয়া আছে লাফের দূরত্বের তুলনা (কুকুর ৩ লাফে যতদূর যায়, খরগোশ ৪ লাফে ততদূর যায়)।

ধাপ ২ঃ গতিবেগের অনুপাত বের করার জন্য আমরা দুই পাশের তথ্য আড়াআড়ি গুণ (Cross Multiplication) করবো।

 কুকুরের গতিবেগের অংশ = (কুকুরের প্রথম লাফের সংখ্যা ৪ × খরগোশের শেষের দূরত্বের লাফের সংখ্যা ৪) = ১৬।

 খরগোশের গতিবেগের অংশ = (কুকুরের শেষের দূরত্বের লাফের সংখ্যা ৩ × খরগোশের প্রথম লাফের সংখ্যা ৫) = ১৫।

অতএব, কুকুর ও খরগোশের গতিবেগের অনুপাত = ১৬ : ১৫।

৪৭. এক দোকানদার ১১০ টাকা কেজি দামের কিছু চায়ের সঙ্গে ১০০ টাকা কেজি দামের দ্বিগুণ পরিমাণ চা মিশ্রিত করে তা ১২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করে মোট ২,০০০ টাকা লাভ করল। দোকানদার দ্বিতীয় প্রকারের কত কেজি চা ক্রয় করেছিল?

ক) ১০০ কেজি

খ) ৮০ কেজি

গ) ৫০ কেজি

ঘ) ৬০ কেজি

সঠিক উত্তরঃ খ) ৮০ কেজি

সহজ ব্যাখ্যাঃ ধাপে ধাপে হিসাবটি করলে খুব সহজেই পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে

ধাপ ১ঃ ধরি, প্রথম প্রকারের চা কেনা হয়েছিল 'x' কেজি। যেহেতু দ্বিতীয় প্রকারের চা দ্বিগুণ কেনা হয়েছে, তাই দ্বিতীয় প্রকারের চা = '2x' কেজি। তাহলে মোট চায়ের পরিমাণ = (x + 2x) = 3x কেজি।

ধাপ ২ঃ এবার মোট ক্রয়মূল্য বা কেনা দাম হিসাব করি

১ম প্রকারের দাম = x × ১১০ = ১১০x টাকা।

২য় প্রকারের দাম = 2x × ১০০ = ২০০x টাকা।

মোট কেনা দাম = ১১০x + ২০০x = ৩১০x টাকা।

ধাপ ৩ঃ এবার মোট বিক্রয়মূল্য হিসাব করি

সব চা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়েছে। সুতরাং, মোট বিক্রি দাম = 3x × ১২০ = ৩৬০x টাকা।

ধাপ ৪ঃ লাভ বের করার নিয়ম হলো (বিক্রি দাম - কেনা দাম)।

প্রশ্নে বলা আছে লাভ হয়েছে ২০০০ টাকা। 

শর্তমতে, ৩৬০x - ৩১০x = ২০00

বা, ৫০x = ২০০০

বা, x = ২০০০ ÷ ৫০ = ৪০।

সুতরাং, প্রথম প্রকারের চা = ৪০ কেজি। আর দ্বিতীয় প্রকারের চা ছিল দ্বিগুণ, অর্থাৎ = (৪০ × ২) = ৮০ কেজি।

৪৮. একটি সরল রেখার উপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফল ঐ সরল রেখার এক-চতুর্থাংশের ওপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফলের কত গুণ?

ক) ১৬

খ) ৪

গ) ৮

ঘ) ২

সঠিক উত্তরঃ ক) ১৬

সহজ ব্যাখ্যাঃ চলুন কোনো কঠিন সূত্র ছাড়াই এটি মনে মনে হিসাব করি

ধাপ ১ঃ মনে করি, মূল সরল রেখাটির দৈর্ঘ্য ৪ মিটার। তাহলে এর ওপর একটি বর্গ আঁকলে তার ক্ষেত্রফল হবে = (বাহু × বাহু) = ৪ × ৪ = ১৬ বর্গমিটার।

ধাপ ২ঃ এবার রেখাটির 'এক-চতুর্থাংশ' বা ৪ ভাগের ১ ভাগ করি। ৪ মিটারের ৪ ভাগের ১ ভাগ হলো মাত্র ১ মিটার। এবার এই ১ মিটারের ওপর বর্গ আঁকলে তার ক্ষেত্রফল হবে = ১ × ১ = ১ বর্গমিটার।

ধাপ ৩ঃ এখন তুলনা করে দেখুন, প্রথম বর্গের ক্ষেত্রফল (১৬) দ্বিতীয় বর্গের ক্ষেত্রফলের (১) কত গুণ? পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এটি ১৬ গুণ (১৬ ÷ ১ = ১৬)। 

৪৯. ৮ জন লোক একটি কাজ ১২ দিনে করতে পারে। দুজন লোক কমিয়ে দিলে কাজটি সমাধান করতে শতকরা কত দিন বেশি লাগবে?

ক) ২৫%

খ) ৩৩(১/৩)%

গ) ৫০%

ঘ) ৬৬(২/৩)%

সঠিক উত্তরঃ খ) ৩৩(১/৩)%

সহজ ব্যাখ্যাঃ ঐকিক নিয়মে খুব সহজে এটি করা যায়—

ধাপ ১ঃ প্রথমে ৮ জন লোক কাজটি করতো ১২ দিনে। এখন ২ জন কমিয়ে দেওয়া হলো, তাহলে লোক সংখ্যা হলো = (৮ - ২) = ৬ জন।

ধাপ ২ঃ এখন বের করি ৬ জন লোকের কত দিন লাগবে

৮ জন লোকের লাগে = ১২ দিন

১ জন লোকের লাগবে = ১২ × ৮ দিন (লোক কমলে দিন বেশি লাগবে)

৬ জন লোকের লাগবে = (১২ × ৮) ÷ ⑥ = ১৬ দিন।

ধাপ ৩ঃ আগে লাগতো ১২ দিন, এখন লাগে ১৬ দিন। অর্থাৎ দিন বেশি লাগছে = (১৬ - ১২) = ৪ দিন।

ধাপ ৪ঃ এবার শতকরা হিসাব করি, ১২ দিনে দিন বেশি লাগে ৪ দিন। 

তাহলে ১০০ দিনে বেশি লাগবে = (৪ × ১০০) ÷ ১২ = ১০০/৩ = ৩৩(১/৩) %।

৫০. একজন চাকরিজীবীর বেতনের ১/১০ অংশ কাপড় ক্রয়ে, ১/৩ অংশ খাদ্য ক্রয়ে এবং ১/৫ অংশ বাসা ভাড়ায় ব্যয় হয়। তার আয়ের শতকরা কত ভাগ অবশিষ্ট রইল?

ক) ৩৬(২/৩)%

খ) ৩৭(১/২)%

গ) ৪২(১/২)%

ঘ) ৪৬(২/৩)%

সঠিক উত্তরঃ ক) ৩৬(২/৩)%

সহজ ব্যাখ্যা: ভগ্নাংশের সহজ নিয়মে হিসাবটি নিচে দেওয়া হলোঃ

ধাপ ১ঃ প্রথমে মোট খরচের অংশগুলো যোগ করি: (১/১০ + ১/৩ + ১/৫)। ১০, ৩ এবং ৫ এর লসাগু হলো ৩০।

যোগ করলে পাই = (৩ + ১০ + ৬) ÷ ৩০ = ১৯/৩০ অংশ। অর্থাৎ মোট ৩০ ভাগের মধ্যে ১৯ ভাগ তিনি খরচ করে ফেলেন।

ধাপ ২ঃ ধরি মোট আয় ১ (সম্পূর্ণ) অংশ। তাহলে খরচ করার পর বাকি বা অবশিষ্ট থাকে = ১ - ১৯/৩০ = ১১/৩০ অংশ।

ধাপ ৩ঃ এবার শতকরায় (১০০ এর মধ্যে) কত ভাগ অবশিষ্ট রইল তা বের করি—

শতকরা অবশিষ্ট = (১১/৩০) × ১০০% = ১১০/৩ % = ৩৬(২/৩) %।

৫১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) ক্যাডার কয়টি?

ক) ২৯টি

খ) ২২টি

গ) ২১টি

ঘ) ২৫টি

বিশেষ দ্রষ্টব্য (Note)ঃএই প্রশ্নটি ১৯৯৯ সালের ২১তম বিসিএস পরীক্ষার। সেই সময় সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা আলাদা ছিল (পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্যাডার বিলুপ্ত ও একীভূত করা হয়েছে)। বর্তমানে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিসিএস ক্যাডার সংখ্যা মোট ২৬টি। (পরীক্ষায় বর্তমান তথ্য অনুযায়ী উত্তর করতে হবে)।

৫২. বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়?

ক) ২৫

খ) ২৮

গ) ৪০

ঘ) ৪২

সঠিক উত্তরঃ খ) ২৮

সহজ ব্যাখ্যাঃ আমাদের সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে মূলত সবার জন্য সমতার কথা বলা হয়েছে। তবে এর ২৮(৪) উপ-অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেটি হলোঃ সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে নারী, শিশু কিংবা পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের (অনগ্রসর অংশ) এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্র চাইলে যেকোনো বিশেষ আইন বা সুবিধা (যেমনঃ কোটা বা বিশেষ ভাতা) তৈরি করতে পারবে।

৫৩. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বাইরে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত কোন কাজ একাকী করতে পারেন?

ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ

খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

গ) অডিটর জেনারেল নিয়োগ

ঘ) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ

সঠিক উত্তরঃ খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছুটা সীমিত। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রায় সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয়। তবে মাত্র দুটি কাজ রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে বা নিজের ইচ্ছায় করতে পারেন একটি হলো 'প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা' এবং অন্যটি হলো দেশের 'প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা'।

৫৪. বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্য কি ছিল?

ক) জরুরী অবস্থা ঘোষণা

খ) মহিলাদের জন্য সংসদের আসন সংরক্ষণ

গ) সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা

ঘ) ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির বিচার অনুষ্ঠান

সঠিক উত্তরঃ ঘ) ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির বিচার অনুষ্ঠান

সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যেসব পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা যুদ্ধাপরাধ করেছিল, তাদের বিচার করাটা জরুরি ছিল। এই ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির ট্রায়াল বা বিচার নিশ্চিত করার আইনি ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দেওয়ার জন্যই ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সংবিধানের 'প্রথম সংশোধনী' আনা হয়েছিল।

৫৫. ঢাকা কখন সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী হয়েছিল?

ক) ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে

খ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে

গ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে

ঘ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে

সঠিক উত্তরঃ খ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে

সহজ ব্যাখ্যাঃ মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬১০ সালে সুবাদার ইসলাম খান চিশতী বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে পরিবর্তন করে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে তখন ঢাকার নাম রাখা হয়েছিল 'জাহাঙ্গীরনগর'। এটিই ছিল ইতিহাসের পাতায় ঢাকার প্রথম রাজধানী হওয়ার গৌরবময় অধ্যায়।

৫৬. যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতুর পিলার কয়টি?

ক) ৭৫টি

খ) ৫৯টি

গ) ৫০টি

ঘ) ৪৫টি

সঠিক উত্তরঃ গ) ৫০টি

সহজ ব্যাখ্যাঃ যমুনা নদীর ওপর নির্মিত আমাদের গৌরব 'বঙ্গবন্ধু সেতু'র মোট দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার। এই বিশাল সেতুটি ধরে রাখার জন্য নদী ও পাড় মিলিয়ে মোট ৫০টি পিলার (খুঁটি) ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর ওপর বসানো হয়েছে ৪৯টি স্প্যান।

৫৭. জাতীয় সংসদে কোরাম হয় কত জনে?

ক) ৯০ জন

খ) ৭৫ জন

গ) ৬০ জন

ঘ) ৫০ জন

সঠিক উত্তরঃ গ) ৬০ জন

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'কোরাম' মানে হলো যেকোনো সভার কার্যক্রম বা বৈঠক বৈধভাবে শুরু করার জন্য ন্যূনতম যতজন সদস্য উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। আমাদের জাতীয় সংসদের নিয়ম (সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদ) অনুযায়ী, সংসদে কমপক্ষে ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না থাকলে অধিবেশন চালানো যায় না। ৬০ জনের কম থাকলে স্পিকার বৈঠক স্থগিত করতে পারেন।

৫৮. জাতীয় সংসদ ভবন কত একর জমির ওপর নির্মিত?

ক) ৩২০ একর

খ) ২১৫ একর

গ) ১৮৫ একর

ঘ) ১২২ একর

সঠিক উত্তরঃ খ) ২১৫ একর

সহজ ব্যাখ্যাঃ ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত আমাদের চোখ ধাঁধানো জাতীয় সংসদ ভবনটি একটি বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি। চারপাশের সবুজ চত্বর, কৃত্রিম লেকসহ পুরো সংসদ ভবন এলাকাটি মোট ২১৫ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ১৯৬২ সালে।

৫৯. সংসদ ভবনের স্থপতি কে?

ক) মাজহারুল হক

খ) লুই আই কান

গ) এফ আর খান

ঘ) নভেরা আহমেদ

সঠিক উত্তরঃ খ) লুই আই কান

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন পৃথিবীর অন্যতম সেরা একটি স্থাপত্য শিল্প। এর মূল নকশা বা ডিজাইন করেছিলেন আমেরিকার বিখ্যাত স্থপতি 'লুই আই কান' (Louis I Kahn)। তিনি তাঁর এই অমর সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের বুকে বিশ্বমানের এক স্থাপত্য নিদর্শন রেখে গেছেন।

৬০. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটি জাতীয় সংসদে কবে পাস করা হয়?

ক) ২১ জানুয়ারি ১৯৯১

খ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২

গ) ২৭ মার্চ ১৯৯৬

ঘ) ২৮ এপ্রিল ১৯৯৭

সঠিক উত্তরঃ গ) ২৭ মার্চ ১৯৯৬

সহজ ব্যাখ্যাঃ দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' বিলটি পাস করা হয়েছিল। অবশ্য পরবর্তীতে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থাটি আবার বাতিল করা হয়।

৬১. ভারতের সাথে বাংলাদেশের পানি চুক্তি কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?

ক) দার্জিলিং

খ) কলকাতা

গ) নয়াডিল্লি

ঘ) ঢাকা

সঠিক উত্তরঃ গ) নয়াডিল্লি

সহজ ব্যাখ্যাঃ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদী 'গঙ্গা পানি চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। এই চুক্তিটি ভারতের রাজধানী 'নয়াডিল্লি'-র হায়দরাবাদ হাউসে বসে সই করেছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া।

৬২. পদ্মা ও যমুনা কোথায় মিলিত হয়েছে?

ক) চাঁদপুর

খ) সিরাজগঞ্জ

গ) গোয়ালন্দ

ঘ) ভোলা

সঠিক উত্তরঃ গ) গোয়ালন্দ

সহজ ব্যাখ্যাঃ ভৌগোলিক দিক থেকে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। হিমালয় থেকে আসা পদ্মা নদী এবং তিব্বত থেকে আসা যমুনা নদী রাজবাড়ী জেলার 'গোয়ালন্দ' নামক জায়গায় (দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে) এসে একে অপরের সাথে মিশে গেছে। এরপর এই মিলিত ধারাটি 'পদমা' নাম নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।

৬৩. বাংলাদেশে কবে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়?

ক) ১৯৫৫ সালে

খ) ১৯৫৭ সালে

গ) ১৯৬৭ সালে

ঘ) ১৯৭২ সালে

সঠিক উত্তরঃ খ) ১৯৫৭ সালে

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের ইতিহাসে ১৯৫৫ সালটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সে বছর সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল। তবে সেই কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বা আসল অর্থে গ্যাস তোলার কাজ (উত্তোলন) শুরু হয়েছিল তার ঠিক দুই বছর পর, অর্থাৎ ১৯৫৭ সালে।

৬৪. 'লালসালু' উপন্যাসটির লেখক কে?

ক) মুনির চৌধুরী

খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্

গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ঘ) শওকত আলী

সঠিক উত্তরঃ খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্

সহজ ব্যাখ্যাঃবাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা এবং কালজয়ী একটি সামাজিক উপন্যাস হলো 'লালসালু'। লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং ধর্মকে পুঁজি করে মজিদ নামের এক চালাক চরিত্রের ভণ্ডামিকে এই উপন্যাসে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই বইটির ইংরেজি অনুবাদের নাম 'Tree Without Roots'।

৬৫. বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা কে?

ক) দুদু মিয়া

খ) তিতুমীর

গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ

ঘ) সৈয়দ আহমদ

সঠিক উত্তরঃ গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'ফরায়েজী' শব্দটি এসেছে আরবী 'ফরজ' (যা অবশ্যই পালনীয়) শব্দ থেকে। উনিশ শতকের শুরুতে বাংলার মুসলমানদেরকে তাদের ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে ইসলামের মৌলিক ফরজ কাজগুলো সঠিকভাবে পালন করার জন্য হাজী শরীয়তউল্লাহ এই আন্দোলনের ডাক দেন। ওনার মৃত্যুর পর ওনার যোগ্য পুত্র 'দুদু মিয়া' এই আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান।

৬৬. বর্তমানে বাংলাদেশে গড়পড়তা মাথাপিছু আয় কত মার্কিন ডলার?

ক) ২৪২ ডলার

খ) ৩০০ ডলার

গ) ২৮৯ ডলার

ঘ) ৪০০ ডলার

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই প্রশ্নটি ১৯৯৯ সালের বিসিএস পরীক্ষার সময়কার। তখনকার হিসেবে সঠিক উত্তর ভিন্ন হলেও, বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী এই আয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্লগ পাঠকদের আপডেটেড রাখার জন্য পরীক্ষার সর্বশেষ বা সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য জেনে উত্তর করতে হবে।

৬৭. ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবির প্রথম দাবি কি ছিল?

ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন

খ) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা

গ) পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ

ঘ) বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি স্বত্বের উচ্ছেদ সাধন

সঠিক উত্তরঃ খ) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা

সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য মোট ২১টি দাবি বা এজেন্ডা তৈরি করা হয়েছিল, যা ইতিহাসে '২১ দফা' নামে পরিচিত। যেহেতু আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলা নিয়ে আন্দোলন চলছিল, তাই এই ঐতিহাসিক ২১ দফার একেবারে ১ নম্বর বা প্রথম দাবিটিই ছিল 'বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা'।

৬৮. বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় কোন খাত থেকে?

ক) চা

খ) পাট ও পাটজাত দ্রব্য

গ) তৈরি পোশাক

ঘ) চিংড়ি মাছ

সঠিক উত্তরঃ গ) তৈরি পোশাক

সহজ ব্যাখ্যাঃ আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চাকা বা মেরুদণ্ড হলো গার্মেন্টস শিল্প বা তৈরি পোশাক খাত (RMG)। বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের পোশাক এখন বাংলাদেশে তৈরি হয়। প্রতি বছর এই তৈরি পোশাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা (মার্কিন ডলার) আয় করে থাকে।

৬৯. সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে শিক্ষিতের হার সর্বাধিক কোন দেশে?

ক) ভারতে

খ) বাংলাদেশে

গ) শ্রীলঙ্কায়

ঘ) নেপালে

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ১৯৯৯ সালের প্রশ্ন অনুযায়ী অপশনে থাকা দেশগুলোর মধ্যে 'শ্রীলঙ্কা' সঠিক উত্তর হলেও, ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত (SAARC) দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার বা সাক্ষরতার হার দ্বীপরাষ্ট্র 'মালদ্বীপে' (প্রায় ৯৯.৩২%)। 

৭০. OPEC ভুক্ত দেশ কয়টি?

ক) ১০টি

খ) ১১টি

গ) ৮টি

ঘ) ১২টি

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ OPEC (Organization of the Petroleum Exporting Countries) হলো পৃথিবীর প্রধান তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৯৬০ সালে এটি গঠিত হয়। সময়ের সাথে সাথে এর সদস্য সংখ্যা ওঠানামা করেছে। বর্তমানে ওপেক-এর মোট স্থায়ী সদস্য দেশ হচ্ছে ১৩টি।

৭১. জাতিসংঘ কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ১৯৪১ সালে

খ) ১৯৪৫ সালে

গ) ১৯৪৮ সালে

ঘ) ১৯৮৯ সালে

সঠিক উত্তরঃ খ) ১৯৪৫ সালে

সহজ ব্যাখ্যাঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখার পর পৃথিবীর সব দেশ মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ভবিষ্যতে যেন আর এমন কোনো বড় যুদ্ধ না হয় এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় থাকে। সেই লক্ষ্য নিয়েই ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে 'জাতিসংঘ' (United Nations) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এজন্য প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে 'জাতিসংঘ দিবস' পালন করা হয়।

৭২. নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (NATO) কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ১৯৪৫ সালে

খ) ১৯৪৮ সালে

গ) ১৯৪৯ সালে

ঘ) ১৯৫১ সালে

সঠিক উত্তরঃ গ) ১৯৪৯ সালে

সহজ ব্যাখ্যাঃ সহজ কথায়, NATO হলো পশ্চিমা দেশগুলোর একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সামরিক জোট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (কমিউনিজম) প্রভাব ও সামরিক শক্তি মোকাবিলা করার জন্য ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো মিলে এই চুক্তি বা জোটটি গঠন করেছিল।

৭৩. নেলসন ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক দলের নাম কি?

ক) ইনক্থা ফ্রিডম পার্টি

খ) ন্যাশনালিষ্ট পার্টি

গ) আফ্রিকান সোস্যালিষ্ট পার্টি

ঘ) আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস

সঠিক উত্তরঃ ঘ) আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস

সহজ ব্যাখ্যাঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মহান নেতা এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব হলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার আদায় এবং বর্ণবাদের অবসান ঘটানোর জন্য তিনি আজীবন যে দলটির হয়ে রাজনীতি ও লড়াই করেছিলেন, তার নাম হলো 'আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস' (সংক্ষেপে ANC)।

৭৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কত তারিখে এবং কোন বছর স্বাক্ষরিত হয়?

ক) ২৩ জুন, ১৯৯৬

খ) ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯৬

গ) ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭

ঘ) ১০ মার্চ, ১৯৯৮

সঠিক উত্তরঃ গ) ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) দীর্ঘদিনের অশান্তি ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত দূর করার জন্য তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির (শান্তিবাহিনী) মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটিকে আমরা 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি' নামে চিনি।

৭৫. ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাষ্ট্রপতির নাম কি?

ক) জেনারেল হাবিবী

খ) মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী

গ) আবদুর রহমান ওয়াহিদ

ঘ) জেনারেল বিরাস্তো

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই প্রশ্নটি ১৯৯৯ সালের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের। সেই সময়কালের প্রেক্ষাপটে সঠিক উত্তর ছিল (গ) আবদুর রহমান ওয়াহিদ, যিনি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ৪র্থ প্রেসিডেন্ট। তবে তোমার ব্লগের পাঠকদের আপডেটেড রাখার জন্য বর্তমান বা সাম্প্রতিক সময়ের সরকারি তথ্য ও চলমান রাষ্ট্রপ্রধানের নাম জেনে উত্তর করতে হবে।

৭৬. সম্প্রতি কোন দেশকে কমনওয়েলথ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে?

ক) নাইজেরিয়া

খ) শ্রীলংকা

গ) পাকিস্তান

ঘ) ভারত

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এটিও ১৯৯৯ সালের একটি সমসাময়িক (Current Affairs) প্রশ্ন ছিল। ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে 'পাকিস্তান'-এর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল। কমনওয়েলথের নিয়ম হলোঃ কোনো দেশে অগণতান্ত্রিকভাবে বা সামরিক কায়দায় সরকার পরিবর্তন হলে তাদের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বহিষ্কার করা হয় (যেমনটা নাইজেরিয়া, ফিজি বা মালদ্বীপের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে হয়েছিল)।

৭৭. দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলো কবে সাপটা (SAPTA) চুক্তি সই করে?

ক) ১৯৭৬ সালে

খ) ১৯৮৫ সালে

গ) ১৯৯৩ সালে

ঘ) ১৯৯৪ সালে

সঠিক উত্তরঃ গ) ১৯৯৩ সালে

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'SAPTA'-এর পূর্ণ রূপ হলো SAARC Preferential Trading Arrangement। এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কভুক্ত (SAARC) দেশগুলোর মধ্যকার একটি বাণিজ্য চুক্তি, যার লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা। ১৯৯৩ সালের ১১ এপ্রিল তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্কের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সই করা হয়।

৭৮. শতাব্দীর সর্বশেষ অলিম্পিক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?

ক) রোম

খ) সিডনি

গ) মস্কো

ঘ) টরেন্টো

সঠিক উত্তরঃ খ) সিডনি

সহজ ব্যাখ্যাঃ বিশ শতক বা ২০তম শতাব্দীর একদম শেষ অলিম্পিক গেমসটি (২৭তম অলিম্পিক) ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার 'সিডনি' শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০০ সালটি যেহেতু শতাব্দীর শেষ বছর, তাই প্রশ্নকর্তা এভাবে ঘুরিয়ে প্রশ্নটি করেছিলেন। (মনে রাখার ট্রিক: ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিককে 'মিলেনিয়াম অলিম্পিক গেমস'-ও বলা হয়ে থাকে)।

৭৯. কোন চুক্তিতে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে?

ক) ন্যাটো (NATO)

খ) সিটিবিটি (CTBT)

গ) এনপিক্টি (NPT)

ঘ) সল্ট (SALT)

সঠিক উত্তরঃ খ) সিটিবিটি (CTBT)

সহজ ব্যাখ্যাঃ CTBT-এর পূর্ণ রূপ হলো Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty (ব্যাপকভিত্তিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি)। ১৯৯৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এই চুক্তির মূল কথাই হলোঃ পৃথিবীর কোথাও, কোনো দেশ, সামরিক বা বেসামরিক কোনো উদ্দেশ্যেই কোনো ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা পরীক্ষা চালাতে পারবে না। 

৮০. কয়টি দেশ নিয়ে জাতিসংঘ যাত্রা শুরু করেছিল?

ক) ৪৮টি

খ) ৫০টি

গ) ৫১টি

ঘ) ৬০টি

সঠিক উত্তরঃ গ) ৫১টি

সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৪৫ সালের জুনে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে মূলত ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে জাতিসংঘের মূল সনদ বা দলিলের খসড়া তৈরি ও স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে ওই সম্মেলনে উপস্থিত হতে না পারলেও 'পোল্যান্ড' দেশটিকে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে রাখা হয় এবং তারা পরে সনদে স্বাক্ষর করে। ফলে এই ৫০ + ১ = মোট ৫১টি দেশ নিয়ে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে তার যাত্রা শুরু করেছিল।

৮১. বেনিন প্রজাতন্ত্র কোন মহাদেশে অবস্থিত?

ক) এশিয়া

খ) ইউরোপ

গ) দক্ষিণ আমেরিকা

ঘ) আফ্রিকা

সঠিক উত্তরঃ ঘ) আফ্রিকা

সহজ ব্যাখ্যাঃ 'বেনিন' (Benin) হলো পশ্চিম আফ্রিকার একটি ছোট ও সুন্দর স্বাধীন দেশ। এর রাজধানীর নাম পোর্টো নোভো (Porto-Novo) এবং এখানকার মানুষ প্রধানত ফরাসি (French) ভাষায় কথা বলে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।

৮২. বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহৎ সাহায্যদানকারী দেশ কোনটি?

ক) জাপান 

খ) জার্মানি 

গ) যুক্তরাজ্য 

ঘ) যুক্তরাষ্ট্র

সঠিক উত্তরঃ ক) জাপান

সহজ ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম বড় অংশীদার হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। মেগা প্রজেক্ট যেমন— ঢাকা মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের (JICA) অবদান সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। 

৮৩. গ্রুপ-৭৭ কোন ধরনের দেশ নিয়ে গঠিত?

ক) উন্নত 

খ) উন্নয়নশীল 

গ) ঔপনিবেশিক 

ঘ) অনুন্নত

সঠিক উত্তরঃ খ) উন্নয়নশীল

সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৬৪ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCTAD)-এ বিশ্বের ৭৭টি 'উন্নয়নশীল দেশ' মিলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এই জোটটি গঠন করেছিল। পরবর্তীতে এর সদস্য সংখ্যা অনেক বাড়লেও (বর্তমানে ১৩৪টি দেশ), এর ঐতিহাসিক নাম 'Group of 77' বা G-77 ই রয়ে গেছে।

৮৮. ১৯৯৫ সালে বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের মূল স্লোগান কি ছিল?

ক) নারীর দৃষ্টিতে বিশ্বকে দেখ 

খ) বিশ্বের নারীরা এক হও

গ) নারীর অধিকার মানবাধিকার 

ঘ) নারী নির্যাতন বন্ধ কর

সঠিক উত্তরঃ ক) নারীর দৃষ্টিতে বিশ্বকে দেখ

সহজ ব্যাখ্যাঃ ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চীনের বেইজিংয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক একটি নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নারীদের সমঅধিকার, ক্ষমতায়ন ও সমাজে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই ৪র্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের মূল স্লোগান বা থিম ছিল "Action for Equality, Development and Peace", যার মূল दर्शनকে এক কথায় বলা হয়েছিল "নারীর দৃষ্টিতে বিশ্বকে দেখ" (Look at the world through women's eyes)।

৮৯. ধরিত্রী সম্মেলন কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়?

ক) জেনেভা 

খ) মেক্সিকো সিটি

গ) নিউইয়র্ক 

ঘ) রিওডি জেনিরিও

সঠিক উত্তরঃ ঘ) রিওডি জেনিরিও

সহজ ব্যাখ্যাঃ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ও প্রথম বড় মাইলফলক হলো 'ধরিত্রী সম্মেলন' (Earth Summit)। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের সুন্দর শহর 'রিও ডি জেনিরিও'-তে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

৯১. বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরের অবক্ষয়ে কোন গ্যাসটির ভূমিকা সর্বোচ্চ?

ক) কার্বন-ডাই-অক্সাইড 

খ) জলীয় বাষ্প

গ) CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন 

ঘ)াইট্রিক অক্সাইড

সঠিক উত্তরঃ গ) CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন

সহজ ব্যাখ্যা: আমাদের রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত হওয়া 'CFC' (Chlorofluorocarbon) গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোনস্তরের (O₃) সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। CFC-এর ভেতরের ক্লোরিন পরমাণু ওজোন অণুকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে দেয়, ফলে ওজোনস্তর পাতলা হয়ে যায় এবং সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে চলে আসে।


৯২. 'ড্রাই আইস' (dry ice) হলো----

ক) কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাই-অক্সাইড 

খ) কঠিন অবস্থায় সালফার ডাই-অক্সাইড

গ) শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিচে বরফ 

ঘ) হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কঠিন অবস্থা

সঠিক উত্তরঃ ক) কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাই-অক্সাইড

সহজ ব্যাখ্যাঃ সাধারণ বরফ গললে পানি হয়ে যায় এবং চারপাশ ভিজিয়ে ফেলে। কিন্তু কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে যখন উচ্চ চাপে এবং তীব্র ঠাণ্ডায় (মাইনাস ৭৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) কঠিন টুকরোয় পরিণত করা হয়, তখন তা কোনো তরল না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। যেহেতু এটি গললে কোনো তরল বা ভেজা ভাব তৈরি করে না, তাই একে 'ড্রাই আইস' বা শুষ্ক বরফ বলা হয়। এটি স্টেজ শো-তে কৃত্রিম ধোঁয়া তৈরিতে এবং খাবার বা ল্যাবরেটরির নমুনা হিমায়িত রাখতে ব্যবহৃত হয়।

৯৩. কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়?

ক) শশুক 

খ) তিমি

গ) ইলিশ 

ঘ) হাঙর

সঠিক উত্তরঃ খ) তিমি (বিকল্পের মধ্যে 'তিমি' ও 'শশুক/ডলফিন' দুটোই স্তন্যপায়ী এবং ফুসফুসের সাহায্যে বাতাসে শ্বাস নেয়)।

সহজ ব্যাখ্যাঃ মাছেরা সাধারণত পানির নিচে ফুলকার (Gills) সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। কিন্তু তিমি এবং শুশুক (ডলফিন) কিন্তু আসলে মাছ নয়, এরা হলো স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের ফুসফুস রয়েছে। তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য এদেরকে কিছুক্ষণ পরপর পানির ওপরে মাথা তুলে সরাসরি বাতাসের অক্সিজেন ফুসফুসে টেনে নিতে হয়।

৯৪. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় সেটি হলো---

ক) চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয় 

খ) এই রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়

গ) এই রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে 

ঘ) ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়

সঠিক উত্তরঃ ক) চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়

সহজ ব্যাখ্যাঃ আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত বড় ভুল ধারণা হলো  বেশি মিষ্টি বা চিনি খেলে বুঝি ডায়াবেটিস হয়! চিকিৎসাবিজ্ঞানের সত্যটি হলো মানবদেহের অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে যদি পর্যাপ্ত 'ইনসুলিন' হরমোন তৈরি না হয় বা উৎপাদিতে ইনসুলিন যদি শরীরে ঠিকমতো কাজ না করতে পারে, তবেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ডায়াবেটিস হয়। চিনি সরাসরি এই রোগের কারণ নয়, তবে অলস জীবনযাপন ও বংশগত কারণে এটি হতে পারে।

৯৫. কম্পিউটার ভাইরাস হলো---

ক) এক ধরনের বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রাম 

খ) কম্পিউটারের যন্ত্রাংশে কোথাও শর্টসার্কিট

গ) কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের মধ্যে জমে থাকা ধূলা 

ঘ) কম্পিউটারের কোনো যন্ত্রাংশে ঢিলা কানেকশন

সঠিক উত্তরঃ ক) এক ধরনের বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রাম

সহজ ব্যাখ্যাঃকম্পিউটার ভাইরাস কিন্তু কোনো জৈবিক বা প্রাকৃতিক রোগজীবাণু নয়; এটি হলো মানুষের তৈরি অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং একটি বিশেষ কোডিং বা 'কম্পিউটার প্রোগ্রাম'। এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বা কোনো পেনড্রাইভের মাধ্যমে অন্য কম্পিউটারে প্রবেশ করে নিজে নিজেই নিজের কপি তৈরি করতে পারে এবং কম্পিউটারের সাধারণ ডেটা ফাইল ডিলিট বা অপারেটিং সিস্টেমের বড় ক্ষতি করে ডিভাইসটিকে বিকল করে দেয়।

৯৬. এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে---

ক) হৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেওয়া 

খ) হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো

গ) হৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে নতুন টিস্যু সংযোজন 

ঘ) হৃৎপিণ্ডে নতুন শিরা সংযোজন

সঠিক উত্তরঃ খ) হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো

সহজ ব্যাখ্যাঃ আমাদের হার্টের ধমনীতে বা রক্তনালীতে যখন চর্বি জমে রক্ত চলাচল ব্লক বা বাধাগ্রস্ত হয়, তখন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এই সংকীর্ণ বা ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনীর ভেতর ক্যাথেটারের সাহায্যে একটি বিশেষ ছোট বেলুন ও রিং (Stent) প্রবেশ করিয়ে তা ফুলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে রক্তনালীটি আবার প্রসারিত হয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে। এই আধুনিক ও চমৎকার চিকিৎসা পদ্ধতিকেই বলা হয় 'এনজিওপ্লাস্টি'।

৯৭. দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?

ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড 

খ) কার্বন মনোক্সাইড

গ) নাইট্রিক অক্সাইড 

ঘ) সালফার ডাই-অক্সাইড

সঠিক উত্তরঃ খ) কার্বন মনোক্সাইড

সহজ ব্যাখ্যাঃ কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি অত্যন্ত মারাত্মক, বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস। সাধারণত গাড়ির কালো ধোঁয়া বা কোনো কিছু অর্ধেক পুড়লে এই গ্যাস তৈরি হয়। আমাদের রক্তের হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। কিন্তু বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড থাকলে তা অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি গতিতে হিমোগ্লোবিনের সাথে মিশে 'কার্বোক্সি-হিমোগ্লোবিন' তৈরি করে ফেলে। ফলে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের জায়গা কমে যায় এবং মানুষ শ্বাসকষ্টে মারা যেতে পারে।

৯৮. স্বাভাবিক আদর্শ পরিবেশে পানির ঘনত্ব যে তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ মান পরিগ্রহ করে তা হলো---

ক) ০° সেন্টিগ্রেড 

খ) ১০০° সেন্টিগ্রেড

গ) ৪° সেন্টিগ্রেড 

ঘ) ২৬৩° কেলভিন

সঠিক উত্তরঃ গ) ৪° সেন্টিগ্রেড

সহজ ব্যাখ্যাঃ প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে যেকোনো তরল পদার্থ ঠাণ্ডা করলে তার আয়তন কমে এবং ঘনত্ব বাড়ে। কিন্তু পানির ক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত ব্যতিক্রমী ধর্ম দেখা যায়। পানিকে গরম অবস্থা থেকে ঠাণ্ডা করতে থাকলে ঠিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসে এর আয়তন সবচেয়ে কমে যায় এবং ঘনত্ব (Density) সবচেয়ে বেশি বা সর্বোচ্চ হয়। এরপর তাপমাত্রা আরও কমিয়ে ০ ডিগ্রিতে নিলে তা বরফে পরিণত হয়ে আয়তনে আবার বেড়ে যায় এবং হালকা হয়ে পানির ওপর ভাসতে থাকে।

৯৯. যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয়, তাদের বলা হয়---

ক) আইসোবার 

খ) আইসোটোপ

গ) আইসোটোন 

ঘ) আইসোমার

সঠিক উত্তরঃ খ) আইসোটোপ

সহজ ব্যাখ্যাঃ এটি মনে রাখার একটি অত্যন্ত সহজ ও চমৎকার ট্রিক রয়েছে-

আইসোটো'প' (শেষে 'প' আছে = প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউট্রন ও ভরসংখ্যা ভিন্ন)।

আইসোবা'র' (শেষে 'র' আছে = ভরসংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন)।

আইসোটো'ন' (শেষে 'ন' আছে = নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন ও ভরসংখ্যা ভিন্ন)।

১০০. মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g) সর্বোচ্চ কোথায়?

ক) ভূকেন্দ্রে 

খ) ভূপৃষ্ঠে (মেরু অঞ্চলে)

গ) ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ ফুট নিচে 

ঘ) ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ ফুট উঁচুতে

সঠিক উত্তরঃ খ) ভূপৃষ্ঠে (সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে মেরু অঞ্চলে)

সহজ ব্যাখ্যাঃ পৃথিবী কিন্তু সম্পূর্ণ গোল নয়, এটি উত্তর-দক্ষিণে বা মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা। এর ফলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মেরু অঞ্চলের দূরত্ব সবচেয়ে কম। যেহেতু কেন্দ্র থেকে দূরত্ব যত কম হয়, মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g-এর মান) তত বৃদ্ধি পায়, তাই ভূপৃষ্ঠের মেরু অঞ্চলে g-এর মান সর্বোচ্চ (৯.৮৩ m/s²) হয়। অন্যদিকে বিষুবীয় অঞ্চলে এর মান সবচেয়ে কম এবং পৃথিবীর একদম কেন্দ্রস্থলে (ভূকেন্দ্রে) গেলে এর মান হয়ে যায় শূন্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url