দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় জানতে চাইলে হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন, কীভাবে প্রেসার মাপবেন আর কোন অভ্যাসগুলো কাজে আসতে পারে এসব এখানে সহজভাবে বলা হয়েছে। প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনন্দিন কী কী করা যায় তাও থাকছে। 

দ্রুত-হাই-প্রেসার-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়

হাই প্রেসার হলে ঘরে বসে কী করা যায়, কোন ঘরোয়া উপায় না করাই ভালো আর কখন ডাক্তার দেখানো দরকার এসব নিয়েও সহজভাবে জানা যাবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

হাই প্রেসার বেড়ে গেলে অনেকেই ঘরে বসে কী করলে একটু স্বস্তি পাওয়া যায় সেটা খোঁজেন। তখন কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসে থাকা, সঠিকভাবে প্রেসার মাপা এবং লবণযুক্ত খাবার কম খাওয়ার মতো বিষয় কাজে আসতে পারে আপনার। তবে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রেসার কমানোর কোনো ঘরোয়া উপায়কে নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

নিয়মিত হাঁটাচলা করা, খাবারে লবণ কমানো, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলাও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। এসব অভ্যাস একদিনে প্রেসার কমিয়ে দেওয়ার উপায় নয় বরং নিয়মিত মেনে চললে উপকার পাওয়া যায়।

হাই প্রেসার হলে ঘরে কী করা যায়, কোন ঘরোয়া উপায়গুলো নিয়ে সাবধান থাকা দরকার এবং প্রেসার খুব বেশি হলে কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে এসব বিষয় এখানে সুন্দর করে বলা হয়েছে আপনি জানতে চাইলে নিচে গিয়ে পরে আসতে পারেন।

হাই প্রেসার কত হলে বেশি ধরা হয়

রক্তচাপ মাপার সময় ওপরের সংখ্যাকে সিস্টোলিক আর নিচের সংখ্যাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলা হয়। সাধারণভাবে রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg বা তার বেশি হলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ধরা হয়। তবে একবার প্রেসার বেশি আসলেই হাই প্রেসার আছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কয়েকবার সঠিকভাবে মাপার পর বিষয়টি বোঝা যায়।

প্রেসার যদি বারবার ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি আসে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আর প্রেসার ১৮০/১২০ mmHg-এর বেশি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এর সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টির সমস্যা থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে আগে ভয় না পেয়ে কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসুন। কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার সঠিকভাবে প্রেসার মাপুন। একবার বেশি প্রেসারের মাত্রা এলেই খুব চিন্তা করার দরকার নেই, কারণ দুশ্চিন্তা, ব্যস্ততা বা ভুলভাবে মাপার কারণেও প্রেসার সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

প্রেসার বারবার বেশি থাকলে নিজের মতো করে অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া বা কোনো ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর প্রেসার ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি হলে আবার মেপেও একই থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার। এর সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দুর্বলতা বা দৃষ্টির সমস্যা হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

সঠিকভাবে প্রেসার মাপার নিয়ম

প্রেসার মাপার আগে অন্তত ৫ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকুন। প্রেসার মাপার আগের ৩০ মিনিটে চা-কফি পান করা, ধূমপান বা ব্যায়াম না করাই ভালো। মাপার সময় চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন, পিঠ চেয়ারে ঠেকিয়ে রাখুন এবং দুই পা মেঝেতে রাখুন। হাতটা টেবিলের ওপর এমনভাবে রাখুন যেন কাফ পরানো বাহু হৃদপিণ্ডের সমান উচ্চতায় থাকে। কাফটি জামার ওপর না দিয়ে খালি বাহুতে ঠিকভাবে লাগিয়ে প্রেসার মাপুন।

প্রেসার মাপার সময় কথা বলা বা নড়াচড়া করা এড়িয়ে চলুন। একবার প্রেসার বেশি দেখালেই সঙ্গে সঙ্গে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। কয়েক মিনিট শান্ত হয়ে থেকে আবার মাপতে পারেন। একই নিয়ম মেনে কয়েকবার প্রেসার মাপলে প্রেসারের মাত্রার মধ্যে পার্থক্য বোঝা সহজ হয়। বাড়িতে নিয়মিত প্রেসার মাপলে তারিখ ও সময়সহ প্রেসারের মাত্রা লিখে রাখুন। এতে রক্তচাপের পরিবর্তন বুঝতে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সময় আগের তথ্য জানাতে সুবিধা হবে।
কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসে থাকুন
হাই প্রেসার নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে শরীর আরও অস্থির হয়ে যেতে পারে। তাই প্রেসার বেশি দেখলে কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসে থাকুন এবং নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন। তাড়াহুড়া করে হাঁটাহাঁটি করা বা সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের ঘরোয়া উপায় চেষ্টা করার দরকার নেই।

চুপচাপ আরাম করে বসে থাকলে শরীর কিছুটা স্থির হওয়ার সুযোগ পায়। এ সময় ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে শান্ত হয়ে বসে থাকাকে হাই প্রেসারের চিকিৎসা বা দ্রুত প্রেসার কমানোর নিশ্চিত উপায় মনে করা ঠিক নয়।

এইভাবে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া মূলত অস্থিরতা কমাতে এবং পরে আবার সঠিকভাবে প্রেসার মাপতে সাহায্য করতে পারে। যদি নিয়মিত প্রেসার বেশি থাকে তাহলে কেন প্রেসার বারবার বাড়ছে সেটা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

লবণ খাওয়া কমানোর অভ্যাস করুন

খাবারে বেশি লবণ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই হাই প্রেসার থাকলে প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন। রান্নায় আগের চেয়ে একটু কম লবণ ব্যবহার করতে পারেন। খাবার টেবিলে আলাদা করে লবণ নিয়ে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটাও ধীরে ধীরে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।

অনেকেই মনে করেন শুধু রান্নার লবণ কমালেই হয়। আসলে প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত অনেক খাবারেও বেশ পরিমাণে লবণ বা সোডিয়াম থাকতে পারে। যেমনঃ চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্যুপ ও কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার। এসব খাবার নিয়মিত বেশি খেলে অজান্তেই শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সোডিয়াম চলে যেতে পারে। তাই খাবার কেনার সময় প্যাকেটের লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়ার অভ্যাস করাও ভালো।

তবে লবণ একেবারে বাদ দেওয়ার দরকার নেই। শরীরের জন্য কিছু পরিমাণ সোডিয়াম দরকার, কিন্তু বেশি লবণ খাওয়ার অভ্যাস ঠিক নয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। একদিন লবণ কম খেলেই প্রেসার দ্রুত কমে যাবে এমন নয়। নিয়মিতভাবে লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

প্যাকেটজাত ও বেশি লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন

হাই প্রেসার থাকলে প্যাকেটজাত ও বেশি লবণযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এসব খাবারে স্বাদের জন্য বাড়তি লবণ বা সোডিয়াম থাকতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা করতে পারে।

চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্যুপ, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ অনেক খাবারে লবণ বেশি থাকতে পারে। তাই বাইরে থেকে খাবার কেনার সময় শুধু স্বাদ দেখে কিনবেন না,\ খাবারটিতে কতটা লবণ বা সোডিয়াম আছে সেটাও খেয়াল করা ভালো। প্যাকেটজাত খাবার হলে লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

সব প্যাকেটজাত খাবার যে একই রকম, তা নয়। তবে যেসব খাবারে লবণ বেশি থাকে সেগুলো নিয়মিত খাওয়ার বদলে তাজা ও কম লবণযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। এতে প্রতিদিনের খাবার থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম কমানো সহজ হবে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করাও সহজ হবে।

শাকসবজি ও ফলমূল খাবারে রাখুন

হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফলমূল রাখার চেষ্টা করুন। এসব খাবারে পটাশিয়াম, ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে শুধু এক ধরনের সবজি না রেখে বিভিন্ন ধরনের সবজি রাখার অভ্যাস করুন।

পালং শাক, লাল শাক, লাউ, পেঁপে, গাজর, টমেটোসহ নানা ধরনের সবজি খেতে পারেন। পাশাপাশি মৌসুমি ফলও খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। ফলের জুসের বদলে পুরো ফল খাওয়া ভালো কারণ পুরো ফলে ফাইবারও পাওয়া যায়। একসঙ্গে অনেক ফল খাওয়ার চেয়ে পরিমাণ ঠিক রেখে বিভিন্ন ধরনের ফল পালা করে খেতে পারেন।

তবে শুধু শাকসবজি ও ফলমূল খেলেই হাই প্রেসার দ্রুত কমে যাবে এমন নয়। খাবারে লবণ কম রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যান্য অভ্যাসও ধরে রাখা দরকার। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি ও ফলমূল রাখলে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস তৈরি করতে সুবিধা হবে।

নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা করুন

হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করার অভ্যাস করা ভালো। প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। যারা একদম ব্যায়াম করেন না, তারা শুরুতে অল্প সময় হাঁটা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।

দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। সপ্তাহে মোটামুটি ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অনেকদিন শরীরচর্চা না করলে হঠাৎ করে বেশি পরিশ্রম না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাই ভালো।

নিয়মিত হাঁটাচলা করলেই হাই প্রেসার সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে এমন নয়। এটি নিয়মিত জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। হাঁটার পাশাপাশি খাবারে লবণ কম রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও ধরে রাখার চেষ্টা করুন।

ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন

হাই প্রেসার থাকলে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ছাড়ার চেষ্টা করুন। সিগারেটের নিকোটিন সাময়িকভাবে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়াতে পারে। নিয়মিত ধূমপান হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালীর ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু প্রেসার কমানোর জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও ধূমপান থেকে দূরে থাকা ভালো।

চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ও অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভালো। ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য রক্তচাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে প্রেসার মাপার ঠিক আগে চা বা কফি পান করলে প্রেসারের মাত্রা কিছুটা বেশি আসতে পারে। তাই প্রেসার মাপার আগে কিছুক্ষণ ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব একরকম হয় না। তাই দিনে অনেক কাপ চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন। ধূমপান বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস রাখলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে কমান

ওজন বেশি থাকলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। এর জন্য না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ করে খুব কম খাবার খাওয়ার দরকার নেই। খাবারের পরিমাণ ও ধরন ঠিক রাখুন এবং নিয়মিত হাঁটাচলা করার অভ্যাস করুন। এতে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হতে পারে।

ওজন কমানোর সময় শাকসবজি, ফলমূল, পরিমিত ভাত বা রুটি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখতে পারেন। অতিরিক্ত তেল, লবণ, মিষ্টি ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

ওজন কিছুটা কমলে অনেকের রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হতে পারে। তবে কতটা ওজন কমানো দরকার সেটা সবার জন্য এক নয়। তাই নিজের শরীরের অবস্থা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

বেশি দুশ্চিন্তা, টেনশন বা মানসিক চাপ থাকলে কিছু সময়ের জন্য রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই হাই প্রেসার থাকলে নিজের মানসিক চাপও কমানোর চেষ্টা করুন। সব সময় চিন্তা করতে থাকলে শরীর ও মন দুটোই অস্থির হয়ে পড়ে, তাই দিনের মধ্যে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা ভালো।

মন ভালো রাখতে পছন্দের কাজ করতে পারেন, পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটতে পারেন বা অবসর সময়ে গান শুনতে পারেন। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস ছাড়ার মতো সহজ কিছু অভ্যাসও মনকে কিছুটা শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু মানসিক চাপ কমালেই হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এমন নয়। নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, হাঁটাচলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শও মেনে চলতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থাকলে সেটার কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়াও ভালো।

প্রেসারের ওষুধ নিজের মতো বন্ধ করবেন না

হাই প্রেসারের জন্য চিকিৎসক ওষুধ দিলে নিজের ইচ্ছায় সেটা বন্ধ করা ঠিক নয়। ওষুধ খাওয়ার পর প্রেসার স্বাভাবিক হয়ে এলেও এর মানে এই নয় যে এখন আর ওষুধের প্রয়োজন নেই। নিজের মতো করে ওষুধ বন্ধ করলে আবার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই কয়েকদিন প্রেসার ভালো থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

অনেকে প্রেসার স্বাভাবিক দেখলে মনে করেন ওষুধ আর খাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু কতদিন ওষুধ খেতে হবে, ডোজ কমানো যাবে কি না বা কোনো ওষুধ পরিবর্তন করা দরকার কি না এসব বিষয় সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। তাই নিয়মিত প্রেসার স্বাভাবিক থাকলে বা ওষুধ নিয়ে কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

ওষুধ খাওয়ার পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে, কোনো ডোজ খেতে ভুলে গেলে বা ওষুধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সমস্যা হলে নিজের মতো করে ডোজ কমানো বা বাড়ানো ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত প্রেসার মাপা এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

কোন ঘরোয়া উপায় নিয়ে সতর্ক থাকবেন

হাই প্রেসার হলে অনেকেই দ্রুত প্রেসার কমানোর জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকা চেষ্টা করেন। কিন্তু সব ঘরোয়া উপায় যে নিরাপদ বা কাজের, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে কোনো খাবার, পানীয়, ভেষজ বা গাছের পাতা খেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রেসার কমে যাবে এ ধরনের দাবির পেছনে সবসময় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকে না।

লেবুর পানি, রসুন, বিভিন্ন ভেষজ বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপায়কে প্রেসারের ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। কোনো কিছু খাওয়ার পর প্রেসার কমে গেলেও সেটার কারণ যে ওই খাবার বা টোটকাই, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবার কিছু ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট প্রেসারের ওষুধের সঙ্গে সমস্যা করতে পারে।

হাই প্রেসার থাকলে নতুন কোনো ঘরোয়া উপায় নিয়মিত শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বন্ধ করে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করবেন না। খাবারে লবণ কম রাখা, নিয়মিত হাঁটাচলা করা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলার দিকেই বেশি মন দেওয়া ভালো।

১৮০/১২০ হলে কখন দ্রুত চিকিৎসা নেবেন

রক্তচাপ ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি দেখালে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। তবে একবার এমন প্রেসারের মাত্রা এলেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কয়েক মিনিট শান্ত হয়ে বসে থেকে আবার সঠিক নিয়মে প্রেসার মাপুন। দ্বিতীয়বারও যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিন।

এর সঙ্গে যদি বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরের কোনো অংশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা বা দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন। এসব লক্ষণ থাকলে ঘরে বসে কোনো টোটকা ব্যবহার করে প্রেসার কমানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত প্রেসারের ওষুধ খাওয়া বা নিয়মিত ওষুধের ডোজ বাড়ানোও ঠিক নয়। প্রেসারের প্রেসারের মাত্রা কত এসেছে, কখন মাপা হয়েছে এবং কী কী উপসর্গ হচ্ছে এসব তথ্য চিকিৎসককে জানালে তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারবেন।

হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের অভ্যাস

হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু ভালো অভ্যাস ধরে রাখা দরকার। খাবারে লবণ কম রাখুন, শাকসবজি ও ফলমূল খান এবং নিয়মিত হাঁটাচলা বা শরীরচর্চা করার চেষ্টা করুন। ওজন বেশি থাকলে ধীরে ধীরে কমানো এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকাও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু প্রেসার বেড়ে গেলেই এসব অভ্যাস মেনে চললে হবে না। প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করুন। চা-কফি বেশি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পরিমাণ কমাতে পারেন এবং বেশি লবণযুক্ত বা প্যাকেটজাত খাবার কম খান। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর দিকেও খেয়াল রাখুন।

যারা নিয়মিত প্রেসারের ওষুধ খান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না। বাড়িতে প্রেসার মাপলে তারিখ ও সময়সহ প্রেসারের মাত্রা লিখে রাখার অভ্যাস করতে পারেন। খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম, ওষুধ এবং নিয়মিত প্রেসার মাপার বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

শেষ কথাঃদ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা থেকে আশা করি প্রেসার বেড়ে গেলে কী করা যায়, কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং কোন বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা দরকার এসব সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে ভয় না পেয়ে শান্ত থাকুন এবং সঠিক নিয়মে প্রেসার মাপুন। প্রেসারের মাত্রা বেশি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধু কোনো ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা করে প্রেসারের ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের খাবারে লবণ কমানো, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, নিয়মিত হাঁটাচলা করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার অভ্যাস করুন। প্রেসার নিয়মিত বেশি থাকলে বা খুব বেশি হয়ে গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url