হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞান সম্মত

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞান সম্মত এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় মানুষ। একদল বলেন আমি নিজে উপকার পেয়েছি আরেক দল বলেন এর পেছনে কোনো প্রমাণই নেই। এই দুই মতের মাঝে লুকিয়ে আছে আসল সত্য যা জানা প্রয়োজন প্রত্যেকের।

আপনি কি জানেন হোমিওপ্যাথির উপকার আসলে ওষুধ থেকে আসে নাকি অন্য কোনো রহস্যময় কারণ থেকে? এই লেখায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে সব প্রচলিত ভুল ধারণা সহজ, স্পষ্ট ও বিজ্ঞানভিত্তিক ভাষায়। পুরোটা পড়লেই মিলবে আপনার মনের প্রশ্নের সব উত্তর।

পোস্ট সূচিপত্রঃহোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞান সম্মত

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞান সম্মত

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে জানতে হবে, হোমিওপ্যাথি কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা হয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরির সময় মূল উপাদানকে অনেকবার পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় ওষুধ এতটাই পাতলা হয়ে যায় যে মূল উপাদানের খুব সামান্য পরিমাণ, এমনকি পরিমাপযোগ্য পরিমাণও নাও থাকতে পারে। এ কারণেই হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।

শুধু তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বিভিন্ন গবেষণাতেও হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা নিয়ে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার National Health and Medical Research Council (NHMRC) হোমিওপ্যাথি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি যে এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগে প্লাসিবোর চেয়ে বেশি কার্যকর। এ কারণে আধুনিক প্রমাণনির্ভর চিকিৎসাবিজ্ঞানে হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক সমর্থন নেই।

কেউ হোমিওপ্যাথি নিয়ে ভালো অনুভব করলে তার অভিজ্ঞতাকে মিথ্যা বলা ঠিক নয়। রোগের স্বাভাবিকভাবে ভালো হয়ে যাওয়া, প্লাসিবো ইফেক্ট কিংবা চিকিৎসার সময় পাওয়া মানসিক সমর্থন এসব কারণেও একজন মানুষ নিজের অবস্থার উন্নতি অনুভব করতে পারেন। তাই সহজভাবে বললে, হোমিওপ্যাথি একটি জনপ্রিয় চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও এর কার্যকারিতার পক্ষে বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কী?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা হলো এমন একটি বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি যেখানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ওষুধ তৈরি করা হয়। এই ওষুধ কখনো ছোট দানা, কখনো তরল বা ট্যাবলেটের আকারে পাওয়া যায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক মানুষ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে থাকেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকার পাওয়ার কথাও জানান।

প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে হোমিওপ্যাথির পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। এখানে রোগের নামের পাশাপাশি রোগীর লক্ষণ, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এটি আসলে কতটা কার্যকর সেটি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতার পক্ষে যথেষ্ট শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই গুরুতর বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমস্যায় শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর না করে একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

হোমিওপ্যাথি কীভাবে কাজ করে বলে মনে করা হয়?

হোমিওপ্যাথির ধারণা অনুযায়ী, শরীরে যে ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়, সেগুলোর মতো লক্ষণ তৈরি করতে পারে এমন কোনো উপাদান খুব অল্প মাত্রায় ব্যবহার করলে শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতা সক্রিয় হতে পারে। সহজ করে বললে, যে উপাদান বেশি পরিমাণে একজন সুস্থ মানুষের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ তৈরি করতে পারে, সেটিকেই বিশেষভাবে পাতলা করে ওষুধ হিসেবে দেওয়া হয়। হোমিওপ্যাথিতে এটিকে চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হিসেবে ধরা হয়।

এই পদ্ধতি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মত এক নয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শরীরে ঠিক কীভাবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে রোগ ভালো হয় কি না তা নিয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যথেষ্ট নয়। তাই কেউ হোমিওপ্যাথি নিয়ে উপকার অনুভব করলেও সেটিকে সরাসরি ওষুধের কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রমাণিত চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করাও ঠিক নয়।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধে আসলে কী থাকে?

হোমিওপ্যাথির ধারণা অনুযায়ী পুরো চিকিৎসাপদ্ধতিটা একটি বিশেষ নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যে উপাদান সুস্থ মানুষের শরীরে বেশি মাত্রায় নিলে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ তৈরি করতে পারে সেই একই উপাদান খুব অল্প ও পাতলা মাত্রায় দিলে অসুস্থ শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতাকে সক্রিয় করতে পারে বলে মনে করা হয়। এই ধারণাকেই হোমিওপ্যাথির অন্যতম প্রধান মূলনীতি হিসেবে ধরা হয় এবং এর ভিত্তিতেই রোগীর জন্য ওষুধ বেছে নেওয়া হয়।

তবে এই ধারণা নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শরীরে ঠিক কীভাবে কাজ করে এবং সত্যিই রোগ সারাতে পারে কি না এসব বিষয়ে এখনো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই কেউ হোমিওপ্যাথি নিয়ে ভালো অনুভব করলেও সেটিকে সরাসরি ওষুধের কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রমাণিত চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথির মধ্যে পার্থক্য

হোমিওপ্যাথি আর অ্যালোপ্যাথি আসলে দুইভাবে চিকিৎসা করে। হোমিওপ্যাথিতে রোগীর কী কী সমস্যা হচ্ছে, কী ধরনের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে এবং শরীরের অবস্থা কেমন এসব দেখে ওষুধ দেওয়া হয়। অন্যদিকে অ্যালোপ্যাথিতে রোগটা কী কারণে হয়েছে, সেটা বোঝার জন্য প্রয়োজন হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর রোগ অনুযায়ী ওষুধ, চিকিৎসা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কোন চিকিৎসা কতটা কাজ করে, সেটা নিয়েও পার্থক্য আছে। অ্যালোপ্যাথির অনেক ওষুধ ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে অনেক রোগে এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই শুধু পরিচিত কারও অভিজ্ঞতা বা কথার ওপর ভরসা না করে নিজের রোগের ধরন বুঝে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

হোমিওপ্যাথি নিয়ে বিজ্ঞানীরা কী বলেন?

হোমিওপ্যাথি নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভালো মানের গবেষণায় এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে হোমিওপ্যাথি কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় সত্যিই কার্যকর। যুক্তরাজ্যের NHS-ও জানায়, কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় হোমিওপ্যাথি কাজ করে এমন ভালো মানের প্রমাণ নেই।

হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা বোঝার সময় শুধু কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করা ঠিক নয়। কেউ হোমিওপ্যাথি খেয়ে ভালো অনুভব করতে পারেন, কিন্তু এর মানেই যে ওষুধটি রোগ সারিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। রোগ নিজে থেকেই কিছুটা ভালো হওয়া বা প্লাসিবো ইফেক্টের কারণেও এমন অনুভূতি হতে পারে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া গবেষণার ফল অনুযায়ী, হোমিওপ্যাথিকে কোনো রোগের প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রমাণিত চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়।

কোন কোন রোগে হোমিওপ্যাথি বেশি ব্যবহার করা হয়?

মানুষ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করে থাকেন। যেমন সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, হাঁপানি, মাথাব্যথা, ত্বকের সমস্যা, জয়েন্টের ব্যথা, হজমের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা ও দুশ্চিন্তার মতো সমস্যায় অনেকে হোমিওপ্যাথির কাছে যান।

দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও অনেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন। ত্বকের সমস্যা, নারীস্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, কান-নাক-গলার সমস্যা, হাঁপানি এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির সমস্যার ক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

কোনো রোগে হোমিওপ্যাথি বেশি ব্যবহার করা হয় মানেই যে সেই রোগে এটি কাজ করে এমন নয়। এখন পর্যন্ত ভালো মানের গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি কার্যকর এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই অসুস্থ হলে রোগ অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

হোমিওপ্যাথি কি সব রোগ ভালো করতে পারে?

না, হোমিওপ্যাথি সব রোগ ভালো করতে পারে এমন প্রমাণ নেই। অনেক মানুষ বিভিন্ন অসুস্থতার জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন এবং কেউ কেউ এতে ভালো লাগার কথাও বলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলা যায় না যে হোমিওপ্যাথি সব ধরনের রোগ সারাতে পারে।

বিশেষ করে ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, গুরুতর সংক্রমণ, স্ট্রোক বা অন্য কোনো জটিল রোগ হলে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর ভরসা করা ঠিক নয়। এসব রোগে সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে। তাই রোগের ধরন অনুযায়ী প্রমাণিত চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

হোমিওপ্যাথি নিয়ে এখন পর্যন্ত ভালো মানের গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট রোগ সারানোর মতো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই কোনো রোগ হলে শুধু পরিচিত মানুষের কথা বা নিজের আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কি?

অনেকে মনে করেন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খুব পাতলা করে তৈরি করা হয়, তাই এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। কিন্তু সব হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে এমনটা বলা ঠিক নয়। অনেক বেশি পাতলা করা কিছু ওষুধে মূল উপাদানের পরিমাণ খুব কম থাকতে পারে। আবার কিছু পণ্যে এমন উপাদান থাকতে পারে, যা শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বা অন্য ওষুধের সঙ্গে সমস্যা করতে পারে।

ওষুধ তৈরির সময় কোনো ভুল হলে বা এতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু মিশে গেলে শরীরে সমস্যা হতে পারে। আবার হোমিওপ্যাথির ওপর ভরসা করে কেউ যদি ডাক্তারের পরামর্শে চলা চিকিৎসা বন্ধ করে দেন, তাহলে রোগের সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। তাই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়ার আগে, বিশেষ করে অন্য কোনো ওষুধ চললে, চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে বিষয়টি জানানো ভালো।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ মানেই একেবারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো ওষুধ খাওয়ার পর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে চালিয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

গুরুতর রোগে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করা কি ঠিক?

গুরুতর কোনো রোগ হলে শুধু হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। ক্যানসার, স্ট্রোক, গুরুতর সংক্রমণ, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দরকার হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে প্রমাণিত চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধু হোমিওপ্যাথি নিতে থাকলে সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। এতে রোগের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হোমিওপ্যাথি নিয়ে এখন পর্যন্ত ভালো মানের গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় এটি কার্যকর এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই কেউ হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করতে চাইলে সেটিকে প্রমাণিত চিকিৎসার বদলে ব্যবহার করা উচিত নয়। চলমান কোনো চিকিৎসা নিজে থেকে বন্ধ বা পরিবর্তন না করে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

বিশেষ করে গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া দরকার। হোমিওপ্যাথি নিতে চাইলে সেটি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেওয়ার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে কিছু বিষয় জানা দরকার। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি কার্যকর এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই শুধু কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা পরিচিত মানুষের কথার ওপর ভরসা করে চিকিৎসা শুরু করা ঠিক নয়।

আপনি যদি আগে থেকেই কোনো রোগের ওষুধ খান তাহলে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানানো ভালো। কারণ কিছু হোমিওপ্যাথিক পণ্যে সক্রিয় উপাদান থাকতে পারে, যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য ওষুধের সঙ্গে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

হোমিওপ্যাথি নিতে গিয়ে নিজের চলমান চিকিৎসা বন্ধ করা বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন করা ঠিক নয়। বিশেষ করে গুরুতর কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসা নিতে দেরি করলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নতুন কোনো চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগের ধরন, ওষুধের উপাদান এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।

হোমিওপ্যাথি নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

হোমিওপ্যাথি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এর কিছু মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে, আবার কিছু কথার পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই প্রচলিত কথা আর গবেষণায় পাওয়া তথ্য দুটোকে আলাদা করে দেখা দরকার।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ মানেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এটা ঠিক নয়। অনেক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খুব বেশি পাতলা করা হলেও সব পণ্যের ধরন এক নয়। কিছু পণ্যে সক্রিয় উপাদান থাকতে পারে এবং সেগুলো থেকে সমস্যা হতে পারে।

হোমিওপ্যাথি সব রোগ সারাতে পারে এমন প্রমাণও নেই। এখন পর্যন্ত ভালো মানের গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি কার্যকর এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরেকটি ভুল ধারণা হলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হলে সেটি সব সময় নিরাপদ। কোনো কিছু প্রাকৃতিক উৎস থেকে এলেই যে তা আপনার জন্য নিরাপদ হবে, এমন নয়। কী দিয়ে তৈরি, কতটা আছে এবং কীভাবে তৈরি হয়েছে এসব বিষয়ও জানা দরকার।

আবার আপনি হোমিওপ্যাথি খেয়ে ভালো অনুভব করলেই ওষুধটি রোগ সারিয়েছে এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। রোগের স্বাভাবিক উন্নতি বা প্লাসিবো ইফেক্টের কারণেও আপনার ভালো লাগতে পারে।

তাই হোমিওপ্যাথি নিয়ে ভাবার সময় শুধু প্রচলিত কথা বা কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

শেষ কথাঃহোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞান সম্মত

অসুস্থ হলে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা সবারই থাকে। অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা, পরিবারের কথা বা পরিচিত মানুষের পরামর্শে হোমিওপ্যাথির দিকে যান। কারও ভালো লাগার অভিজ্ঞতাকে ছোট করে দেখার দরকার নেই। তবে চিকিৎসা নেওয়ার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা দরকার। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটুকু বিজ্ঞান সম্মত তা বুঝতে হলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলও দেখা উচিত।

আপনি হোমিওপ্যাথি নিতে চাইলে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিন এবং চলমান চিকিৎসা নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করবেন না। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে প্রমাণিত চিকিৎসা নেওয়া দরকার। চিকিৎসার ধরন যেটাই হোক, আপনার সুস্থতা ও নিরাপত্তাই যেন সবার আগে থাকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url