নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ না পাওয়ার ০৮টি প্রকৃত কারণ
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ না পাওয়ার ০৮টি প্রকৃত কারণ জানলে অনেক অজানা ভুল আপনার চোখে পড়বে। কাজ শিখেও কেন বায়ার পাওয়া কঠিন হয়, কীভাবে সেই বাধা দূর করে ধীরে ধীরে সফল হওয়া যায়, তা এই লেখায় সহজভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এই লেখায় প্রোফাইল, পোর্টফোলিও, প্রপোজাল এবং কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোথায় ভুল হয় এবং কীভাবে সেগুলো ঠিক করে ধীরে ধীরে কাজ পাওয়া শুরু করা যায় তা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপনি যদি নতুন ফ্রিল্যান্সার হন তাহলে এই গাইডটি আপনার কাজ পাওয়ার পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।
পোস্ট সূচীপত্রঃনতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ না পাওয়ার ০৮টি প্রকৃত কারণ
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ না পাওয়ার ০৮টি প্রকৃত কারণ
- কাজ শিখেও কেন অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার কাজ পান না?
- প্রোফাইল সম্পূর্ণ ও আকর্ষণীয় না হওয়া
- স্কিলের সঙ্গে মিল না থাকা গিগ বা সার্ভিস তৈরি করা
- বায়ারের চাহিদা না বুঝে প্রপোজাল পাঠানো
- পোর্টফোলিও না থাকা বা দুর্বল পোর্টফোলিও ব্যবহার করা
- কমিউনিকেশন স্কিলের অভাব
- ধৈর্য হারিয়ে খুব দ্রুত ফল আশা করা
- মার্কেটপ্লেসের নিয়ম ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে না জানা
- নিজের দক্ষতা নিয়মিত উন্নত না করা
- কাজ না পেলে কী করবেন?
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ না পাওয়ার ০৮টি প্রকৃত কারণ
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ না পাওয়ার ০৮টি প্রকৃত কারণ অনেকেই শুরুতে বুঝতে
পারেন না। অনেকে স্কিল শেখার পর মনে করেন এখনই কাজ আসতে শুরু করবে, কিন্তু
বাস্তবতা একটু আলাদা। ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুধু স্কিল জানলেই কাজ পাওয়া যায় না, এর
সঙ্গে নিজের প্রেজেন্টেশন, কমিউনিকেশন আর সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করাও খুব
জরুরি। এই বিষয়গুলো ঠিক না থাকলে ভালো স্কিল থাকা সত্ত্বেও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে
যায়।
অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার প্রোফাইল ঠিকভাবে তৈরি করেন না। প্রোফাইলই হলো বায়ারের
কাছে আপনার প্রথম পরিচয়। এখানে যদি পরিষ্কারভাবে না বোঝানো হয় আপনি কী পারেন,
কী ধরনের কাজ করেন এবং কেন আপনাকে বেছে নেওয়া উচিত, তাহলে বায়ার আগ্রহ হারিয়ে
ফেলে। অনেক সময় দেখা যায় ভালো স্কিল থাকা সত্ত্বেও শুধু দুর্বল প্রোফাইলের
কারণে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
পোর্টফোলিও এবং প্রপোজালও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। অনেকেই কাজ
ছাড়াই সাধারণভাবে প্রপোজাল পাঠান বা কপি-পেস্ট করে দেন, যেটা একদম প্রফেশনাল
মনে হয় না। আবার অনেকের কোনো পোর্টফোলিওই থাকে না, ফলে তারা নিজের কাজের দক্ষতা
প্রমাণ করতে পারেন না। বায়ার তখন বুঝতে পারে না আপনি আসলে কতটা ভালো কাজ করতে
পারেন, আর সেখানেই বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়।
এছাড়া ধৈর্য না থাকা, ঠিকভাবে কমিউনিকেশন না করা এবং মার্কেটপ্লেস কীভাবে কাজ
করে সেটা না বোঝাও বড় সমস্যা। অনেকেই কয়েকদিন চেষ্টা করেই হতাশ হয়ে পড়ে বা হাল
ছেড়ে দেয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়।
নিয়মিত চেষ্টা, সঠিকভাবে কাজ উপস্থাপন এবং নিজের স্কিল উন্নত করতে পারলে ধীরে
ধীরে কাজ পাওয়া শুরু হয় এবং সফলতা আসা সম্ভব হয়।
কাজ শিখেও কেন অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার কাজ পান না?
কাজ শিখেও কেন অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার কাজ পান না এটা অনেকেরই শুরুতে একটা বড়
প্রশ্ন। অনেকে মনে করেন শুধু কোনো স্কিল শিখে ফেললেই কাজ পাওয়া সহজ হবে, কিন্তু
বাস্তবতা একটু ভিন্ন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুধু কাজ জানা নয়, সেই কাজটা কিভাবে
উপস্থাপন করা হচ্ছে, বায়ারের কাছে কিভাবে নিজেকে তুলে ধরা হচ্ছে এগুলোও সমান
গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভালো স্কিল থাকা সত্ত্বেও শুধু উপস্থাপনার দুর্বলতার
কারণে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার প্রোফাইল, পোর্টফোলিও আর প্রপোজাল ঠিকভাবে তৈরি করেন
না। প্রোফাইল যদি পরিষ্কার না হয়, তাহলে বায়ার বুঝতেই পারে না আপনি কী করতে
পারেন বা কেন আপনাকে বেছে নেবে। আবার অনেকেই কপি-পেস্ট করে প্রপোজাল পাঠান বা
কাজের কোনো বাস্তব নমুনা দেখাতে পারেন না। এতে বায়ারের ভরসা তৈরি হয় না এবং
সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
আরেকটা বড় সমস্যা হলো শুরুতে ভুলভাবে এগোনো। অনেকেই কাজ পাওয়ার জন্য খুব
তাড়াহুড়া করেন, কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের প্রোফাইল শক্ত করা, বায়ারের চাহিদা বোঝা
এবং মার্কেটপ্লেস কীভাবে কাজ করে সেটা শেখার দিকে মনোযোগ দেন না। আবার কেউ কেউ
কয়েকদিন চেষ্টা করেই হতাশ হয়ে পড়েন। এই জায়গাগুলো ঠিকভাবে বুঝে ধৈর্য ধরে এগোতে
পারলে ধীরে ধীরে কাজ পাওয়া শুরু হয় এবং সফলতা পাওয়া সম্ভব হয়।
প্রোফাইল সম্পূর্ণ ও আকর্ষণীয় না হওয়া
প্রোফাইল সম্পূর্ণ ও আকর্ষণীয় না হওয়া নতুন ফ্রিল্যান্সারদের একটা সাধারণ
সমস্যা। অনেকেই শুধু নাম, কিছু স্কিল আর সাধারণ তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করেন,
কিন্তু এতে বায়ার ঠিকভাবে বুঝতে পারে না আপনি আসলে কী ধরনের কাজ পারেন বা আপনি
কতটা সিরিয়াস। ফলে ভালো স্কিল থাকলেও প্রোফাইল দুর্বল হওয়ার কারণে অনেক সময়
কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
এই সমস্যার সহজ সমাধান হলো প্রোফাইলটা একটু যত্ন নিয়ে পরিষ্কারভাবে সাজানো।
আপনি কী কী কাজ করতে পারেন, কোন ধরনের কাজ বেশি ভালো পারেন, আর আপনি বায়ারকে
কীভাবে সাহায্য করতে পারবেন এগুলো সহজ ভাষায় লিখতে হবে। এর সাথে যদি কিছু
কাজের নমুনা বা ছোট পোর্টফোলিও যোগ করা যায়, তাহলে বায়ারের ভরসা অনেক বেড়ে
যায়। প্রোফাইলের ছবি, শিরোনাম আর বর্ণনাও যেন একদম সহজ, পরিষ্কার এবং
বাস্তবভিত্তিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার আরেকটা ভুল করেন, তারা প্রোফাইল বানানোর পর আর সেটাকে
আপডেট করেন না। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে এটা আসলে খুব দরকারি একটা বিষয়, এটা
অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, আর এটা নতুনদের জন্য অনেক কাজে লাগে। নতুন কোনো
স্কিল শিখলে বা নতুন কোনো কাজ করলে সেটা প্রোফাইলে যোগ করতে হবে। এতে বায়ার
বুঝতে পারে আপনি শুধু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই, বরং নিজেকে নিয়মিত উন্নত করছেন।
স্কিলের সঙ্গে মিল না থাকা গিগ বা সার্ভিস তৈরি করা
স্কিলের সঙ্গে মিল না থাকা গিগ বা সার্ভিস তৈরি করা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের একটা
সাধারণ ভুল। অনেকেই যেটা পুরোপুরি ভালোভাবে পারেন না, সেটাও শুধু বেশি কাজ
পাওয়ার আশায় গিগ হিসেবে দিয়ে দেন। কিন্তু এতে সমস্যা হয় বায়ার যখন সেই সার্ভিস
দেখে, তখন সে বুঝতে পারে না আপনি আসলে কতটা দক্ষ বা বাস্তবে সেই কাজটা কতটা
ভালোভাবে করতে পারবেন। ফলে বিশ্বাস তৈরি হয় না এবং কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে
যায়।
আরো পড়ুনঃলোকাল এসইও দিয়ে কাস্টমার বাড়ানোর কৌশল
আসলে গিগ বা সার্ভিস বানানোর আগে নিজের স্কিলটা পরিষ্কারভাবে বোঝা খুব জরুরি।
আপনি কোন কাজটা ভালো পারেন, কোন কাজটা আত্মবিশ্বাসের সাথে ডেলিভারি করতে পারবেন
সেটার ওপরই গিগ তৈরি করা উচিত। যদি এমন কিছু অফার করেন যেটা আপনি ঠিকভাবে করতে
পারেন না, তাহলে কাজ পেলেও সেটা ঠিকভাবে শেষ করা কঠিন হয়ে যায় এবং রিভিউ খারাপ
হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই সবসময় নিজের স্কিলের সাথে মিল রেখে সার্ভিস তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো। ধীরে
ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে নতুন সার্ভিস যোগ করা যেতে পারে। এতে বায়ারের
কাছে আপনার একটা পরিষ্কার এবং প্রফেশনাল ইমেজ তৈরি হয়। ফলে কাজ পাওয়ার
সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া সহজ হয়।
বায়ারের চাহিদা না বুঝে প্রপোজাল পাঠানো
বায়ারের চাহিদা না বুঝে প্রপোজাল পাঠানো নতুন ফ্রিল্যান্সারদের একটা সাধারণ
ভুল। অনেকেই শুধু কাজ পাওয়ার আশায় একের পর এক প্রপোজাল পাঠিয়ে দেন, কিন্তু
বায়ার আসলে কী চাইছে সেটা ভালোভাবে না বুঝেই। এতে প্রপোজালটা বায়ারের সমস্যার
সাথে মেলে না, ফলে সেটার প্রতি কোনো আগ্রহ তৈরি হয় না এবং বেশিরভাগ সময় সেটি
এড়িয়ে যায়।
আসলে প্রতিটা বায়ারের কাজ আলাদা হয় এবং তাদের চাহিদাও ভিন্ন হয়। কেউ দ্রুত কাজ
চায়, কেউ নির্দিষ্ট স্টাইল চায়, আবার কেউ অভিজ্ঞতা বেশি থাকা ফ্রিল্যান্সার
খোঁজে। তাই প্রপোজাল পাঠানোর আগে ভালোভাবে জব পোস্টটা পড়া খুব জরুরি। বায়ার কী
সমস্যার সমাধান চাচ্ছে, কী ধরনের কাজ চাচ্ছে এগুলো বুঝে তারপর নিজের কথা সাজিয়ে
লিখতে হয়।
যখন আপনি বায়ারের চাহিদা বুঝে প্রপোজাল পাঠাবেন, তখন সেটি আরও পার্সোনাল এবং
কার্যকর হয়। এতে বায়ারের মনে হয় আপনি তার কাজটা সত্যিই বুঝেছেন এবং সাহায্য
করতে পারবেন। ফলে রিপ্লাই পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় এবং কাজ পাওয়াও সহজ
হয়ে যায়।
পোর্টফোলিও না থাকা বা দুর্বল পোর্টফোলিও ব্যবহার করা
পোর্টফোলিও না থাকা বা দুর্বল পোর্টফোলিও ব্যবহার করা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের
একটা সাধারণ সমস্যা। অনেকেই কাজ শিখে ফেললেও নিজের কাজ দেখানোর মতো শক্ত কোনো
উদাহরণ তৈরি করেন না। আবার কেউ কেউ অগোছালো বা অসম্পূর্ণভাবে পোর্টফোলিও বানান,
যেখানে তাদের আসল দক্ষতা ঠিকভাবে বোঝা যায় না। ফলে বায়ার যখন প্রোফাইল দেখে,
তখন তার কাছে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয় না আপনি আসলে কী ধরনের কাজ পারেন বা কতটা
মানসম্মত কাজ দিতে পারবেন।
আসলে পোর্টফোলিওই হলো আপনার কাজের বাস্তব প্রমাণ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে বায়ার শুধু
কথা শুনে কাউকে হায়ার করে না, সে আগে কাজের নমুনা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। আপনি কী
করতে পারেন, কতটা ভালোভাবে করতে পারেন এটা সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় আপনার
পোর্টফোলিও থেকে। যদি সেখানে স্পষ্টতা না থাকে বা মান ভালো না হয়, তাহলে ভালো
স্কিল থাকলেও অনেক সময় কাজ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
এই সমস্যার আসল সমাধান হলো নিজের কাজগুলো একটু সময় নিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করা।
খুব বেশি কাজ না থাকলেও সমস্যা নেই, কিন্তু যেগুলো আছে সেগুলো যেন পরিষ্কার,
মানসম্মত এবং সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। প্রতিটি কাজের সাথে ছোট করে সহজ ভাষায়
ব্যাখ্যা দিলে বায়ার বুঝতে পারে আপনি কীভাবে কাজ করেন এবং কী ফল দিতে পারেন।
এতে আপনার প্রতি আস্থা তৈরি হয় এবং কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
কমিউনিকেশন স্কিলের অভাব
কমিউনিকেশন স্কিলের অভাব নতুন ফ্রিল্যান্সারদের আরেকটা বড় সমস্যা। এটা অনেক সময়
কাজ পাওয়ার পথে একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ ঠিকভাবে কথা বলতে না পারলে
ক্লায়েন্টের সাথে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে এই ছোট ভুল
বোঝাবুঝিগুলোই অনেক সময় ভালো সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণ হয়ে যায়। ভালো কাজ জানা
থাকলেও সেটা যদি ঠিকভাবে বোঝানো না যায়, তাহলে বায়ারের মনে আস্থা তৈরি হয় না।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুধু কাজ জানা যথেষ্ট না, সেই কাজটা কিভাবে ক্লায়েন্টকে বোঝানো
হচ্ছে সেটাও খুব দরকারি একটা বিষয়। একজন ক্লায়েন্ট যখন কোনো প্রশ্ন করে, তখন
যদি পরিষ্কার, সহজ আর গুছানোভাবে উত্তর দেওয়া না যায়, তাহলে সে বিভ্রান্ত হয়ে
যায়। অনেক সময় দেখা যায় দেরিতে রিপ্লাই দেওয়া, অসম্পূর্ণ উত্তর দেওয়া বা
অপ্রয়োজনীয় জটিলভাবে কথা বলার কারণে ক্লায়েন্ট আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং অন্য
কাউকে বেছে নেয়।
এই সমস্যার সমাধান হলো ধীরে ধীরে নিজের কমিউনিকেশন স্কিল উন্নত করা। সহজ ভাষায়
কথা বলা, সময়মতো রিপ্লাই দেওয়া এবং ক্লায়েন্টকে পরিষ্কারভাবে সবকিছু বোঝানো খুব
গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে ক্লায়েন্ট কী জানতে চাইছে সেটা ভালোভাবে বুঝে তারপর
উত্তর দিতে হবে। এতে ধীরে ধীরে বিশ্বাস তৈরি হয় এবং কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক
বেড়ে যায়।
ধৈর্য হারিয়ে খুব দ্রুত ফল আশা করা
ধৈর্য হারিয়ে খুব দ্রুত ফল আশা করা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের একটা সাধারণ
সমস্যা। অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর মনে করেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই
কাজ পাওয়া শুরু হবে, কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। এখানে শুধু স্কিল শেখাই
যথেষ্ট না, নিজের প্রোফাইল তৈরি করা, বায়ারের কাছে বিশ্বাস তৈরি করা এবং কাজ
পাওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছানো সবকিছুই সময় নেয়। তাই শুরুতেই দ্রুত ফল না পেলে
অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং চেষ্টা কমিয়ে দেয় বা মাঝপথে থেমে যায়।
অনেক সময় দেখা যায়, নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ চেষ্টা করার
পরই ফল না দেখে দিশেহারা হয়ে যায়। তারা মনে করে হয়তো তাদের স্কিলে সমস্যা
আছে, কিন্তু আসলে সমস্যা হলো ধৈর্য আর ধারাবাহিকতার অভাব। ফ্রিল্যান্সিং এমন
একটা জায়গা যেখানে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, ভুল থেকে শেখা হয় এবং
প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করা লাগে। যারা এই সময়টা ধরে রাখতে পারে,
তারাই একসময় ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
তাই দ্রুত ফল পাওয়ার চিন্তা না করে নিজের স্কিল, প্রোফাইল এবং কাজ উপস্থাপনের
ওপর মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন চেষ্টা করা, নিজের ভুলগুলো ঠিক করা এবং
ধীরে ধীরে উন্নতি করা এই অভ্যাসগুলোই আসল পার্থক্য তৈরি করে। সময় নিয়ে
ধারাবাহিকভাবে এগোতে পারলে একসময় কাজ পাওয়া শুরু হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া
অনেক সহজ হয়ে যায়।
মার্কেটপ্লেসের নিয়ম ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে না জানা
ধৈর্য হারিয়ে খুব দ্রুত ফল আশা করা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের একটা সাধারণ
সমস্যা। অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর মনে করেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই
কাজ পাওয়া শুরু হবে, কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। এখানে শুধু স্কিল শেখাই
যথেষ্ট না, নিজের প্রোফাইল তৈরি করা, বায়ারের কাছে বিশ্বাস তৈরি করা এবং কাজ
পাওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছানো সবকিছুই সময় নেয়। তাই শুরুতেই দ্রুত ফল না পেলে
অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং চেষ্টা কমিয়ে দেয় বা মাঝপথে থেমে যায়।
অনেক সময় দেখা যায়, নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ চেষ্টা করার
পরই ফল না দেখে দিশেহারা হয়ে যায়। তারা মনে করে হয়তো তাদের স্কিলে সমস্যা
আছে, কিন্তু আসলে সমস্যা হলো ধৈর্য আর ধারাবাহিকতার অভাব। ফ্রিল্যান্সিং এমন
একটা জায়গা যেখানে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, ভুল থেকে শেখা হয় এবং
প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করা লাগে। যারা এই সময়টা ধরে রাখতে পারে,
তারাই একসময় ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
তাই দ্রুত ফল পাওয়ার চিন্তা না করে নিজের স্কিল, প্রোফাইল এবং কাজ উপস্থাপনের
ওপর মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন চেষ্টা করা, নিজের ভুলগুলো ঠিক করা এবং
ধীরে ধীরে উন্নতি করা এই অভ্যাসগুলোই আসল পার্থক্য তৈরি করে। সময় নিয়ে
ধারাবাহিকভাবে এগোতে পারলে একসময় কাজ পাওয়া শুরু হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া
অনেক সহজ হয়ে যায়।
নিজের দক্ষতা নিয়মিত উন্নত না করা
নিজের দক্ষতা নিয়মিত উন্নত না করা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের আরেকটা বড় সমস্যা।
অনেকেই একটা স্কিল শিখেই থেমে যান এবং মনে করেন এখন আর নতুন কিছু শেখার দরকার
নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়া সবসময় পরিবর্তন হচ্ছে নতুন
টুল, নতুন ট্রেন্ড আর নতুন কাজের চাহিদা প্রতিনিয়ত আসছে। তাই নিজেকে আপডেট না
রাখলে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
আসলে শুধু স্কিল শিখে থেমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। বায়ার
সবসময় এমন ফ্রিল্যান্সার খোঁজে যারা আপডেটেড এবং আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
আপনি যদি নিয়মিত নিজের স্কিল উন্নত করেন, নতুন কিছু শিখেন এবং পুরনো স্কিল
আরও শক্ত করেন, তাহলে আপনার কাজের মানও বাড়ে এবং বায়ারের কাছে আপনার গুরুত্বও
বেড়ে যায়। এতে কাজ পাওয়ার সুযোগও অনেক বেশি তৈরি হয়।
তাই সফল হতে চাইলে নিয়মিত শেখার অভ্যাস তৈরি করা খুব জরুরি। প্রতিদিন অল্প
অল্প করে শেখা, নতুন টুল ব্যবহার করা এবং নিজের কাজকে আরও উন্নত করার চেষ্টা
করলে ধীরে ধীরে ভালো সুযোগ আসতে শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে আপনার দক্ষতা
বাড়ে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়াও অনেক সহজ হয়ে যায়।
কাজ না পেলে কী করবেন?
কাজ না পেলে অনেকেই শুরুতে খুব হতাশ হয়ে পড়ে। মনে হয় হয়তো কোথাও বড় কোনো
সমস্যা আছে বা কাজ শিখেও কোনো লাভ হচ্ছে না। কিন্তু আসলে বিষয়টা এমন না।
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে প্রথম দিকে কাজ পাওয়া প্রায় সবার জন্যই কঠিন হয়, এটা
একদম স্বাভাবিক একটা ধাপ। এখানে ধৈর্য ধরে এগোতে হয়, কারণ শুরুতেই সবকিছু
একসাথে আসে না।
অনেক সময় সমস্যা থাকে নিজের প্রোফাইল এবং প্রেজেন্টেশনে। আপনি কী পারেন, কী
ধরনের কাজ করেন, আর বায়ারকে কীভাবে সাহায্য করতে পারেন এগুলো যদি
পরিষ্কারভাবে না থাকে, তাহলে বায়ার বুঝতেই পারে না আপনাকে কেন হায়ার করবে।
প্রোফাইল যদি অগোছালো বা অসম্পূর্ণ হয়, তাহলে ভালো স্কিল থাকলেও সেটা কাজে
লাগে না। তাই প্রোফাইলটা গুছিয়ে, সহজভাবে এবং পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা খুব
জরুরি।
আরেকটা বড় বিষয় হলো কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও। বায়ার সবসময় আগে দেখে আপনি কী
কাজ করেছেন এবং কতটা ভালোভাবে করতে পারেন। যদি দেখানোর মতো কিছু না থাকে,
তাহলে তার মনে বিশ্বাস তৈরি হয় না। তাই ছোট ছোট কাজ হলেও সেগুলো সুন্দরভাবে
সাজিয়ে দেখানো দরকার, যাতে আপনার দক্ষতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় এবং বায়ারের
আস্থা তৈরি হয়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
আপনি যদি এই কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারেন, তাহলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ধীরে ধীরে ভালো
ফল পাওয়া শুরু হবে। নিজের প্রোফাইল সুন্দরভাবে সাজানো, পোর্টফোলিও গুছিয়ে রাখা,
ক্লায়েন্টের সাথে পরিষ্কার ও ভদ্রভাবে কথা বলা এবং নিয়মিত নিজের স্কিল উন্নত
করা। এই বিষয়গুলো ঠিক থাকলে কাজ পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। শুরুতে একটু সময়
লাগতে পারে, কিন্তু ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে ধীরে ধীরে কাজ আসতে শুরু করবে। নিয়মিত
চেষ্টা চালিয়ে গেলে একসময় সফলতা পাওয়া শুরু হবে এবং আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন,
আপনার মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।



অ্যাডভেরা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url